শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭



 সর্বধর্মের উদ্দেশ্য একটাই
    ~~~~~~~~~~~~~~~
ধর্ম বলতে যা বোঝায়: সেই বিখ্যাত ধর্মগুলোর উদ্দেশ্য একটিই, দ্বিতীয় কোন উদ্দেশ্য নাই। সেই একমাত্র উদ্দেশ্যটি যদি জানা না থাকে তাহলে ধর্মের সাগরের পাড়কূল পাওয়া যায় না। বিচিত্র রংঢং আর শৈলীর অবগুণ্ঠনে ধর্মের আসল বিষয়টি ঢেকে যায়।
     
ধর্মের সেই একমাত্র বিষয়টি হলো: আল্লাহ্কে পাওয়া, খোদাকে পাওয়া, গডকে পাওয়া, নারায়ণকে পাওয়া, জিহোবাকে পাওয়া, পরমকে পাওয়া। এই আল্লাহ্কে পাওয়ার বিষয়টি কী করে জানব? কী করে বুঝতে পারব? এই একমাত্র বিষয়টি বুঝতে হলে, জানতে হলে আপন দেহের মধ্যেই পাইতে হবে। দেহের বাহিরে যারা আল্লাহ্ পাবার আশা করে তারা আল্লাহ্ কখনও পাই না এবং পাবার বিধানটিও রাখা হয় নি। এই আপন দেহটি মিমের জিকির, সব রহস্যের পাত্র। লা'মোকামে প্রবেশ করার বোরাক হলো এই দেহটি এবং সব রকম রহস্যের
ভান্ডটিও এই দেহটি। এই দেহটির ভিতরে  হৃদয়টি আছে, সেই হৃদয়ের মাঝে নফ্স আছে তথা আমি আছি এবং আমার সঙ্গে খান্নাসরূপী শয়তানটিও আছে। এই খান্নাসরূপী শয়তানকে নিয়ন্ত্রণে আনা, তথা তাড়িয়ে দেওয়া, তথা মুসলমান বানিয়ে ফেলাটাই হলো ধর্মের একমাত্র সাধনা।
       
এই সাধনায়  যারা কামিয়াব হতে পেরেছেন তারাই আল্লাহর পরিচয়টি জানতে পেরেছেন। তাই কোরান বলছে, "তুমি একা হয়ে আমাকে ডাক, ডাকের জবাব সঙ্গে সঙ্গে পাবে।" আরবিতে বলা হয় 'উদুনি আস্তা জেবলাকুম'। একমাত্র মূল বিষয়টি একদম সোজাসুজি বলা হয়েছে সুরা মোমিনের ষাট নম্বর আয়াতে।
     
এই খান্নাসরূপী শয়তানটিকে আপন নফস হতে তাড়িয়ে দেওয়ার কৌশলটি অনেক রকম। মূল বিষয় একটি কিন্তু প্রয়োগ পদ্ধতি অনেক রকম। যখন একজন সাধক খান্নাসরূপী শয়তানটিকে তাড়িয়ে দিতে পারে তখন সে সাধক বহু ভাষায়, বহু ছন্দে, বহু শৈলীতে বলে ফেলেন, আমিই আমার পীর, আমিই আমার মুরিদ। কেউ বলে ফেলেন এক বিনে দ্বিতীয় নাই, কেউ বলেন এই এক-কে খন্ডন করা যায় না। সাধক যখন খান্নাসরূপী শয়তানটিকে তাড়িয়ে দিয়ে কামিয়াব হতে পারেন তখনই বলে ফেলেন- আনাল হক, লাইসা ফি জুব্বাতি সেওয়া আল্লাহ তায়ালা, আনা সোবাহানি মা আজামুশশানি, সোহ্হম সোহমি, মদং ব্রহ্মা, আনাহু হু'আল আনা, মুই তুই- তুই মুই ইত্যাদি অনেক রকম ভাষায়।

নিবেদক-
 কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল    ইবনে হেলাল গোলামে শাহ্ জালাল নূরী আল সুরেশ্বরী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন