শনিবার, ৮ জুলাই, ২০১৭

নফ্স ও রুহের পার্থক্য - ৮

পৃথিবীতে এই প্রথম নফস ও রূহের বিস্ময়কর ব্যাখ্যা:

সারাটি  জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই।  এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।

               ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

নকশেবন্দি- মুজাদ্দেদি তরিকা, চিশতিয়া-কাদেরিয়া তরিকা, আবু - উলাই তরিকা, কালান্দারিয়া তরিকার শান গেয়েই গেলেন , শান না গাইলেও কিছু আসে যায় না। প্রশ্ন হলো? আপনি তো তিন নম্বর ছাগলের বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে শুধু লাফালাফিই করেই গেলেন।
                ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

 আমার পীর বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীরের সঙ্গে অন্য পীরের তুলনা করাই যায় না। কারণ, কোরানে ২১ বার রুহ বিষয়ে বলা হয়েছে, এবং এই ২১ বারই একবচনে বলা হয়েছে রুহের বহুবচন নাই । রুহ ফুৎকার করা হয়– নফস নয় । এই বিষয়ে অবাক করা ব্যাখ্যাটি সমগ্র পৃথিবীতে আমার বাবাই দিয়ে গেছেন। কথাটি শুনতে ভাল লাগবে না, কিন্তু আসলে ইহা একটি তিক্ত সত্য কথা।  আমার পীর বাবার পঁচিশটি বই কোরানের পনের পারার অনুবাদ কিছুটা ব্যাখ্যা এবং আট জি.বি তেষট্টি ঘন্টার মেমোরিকার্ডটি শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন আমার কথার সত্যতাটি।
                -------শাহ সূফি ময়েজউদ্দিন আল সুরেশ্বরী।

যারা অজানা কিছু জানতে আগ্রহী
তাদেরকে বলছি, সবাইকে নয়।

তোমার পীর যত বড় পীরই হোক না কেন
যদি তুমি তার থেকে সত্য না পাও তবে
ফেলে দাও তাকে। কারণ পীর এখানে মুখ্য
বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হলো সত্য পাওয়া।
সত্য হলো আল্লাহর রহস্য লোকের কিছু জানা।
সুরেশ্বরীর শান কত বড় রে, ভান্ডারীর শান
কত বড় রে, খাজা বাবার শান কত বড় রে,
শান বললেও আছে, না বললেও আছে, তুমি
কি ঘোড়ার ডিমটা পাইলা। তুমিতো বকরির
তিন নম্বর বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে পীরের
বাড়িতে গিয়ে শুধু লাফালাফিই করে গেলা।

আসো বসো মুরিদ হও, ধ্যান-সাধনা কর, যদি
আল্লাহর রহস্যলোকের কিছুই না পাও
আমাকে ফেলে চলে যাও। এখানে পীর বড়
নয় এখানে সত্য বড়। সারা জীবন বাবা
বাবা ডাকবা পাইবা না ঘোড়ার ডিমও
সেই বাবা ডাইকা কোন লাভ নাই।
              --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

যে পীর মুরিদের ধন-সম্পদের দিকে তাকায় বলে দাও সে দুনিয়াদার মরদুদ (মরদুদ শয়তান)
             --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

ঐ মানুষটাই সবচাইতে আরামে আছে , যে মানুষটি কখনই আরাম পায় নাই।
~খাজা গরিবে নেওয়াজ
   
কোরান- এর দুই নম্বর সুরা বাকারার সাতাশি নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
ওয়া (এবং ) আতাইনা (আমরা দিয়াছি) ইসা (ইসাকে) ইবনা (পুত্র) মারিয়ামা (মরিয়মের) বাইয়ানাইতি (উজ্জ্বল প্রমাণসমূহ, সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলি) ওয়া (এবং) আইয়াদনাহু (আমরা তাহাকে সাহায্য করিয়াছি) বিরুহিলকুদুস (রুহুল কুদ্দুস)।
 এবং ইসা ইবনে মরিয়মকে আমরা দিয়াছি সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এবং রুহুল কুদ্দুস দিয়া তাঁহাকে আমরা সাহায্য করিয়াছি।
এই আয়াতে মরিয়মের পুত্র ইসাকে রুহুল কুদ্দুস দিয়া সাহায্য করার কথাটি বলা হয়েছে , সুতরাং ইহার কিছুটা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন মনে করছি। কারণ, অনেকেই কোনো কিছু চিন্তা-ভাবনা না করেই রুহুল কুদ্দুস বলতে জিবরাইল ফেরেশতার নামটি উল্লেখ করে তৃপ্তির হাসি হাসে এবং চোখে-মুখে জ্ঞান গিজগিজ করার দৃশ্যটি ফুটে ওঠে । একবার সামান্য চিন্তাও করে না যে জিবরাইল ফেরেশতাদের কোনা নফ্স এবং কোনো রুহ-দুইটির একটিও দেওয়া হয় নি। ফেরেশতারা আল্লাহর সেফাতি নুরের তৈরি তথা আল্লাহর গুণবাচক নুরের তৈরি । ফেরেশতারা যদি জাত নুরেরই তৈরি হতো তা  হলে  সিদরাতুল মুনতাহায় এসে জিবরাইল ফেরেশতা থেমে যেতেন  না, কারণ সেফাতি নুরের লা-মোকামে প্রবেশ করার বিধানটি রাখা হয়নি। পা বাড়ালেই সঙ্গে–সঙ্গে জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যেতেন । অথচ মহানবি সেই লা-মোকামে আল্লাহর রহমতে প্রবেশ করলেন দুই ধনুকের ব্যবধানে অথবা আরও নিকটে অর্থাৎ একটি ধনুক একটি অর্ধবৃত্ত, দুইটি  ধনুক দুইটি অর্ধবৃত্ত। দুইটি অর্ধবৃত্ত সমান-সমান একটি পূর্ণ বৃত্ত। সুতরাং, দুইটি অর্ধবৃত্তর দ্বারা যদি একটি বৃ্ত্ত হবার সামান্য  ফাঁক-ফোকর থেকে যায় তাই কোরান ফাঁক –ফোকরের অবসান ঘটিয়ে বলছে, 'আওআদনা'-অর্থাৎ আরও নিকটে । সুতরাং, বৃত্তের প্রকাশিত স্থানটিকে বলা হয় নুরে মহাম্মদ এবং অপ্রকাশিত স্থানটির নাম হলো আল্লাহ । তাই জগতের বড় বড় ‍ওলি -গাউস-কুতুব-আবদাল-আরিফেরা বলে থাকেন যে দুজনের চেহারা তো একই, কাকে খোদা বলব? আমার এই ব্যাখ্যাটিতে ওহাবি ফেরকার অনুসারীরা শরীরে পেট্রোলে আগুন ধরার মতো চিৎকারে প্রতিবাদ শুরু করে দেবে: গোঁজামিলের একবস্তা এইটা–ওইটা- সেইটা বলে মহানবিকে কেবল সাধারণ মানুষই বলবে না, বরং বলবে মহানবি মাটির তৈরি। ওহাবিদের শত দলিল দিয়ে বোঝালেও বুঝতে চাইবে না। কেন ? ইহাই ওহাবিদের তকদির। ঢোঁড়া সাপের সামনে অনেক বীণ বাজালেও ঢোঁড়া সাপ ফণা তুলতে জানে না। ঢোঁড়া সাপের মোটেই কোন দোষ নাই। কেন নাই? কারণ ঢোঁড়া সাপকে আল্লাহ জন্মের আগেই কপালে ফণা তুলার বিধানটি লিখে দেন নি। ফণা নাই, সুতরাং ফণা তুলবে কী করে? ওহাবিদের বুঝবার ক্ষমতাটি দেওয়া হয় নি, সুতরাং বুজবে কী করে? সুতরাং চরম পর্যায়ে ওহাবিদের গালি দিতে নাই। আল্লাহর হাতে ওহাবিদেরকে সোপর্দ করাই শ্রেয় বলে জগতের ওলি- গাউস - কুতুব- আবদাল - আরিফেরা বলে গেছেন। তাছাড়া ওহাবিরা আছে বলেই তো এত ফেরকার বৈচিত্র্য আমরা এক ইসলামের ভেতর দেখতে পাই । যে-ফেরেশতাদেরকে নফসও দেওয়া হয় নি এবং রুহও দেওয়া হয়নি সেই ফেরেশতা কী করে রুহুল কুদ্দুস হয় ইহা ভাবতেও কষ্ট হয় এবং অবাক হই। জিন এবং মানুষ ছাড়া, আমাদের জানা মতে , আল্লাহর সমগ্র সৃষ্ট জীবদেরকে কেবলমাত্র নফসটি দেওয়া হয়েছে তথা প্রাণটি দেওয়া হয়েছে । কিন্তু জিন এবং ইনসানকেই নফসের সঙ্গে তথা প্রাণের সঙ্গে রুহকে তথা আল্লাহর হুকুমকে দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা দেখতে পাই, বড়-বড় প্রাণীরা পাক করে খেতে জানে না। মানুষের নফসের সঙ্গে যেহেতু রুহের অবস্থানটি আছে তাই মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। ফেরেশতারা কখনোই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব নয় । ফেরেশতারা যতই শক্তিশালী হোক না কেন এবং যত বড়ই ক্ষমতা থাক না কেন, ভালো–মন্দ করার কোনো এখতিয়ার নাই। স্বাধীনতা থাকলে ভালো মন্দ করার প্রশ্নটি আসে। যেহেতু নফস এবং রুহ একটিও নাই সেই হেতু স্বাধীনতাও নাই। এক কথায় ফেরেশতাদেরকে আল্লাহ জাল্লাশানাহুর আদেশ-নিষেধ পালন করার রোবট বলা যায়। এই রোবটদের নিয়ে যখন আদম সন্তানেরা মাথায় তুলে নিয়ে ধেইধেই করে নাচতে থাকে এবং হিয়াহুয়া বলে জাহির করতে থাকে তখন এতিমের মত ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকি আর ভাবি , এদের মাথায় কত জ্ঞান গিজগিজ করে। সুতরাং, হজরত ইসা (আ.)-কে রুহুল কুদ্দুস দিয়ে সাহায্য করার কথাটি বুঝতে না পেরে জিবরাইল ফেরেশতাকে টেনে এনে সাহায্য করার  দৃশ্যটি দেখতে পাই।
কামেল সাধকদের খান্নাসমুক্ত পবিত্র নফসের উপর রুহ যখন জাগ্রত রূপটি ধারণ করে তখন তাদের কতাবার্তা , তাদের আদেশ-উপদেশ এবং তাদের বাণীগুলো সাধারণ মানুষের নিকট কেবল অপছন্দই হয় না, বরং বোঝা এবং ঝামেলা বলে মনে হয়। কারণ, সাধারণ মানুষ নফসের সঙ্গে মিশে থাকা খান্নাসের পূজারি এবং মোহ-মায়ার ফাঁদে বাস করে । এ-জন্যই সাধারণ মানুষ নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা খান্নাসটির তাকাব্বুরি তথা
দেমাকি ভাবটি সব সময় রক্ষা করে চলে। এবং তারই ফলে এই জাতীয় রুহ-জাগ্রত-হওয়া-সাধকদের  আদেশ-নিষেধটি বর্জন করতে ভালবাসে । তাই আমরা দেখতে পাই, এই সাধারণ মানুষেরাই রুহ-জাগ্রত-হওয়া সাধকদের অনেককেই মিথ্যাবাদী প্রমাণ করার জন্য চেষ্টা  চালিয়ে যায় , আবার কাহাকেও হত্যা করতেও কুণ্ঠা বোধ করে না। ইহার প্রধান কারণটি হলো, খান্নাসের পূজারিদের নিকট রুহ-জাগ্রত হওয়া সাধকদের আদেশ –নিষেধ এবং বাণীগুলো অচল বলে মনে হয় এবং সেই বাণীগুলো সাধারণ মানুষের নিকট নিতান্ত অপ্রীতিকর বলে মনে হয়।
কোরানে –এর আটান্ন নম্বর সুরা আল মুজাদালার  বাইশ নম্বর আয়াতের অংশ বিশেষে বলা হয়েছে:
উলাইকা (উহারাই তাহারা ) কাতাবা (লিখিয়া দিয়াছেন) ফি (মধ্যে) কুলুবিহিমুল (তাহাদের কলবে) ইমানা (ইমান) ওয়া (এবং) আইয়াদা (শক্তিশালী করা) হুম (তাহাদের )বিরুহিম (রুহের দ্বারা ) মিনহু (তাহার পক্ষ হইতে)। উহারাই তাহারা, লিখিয়া  দিয়াছেন তাহাদের  কলবের মধ্যে ইমান এবং শক্তিশালী করিয়াছেন তাহাদের রুহের দ্বারা তাঁহার পক্ষ হইতে। 'উহারাই তাহারা'  বলতে তাহাদেরকেই বোঝানো হয়েছে যারা আল্লাহ এবং পরকালেরর প্রতি বিশ্বাসী । এমন কোনো কওম পাওয়া যাবে না যারা আল্লাহ এবং তার রসুলের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান করে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে। তারপর আরও বলা হয়েছে যে তারা তাদের পিতা -পুত্র–ভাই অথবা নিকট আত্মীয় –স্বজনও যদি হয়। কারণ, এই জাতীয় কওমের মানুষগুলোর কলবে আল্লাহ ইমান লিখে দিয়েছেন এবং সেই সঙ্গে তাদের রুহ-এর দ্বারা আল্লাহ শক্তিশালী করেছেন। অনেকেই এই রুহ এর প্রতিশব্দটি 'অদৃশ্য শক্তি' বুঝাতে চেয়েছেন। আবার অনেকে রুহ-এর প্রতিশব্দটি 'দৃশ্যশক্তি' বোঝাতে চেয়েছেন। এখন রুহকে রুহ-এর সঠিক অবস্থান হতে সরে গিয়ে রুহ-এর প্রতিশব্দটি যে কত রকম করা হয় তা সরল পাঠকদের ধরবার আর কোনো উপায় থাকে না। অনেকে তো  রুহ-এর  প্রতিশব্দ হিসাবে চোখ বুজে লিখে ফেলে জিবরাইল নামক ফেরেশতাটির নাম। আবার অনেকে রুহ-এর প্রতিশব্দটি ‘ওহি' বলেও চলিয়ে দেন। আপনি যদি প্রশ্ন করেন তাহলে আপনাকে একবোঝা লুলা-টুণ্ডা-মার্কা তথা খাপছাড়া কতগুলো কথা শুনিযে দেবে। প্রকৃত সত্যটি হয়তো এভাবেই ঢেকে যেতে থাকে, অথচ মনে করে যে কত বড় সওয়াবের কাজটি করলাম। একজন মানুষ তখনই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে যখন সেই মানুষটির অন্তরে এক ফোঁটাও খান্নাসের গন্ধ থাকে না । তাই একটি হাদিসে বলা হয়েছে যে, যার অন্তরে তথা কলবে এক সরিষা পরিমাণ অহংকারটি থাকবে সে  কখনই জান্নাতে প্রবেশ করবে না। খান্নাসমুক্ত একজন মানুষকেই আল্লাহর দৃষ্টিতে অতি উচ্চ মর্যাদাশালী একজন মোমিন বলে গন্য করা হয় । কারণ একটি খান্নাসমুক্ত পবিত্র নফসের উপরেই রুহ তার আপন পরিচয় নিয়ে পূর্ণ  আকৃতিতে প্রকাশ  পায় । ইহাই আল্লাহর রহস্যময় প্রকাশের  উজ্জ্বলতম স্বাক্ষর। । আসলে আল্লাহ যাকে যতটুকু জ্ঞানের উচ্চতা দান করেছেন সে তো ততটুকুই জানবে এবং লিখতে পারবে এর বেশি আশা করাটাও ঠিক নয় ।

সগীরে  আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী  আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।

পাগল হয়ে যাব, এত উচ্চমানের লিখা মাথায় আঁটে না। নফস ও রূহের পার্থক্য বিষয়ের উপর লিখতে গিয়ে বাবা জাহাঙ্গীর তাঁর কোরানুল মাজিদের ৬৩ নং পৃষ্ঠায় নিম্নোক্ত লিখাটির অবতারণা করেছেন। "Religious view of World Theology" ক্লাসে আমার ম্যাডামকে ( কোন এক কারণে তাঁর নামটি উল্লেখ করা হল না) এ লেখাটা দেখিয়েছিলাম আর বলেছিলাম আমাকে বুঝিয়ে দিন, প্রত্যুত্তরে কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে বললেন, "সারাজীবন ভাত খাওয়ার জন্য বিদ্যার্জন করে গেছি, কিন্তু, এ লেখাটা সক্রেটিস শ্রেণির লোকের লেখা যিনি নিজেকে চিনেছেন, এটা রেনে দেকার্তের মতো দার্শনিকদের দর্শন থেকে আরো উচ্চতম দর্শনের লেখা, এটা ডেভিড হিউম আর কান্টদের থেকে অারো অনেক উপরের লেখা, এখানে সমস্ত সন্দেহের অবসান ঘটেছে, এখানে মিলনের প্রশ্নে পুরোটাই Eternal Entity, এখানে দেহধারী মানুষটা নি:সন্দেহে পরমসত্ত্বার প্রতিমূর্তি, যদি তোমার সাথে তাঁর সাক্ষাত হয় তো আমার সালাম পৌঁছে দিও।
আসলে উলঙ্গ সত্য কথাটি বলতে গেলে বলতে হয় যে, রুহুল অামিন হলেন মহানবির অাপন অাধ্যাত্মিক প্রতিচ্ছবি। ইহা জগৎময় ব্যক্তও হতে পারে, আবার যেকোন মূর্তি ধারণও করতে পারে। ইহা স্থান-কালের (টাইম এন্ড স্পেস) সব রকম মানুষের আদি ও আসল রূপ। এইরূপের মাঝে প্রত্যাবর্তন করাই মানবজীবনের পরম এবং চরম স্বার্থকতা। অাল্লাহর নিকট মানুষের প্রত্যাবর্তন করার তথা ফিরে আসার অর্থটিও ইহাই।

ভক্ত Aaga Bagalane (আগা বাগালেন)  র কমেন্টটি তুলে ধরলাম,
নফস ও রুহের-পার্থক্য - ৯

 সারাটি  জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই।  এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।

               ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

নকশেবন্দি- মুজাদ্দেদি তরিকা, চিশতিয়া-কাদেরিয়া তরিকা, আবু - উলাই তরিকা, কালান্দারিয়া তরিকার শান গেয়েই গেলেন , শান না গাইলেও কিছু আসে যায় না। প্রশ্ন হলো? আপনি তো তিন নম্বর ছাগলের বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে শুধু লাফালাফিই করেই গেলেন।
                ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

 আমার পীর বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীরের সঙ্গে অন্য পীরের তুলনা করাই যায় না। কারণ, কোরানে ২১ বার রুহ বিষয়ে বলা হয়েছে, এবং এই ২১ বারই একবচনে বলা হয়েছে রুহের বহুবচন নাই । রুহ ফুৎকার করা হয়– নফস নয় । এই বিষয়ে অবাক করা ব্যাখ্যাটি সমগ্র পৃথিবীতে আমার বাবাই দিয়ে গেছেন। কথাটি শুনতে ভাল লাগবে না, কিন্তু আসলে ইহা একটি তিক্ত সত্য কথা।  আমার পীর বাবার পঁচিশটি বই কোরানের পনের পারার অনুবাদ কিছুটা ব্যাখ্যা এবং আট জি.বি তেষট্টি ঘন্টার মেমোরিকার্ডটি শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন আমার কথার সত্যতাটি।
                -------শাহ সূফি ময়েজউদ্দিন আল সুরেশ্বরী।

যারা অজানা কিছু জানতে আগ্রহী
তাদেরকে বলছি, সবাইকে নয়।

তোমার পীর যত বড় পীরই হোক না কেন
যদি তুমি তার থেকে সত্য না পাও তবে
ফেলে দাও তাকে। কারণ পীর এখানে মুখ্য
বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হলো সত্য পাওয়া।
সত্য হলো আল্লাহর রহস্য লোকের কিছু জানা।
সুরেশ্বরীর শান কত বড় রে, ভান্ডারীর শান
কত বড় রে, খাজা বাবার শান কত বড় রে,
শান বললেও আছে, না বললেও আছে, তুমি
কি ঘোড়ার ডিমটা পাইলা। তুমিতো বকরির
তিন নম্বর বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে পীরের
বাড়িতে গিয়ে শুধু লাফালাফিই করে গেলা।

আসো বসো মুরিদ হও, ধ্যান-সাধনা কর, যদি
আল্লাহর রহস্যলোকের কিছুই না পাও
আমাকে ফেলে চলে যাও। এখানে পীর বড়
নয় এখানে সত্য বড়। সারা জীবন বাবা
বাবা ডাকবা পাইবা না ঘোড়ার ডিমও
সেই বাবা ডাইকা কোন লাভ নাই।
              --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

একটা বলতে আরেকটা বুঝতে চেয়ো না। ভুল আর ভণ্ডামি এক নয়। দুঃখই পূর্ণতাকে আলিঙ্গন করতে পারে। ~দার্শনিক ফ্রেডারিক নিটশে

সত্য মিথ্যাকে দেখতেই পারে না, যেমন গ্রেহাউন্ড কুকুর চিতা বাঘ দেখতে পারে না।
          ~দার্শনিক ফ্রেডারিক নিটশে

কোরান-এর ষোল নম্বর  সুরা আননাহাল –এর একশত দুই নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
>কুল (বলুন) নাজজালাহু (তিনিই নাজেল করেন) রুহুলকুদুসি (রুহুল কুদ্দুস) মির (হইতে ) রাববিকা (তোমার রব) বিল হাককি (সত্যসহ) লিইউসাববিতাল (প্রতিষ্ঠা করিবার জন্য) আললাজিনা (যাহারা) আমানু (ইমান আসিয়াছে) ওয়া (এবং ) হুদাও (হেদায়েত) ওয়া(এবং) বুশরা (সুসংবাদ) লিল (জন্য ) মুসলিমিনা (মুসলমান [আত্মসমর্পণকারী] দের )।
> তিনিই নাজেল করেন রুহুল কুদ্দুস তোমার রব হইতে সত্যসহ প্রতিষ্ঠা করিবার জন্য যাহারা ইমান আনিয়াছে এবং হেদায়েত এবং সুসংবাদ মুসলমানদের [আত্মসমর্পণকারীদের] জন্য।
এই আয়াতে প্রথমেই বলা হয়েছে : রুহুল কুদ্দুস তিনিই নাজেল করেন তোমার রব হইতে । খেয়াল করুন, এখানে ‘মিররাববিকুম’ তথা তোমাদের রব হইতে বলা হয়নি, বরং নিছক তোমার রব হইতে রুহুর কুদ্দুস নাজেল করা হয় । তারপরেই বলা হয়েছে:  সত্যসহ এবং তারপরে বলা হয়েছে: প্রতিষ্ঠা করার জন্য । ইহা কাদের প্রতিষ্ঠা করার জন্য নাজেল করা হয়? উত্তরটি হলো, যারা ইমান এনেছে এবং হেদায়েত পেয়েছে এবং যারা মুসলমান (আত্মসমর্পণকারী) তাদের জন্য এই বিষয়টি একটি বিরাট সুসংবাদ। এই রুহুল কুদ্দুস যারা মুসলমান এবং ইমান ও হেদায়েত লাভ করেছেন তাদের জন্য বিরাট একটি সুসংবাদ। তা হলে রুহুল কুদ্দুস নাজেল করাটি অতীতকালের মধ্যে ধরে রাখা যায় না, বরং সর্বকালে সর্বযুগে যারা বিশ্বাসী এবং সঠিক পথপ্রাপ্ত আত্মসমর্পণকারী, তাদের জন্য রুহুল কুদ্দুস পরিপূ্র্ণরূপ ধারণ করে পরিচালিত করেন। আফসোস! এই রুহুল কুদ্দুস তথা পবিত্র রুহ অথবা শক্তিশালী রুহ বলতে নফস ও রুহবিহীন জিবরাইল নামক ফেরেশতাকে দাঁড় করিয়ে সার্বজনীনতার এবং সর্বকালের জন্য  প্রযোজ্য বিষয়টিকে একটি নিদিষ্ট কালের গণ্ডির মধ্যে বেঁধে রাখা হয়েছে। আমরা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারি না যে রুহুল কুদ্দুস বলতে কেমন করে জিবরাইল ফেরেশতা  অনুবাদ করে বিভ্রান্ত করে। মহানবি হেরা গুহায় ধ্যানসাধনার মাধ্যমে যে নিজের নফসের উপর রুহটি পরিপূর্ণরূপে বিকশিত হয় উহাই বুঝিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু যারা হেরা গুহার ধ্যানসাধনার বিষয়টি সযত্নে এড়িয়ে যায় তাদের পক্ষে রুহুল কুদ্দুসের পরিচয় জানাটি অসম্ভব এবং বিষয়টি নিছক শাব্দিক ও মৌখিক বিষয়ে পরিণত হয়। সাধারণত আমরা দেখতে পাই যে, তৌহিদের মূল বিষয়টি শিক্ষা দিতে হলে নিজে আগে কেমন করে লাভ করা যায় সেই প্রয়োগ-পদ্ধতিটি দেখিয়ে দিয়ে যান । হেরাগুহার নির্জনে একাকী সময়-অসময়ে পনেরটি বছর ধ্যানসাধনার মাধ্যমে নিজের জীবনের উপর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মহানবি দেখিয়ে গেলেন যে, এই হেরা গুহায় নির্জন সাধনার মতো ধ্যানসাধনা ছাড়া রুহুল কুদ্দুসের পরিচয়টি পাওয়া অসম্ভব। কারণ মহানবি তখনও নবি যখন প্রথম মহামানব হজরত আদম (আ.) মাটি ও পানিতে ভাসমান। সুতরাং, এই হেরা গুহার ধ্যানসাধনাটি নিছক মহানবির অনুসারীদের জন্য একটি জ্বলন্ত শিক্ষনীয় বিষয় এবং দেদীপ্যমান সার্বজনীনতার উজ্জ্বল স্বাক্ষর। সে জন্যই পরিশেষে বিরাট একটি দুঃখ নিয়ে এবং দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমাকে বলতে হচ্ছে যে, কোথায় রুহুল কুদ্দুস আর কোথায় যার নফসও নাই রুহও নাই এমন একজন ফেরেশতা যার নাম জিবরাইল। মিথ্যার চাদরে ঢাকতে–ঢাকতে সত্য সম্পূর্ণরূপে ঢেকে যায়। তেমনি আজ মানব-সমাজের বুকে সত্য উদ্ধারের প্রচেষ্টায় পদে-পদে হোঁচট খেতে হয় যখন দেখতে পাই উলঙ্গ একটি সত্যকে তথা রুহুল কুদ্দুসকে কেমন করে মিথ্যার কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়। পরিশেষে বলতে চাই যে, রুহ-এর পরিপূর্ণরূপটি যখন সাধক তথা মোমিন-এর (আমানু নহে) আপন নফসের উপর আলোকিত হয় উহাকেই নুরে মুহাম্মদি বলা হয় এবং এই নুরে মুহাম্মদি-কে আপন নফসের উপর উদ্ভাসিত করবার সাধনাটি ইসলামের মূল কথা। এ-জন্য ইসলামকে আলো তথা নুর বলা হয়। যেমন ‘আল ইসলামুন নুরুন’– অর্থাৎ , ইসলামই একমাত্র নুর তথা আলো । এই নুর সার্বজনীন। যে-কোনো সাধক ধ্যানসাধনার একাগ্রতায় এবং আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভ করার পরেই তা অর্জন করতে পারবে। আবার ইসলামকে শান্তিও বলা হয়, বলা হয় ইসলাম আত্মসমর্পণ করার ধর্ম, কিন্তু ইসলাম যে একমাত্র নুর ইহা মৌখিকভাবে জানা থাকলেও সাধকেরাই বুঝতে পারেন। কোরান-এর বিয়াল্লিশ নম্বর সুরা আশ শুরা-র বায়ান্ন নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে : ওয়া (এবং) কাজালিকা (ওইভাবে) আওহাইনা (ওহি পাঠাইয়াছি আমরা ইলাইকা (আপনার দিকে ) রুহাম (রুহ) মিন (হইতে) আমরিনা (আমাদের হুকুমে /আদেশে/ আজ্ঞায়/অনুমতিতে/নির্দেশে)। >এবং ওইভাবে আমরা ওহি পাঠাইয়াছি আপনার দিকে রুহ আমাদের হুকুম হইতে। এই আয়াতেরর রুহ শব্দটি ব্যবহার করতে গিয়ে প্রায় তফসিরকারকেরাই ইহার একান্ত গোপন রহস্য  বুঝতে না পেরে একেক জনে একেক রকম রুহ-এর প্রতিশব্দটি ব্যবহার করেছেন। অনেকে তো বিশেষ করে এই আয়াতে 'রুহাম'-কে 'ওহি' অনুবাদ করে ফেলেছেন। অথচ অনুবাদক একবার ভুলেও চিন্তা করে দেখলেন না যে ‘আওহাইনা’ তথা ‘আমরা ওহি পাঠিয়েছি' আগেই বলে দেওয়া হয়েছে এবং এই বলে দেবার পরেও রুহাম তথা রুহ-এর গোপন রহস্য বুঝতে না পেরে ‘ওহি’ অনুবাদ করেছেন। প্রথমেই তো ‘আমরা ওহি পাঠাইয়াছি’ বলা হলো তারপরে আবার ‘রুহাম’ শব্দটিকেও কেমন করে এবং কীভাবে ‘ওহি’ অনুবাদ করেন ইহা ভাবতে গেলেও অবাক হই। অনুবাদের চেহারাই যদি এত গোঁজামিল আর মনগড়া কথা দিয়ে ভরে রাখা  হয় তাহলে সহজ–সরল পাঠকেরা কেমন করে সত্যের পরিচয়টি জানতে পারবে? আবার অনেক অনুবাদক ‘রুহাম'-কে ‘ওহি’ লিখতে খুবই শরম পেয়ে 'রুহাম' –এর অনুবাদ করেছেন ‘কোরআন’। মাশাল্লাহ! ইনাদের কোরান-এর এহেন অনুবাদের চেহারাটি যদি এমন হয় তা হলে পাঠক কোনটা গ্রহণ করবে ইহাতেও  যে একটি বিরাট প্রশ্ন থেকে যায়।মনে শান্তি পাওয়া এক জিনিস আর সত্য উদ্ধারের গবেষনাটি অন্য জিনিস। এক ইসলামের তিন কুড়ি তেরটি সাইনবোর্ড কাঁধের উপর ঝুলছে। প্রশ্ন আসতে পারে, এই তিন কুড়ি তেরটি সাইনবোর্ডের মধ্যে কোন সাইনবোর্ডটি সাচ্চা ? সাচ্চা সাইনবোর্ডটি উদ্ধার করতে গিয়ে সরল-সহজ পাঠকদের অবস্থাটি কি লেজে-গোবরে পরিণত হচ্ছে না? বীজরূপে রুহ প্রতিটি মানুষের সঙ্গে অবস্থান করছে বলেই আল্লাহ বলেছেন যে, আমরা [আল্লাহ-বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে] জীবন-রগের নিকটেই অবস্থান করছি।’ এখানে ‘ইলা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে তথা ‘দিকে’ বলা হয়েছে, ইনদা’ তথা 'ভেতরে’ শব্দটি ব্যাবহার করা হয় নি। শয়তান খান্নাসরূপে নফসের সঙ্গে মিশে থাকে। কিন্তু রুহ জীবন-রগের নিকটে বীজরূপে অবস্থান করে । লক্ষ করুন, এই আয়াতেও ‘ইলাইকা’ তথা আপনার দিকে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। অতীব দুঃখ নিয়ে বলতে হচ্ছে যে দশচক্রে ভগবানকেও যে ভূতরূপে আমজনতা গ্রহণ করে ফেলে তারই জ্বলন্ত নমুনাগুলো একটি একটি করে পেশ করছি। অনেকের আঁতে ঘা লাগতে পারে , আবার অনেকের হুঁশ আসতে পারে । আঁতে ঘা লাগাটাও তকদির এবং হুঁশ আসাটাও তকদির।

সগীরে  আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী  আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।

পাগল হয়ে যাব, এত উচ্চমানের লিখা মাথায় আঁটে না। নফস ও রূহের পার্থক্য বিষয়ের উপর লিখতে গিয়ে বাবা জাহাঙ্গীর তাঁর কোরানুল মাজিদের ৬৩ নং পৃষ্ঠায় নিম্নোক্ত লিখাটির অবতারণা করেছেন। "Religious view of World Theology" ক্লাসে আমার ম্যাডামকে ( কোন এক কারণে তাঁর নামটি উল্লেখ করা হল না) এ লেখাটা দেখিয়েছিলাম আর বলেছিলাম আমাকে বুঝিয়ে দিন, প্রত্যুত্তরে কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল
 করে চেয়ে থেকে বললেন, "সারাজীবন ভাত খাওয়ার জন্য বিদ্যার্জন করে গেছি, কিন্তু, এ লেখাটা সক্রেটিস শ্রেণির লোকের লেখা যিনি নিজেকে চিনেছেন, এটা রেনে দেকার্তের মতো দার্শনিকদের দর্শন থেকে আরো উচ্চতম দর্শনের লেখা, এটা ডেভিড হিউম আর কান্টদের থেকে অারো অনেক উপরের লেখা, এখানে সমস্ত সন্দেহের অবসান ঘটেছে, এখানে মিলনের প্রশ্নে পুরোটাই Eternal Entity, এখানে দেহধারী মানুষটা নি:সন্দেহে পরমসত্ত্বার প্রতিমূর্তি, যদি তোমার সাথে তাঁর সাক্ষাত হয় তো আমার সালাম পৌঁছে দিও।
আসলে উলঙ্গ সত্য কথাটি বলতে গেলে বলতে হয় যে, রুহুল অামিন হলেন মহানবির অাপন অাধ্যাত্মিক প্রতিচ্ছবি। ইহা জগৎময় ব্যক্তও হতে পারে, আবার যেকোন মূর্তি ধারণও করতে পারে। ইহা স্থান-কালের (টাইম এন্ড স্পেস) সব রকম মানুষের আদি ও আসল রূপ। এইরূপের মাঝে প্রত্যাবর্তন করাই মানবজীবনের পরম এবং চরম স্বার্থকতা। অাল্লাহর নিকট মানুষের প্রত্যাবর্তন করার তথা ফিরে আসার অর্থটিও ইহাই।

ভক্ত Aaga Bagalane (আগা বাগালেন)  র কমেন্টটি তুলে ধরলাম,
নফস ও রুহের পার্থক্য -১০

সারাটি  জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই।  এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।

               ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

নকশেবন্দি- মুজাদ্দেদি তরিকা, চিশতিয়া-কাদেরিয়া তরিকা, আবু - উলাই তরিকা, কালান্দারিয়া তরিকার শান গেয়েই গেলেন , শান না গাইলেও কিছু আসে যায় না। প্রশ্ন হলো? আপনি তো তিন নম্বর ছাগলের বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে শুধু লাফালাফিই করেই গেলেন।
                ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

 আমার পীর বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীরের সঙ্গে অন্য পীরের তুলনা করাই যায় না। কারণ, কোরানে ২১ বার রুহ বিষয়ে বলা হয়েছে, এবং এই ২১ বারই একবচনে বলা হয়েছে রুহের বহুবচন নাই । রুহ ফুৎকার করা হয়– নফস নয় । এই বিষয়ে অবাক করা ব্যাখ্যাটি সমগ্র পৃথিবীতে আমার বাবাই দিয়ে গেছেন। কথাটি শুনতে ভাল লাগবে না, কিন্তু আসলে ইহা একটি তিক্ত সত্য কথা।  আমার পীর বাবার পঁচিশটি বই কোরানের পনের পারার অনুবাদ কিছুটা ব্যাখ্যা এবং আট জি.বি তেষট্টি ঘন্টার মেমোরিকার্ডটি শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন আমার কথার সত্যতাটি।
                -------শাহ সূফি ময়েজউদ্দিন আল সুরেশ্বরী।

যারা অজানা কিছু জানতে আগ্রহী
তাদেরকে বলছি, সবাইকে নয়।

তোমার পীর যত বড় পীরই হোক না কেন
যদি তুমি তার থেকে সত্য না পাও তবে
ফেলে দাও তাকে। কারণ পীর এখানে মুখ্য
বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হলো সত্য পাওয়া।
সত্য হলো আল্লাহর রহস্য লোকের কিছু জানা।
সুরেশ্বরীর শান কত বড় রে, ভান্ডারীর শান
কত বড় রে, খাজা বাবার শান কত বড় রে,
শান বললেও আছে, না বললেও আছে, তুমি
কি ঘোড়ার ডিমটা পাইলা। তুমিতো বকরির
তিন নম্বর বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে পীরের
বাড়িতে গিয়ে শুধু লাফালাফিই করে গেলা।

আসো বসো মুরিদ হও, ধ্যান-সাধনা কর, যদি
আল্লাহর রহস্যলোকের কিছুই না পাও
আমাকে ফেলে চলে যাও। এখানে পীর বড়
নয় এখানে সত্য বড়। সারা জীবন বাবা
বাবা ডাকবা পাইবা না ঘোড়ার ডিমও
সেই বাবা ডাইকা কোন লাভ নাই।
              --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

যে পীর মুরিদের ধন-সম্পদের দিকে তাকায় বলে দাও সে দুনিয়াদার মরদুদ (মরদুদ শয়তান)
           --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

প্রেমের যত বড় বেদনা তোমার সামনে আসুক, উহ্ শব্দটি করো না । কারণ তোমাকে দেখলেই বুঝতে পারবে, প্রেমের যাতনায় তুমি বরবাদ হয়ে গেছ।
                                         -----------হযরত সারমাস্ত।

সবচাইতে প্রাচীন সংগীতটির নাম কি তুমি জান? মানুষকে মরণের ভয় দেখানো।
                                         ---------------নিটশে।

মানুষ যখন নির্জনে মহানবির হেরা গুহার মতো স্থানে একাকী ধ্যানসাধনায় মগ্ন হয়ে নফসের সঙ্গে মিশে থাকা খান্নাসরূপি শয়তানটিকে তাড়িয়ে দেবার জেহাদে রত থাকে তখনই সেই নফসটিকে বলা হয় নফসে লাউয়ামা তথা সংগ্রামরত নফস তথা যুদ্ধরত নফস তথা জেহাদে রত থাকা নফস। এই জেহাদ বাহিরের অস্ত্র হাতে নিয়ে জেহাদ করা নয়, বরং ধ্যানসাধনায় ডুবে থেকে আপন নফস হতে খান্নাসকে তাড়িয়ে দেবার অথবা খান্নাসকে মুসলমান বানিয়ে ফেলার জেহাদ। একটি নফস যখন খান্নাস হতে মুক্ত হতে থাকে, মুক্তির কাছাকাছি এসেই কেতাব এবং ইমানের পরিচয়টি পেতে থাকে । নতুবা নফসের সঙ্গে খান্নাস পরিপূর্ণরূপে মিশে থাকলে ইমান ও কেতাবের পরিচয়টি চিনতে  পারে না । যেহেতু অধম লেখক মুসলমান তাই আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে বলতে হচ্ছে যে ‘নুরে মুহাম্মদি'  আল্লাহরই জাত-নুর। অন্যান্য ধর্মের সাধকেরা ‘নুরে মুহাম্মদি'-র স্থলে অন্য যে কোনো নামটি দিতে পারেন । এই রুহ যখন সাধকের নফসের উপর প্রকাশিত হয় তখন নুররূপেই মূর্তিমান হয়। কালি ও কলমের তৈরি শব্দের বলয়ে রুহ-এর অবস্থানটি থাকে না। কালি ও কলমের কাগজের উপর তৈরি করা বাঘ আর সিংহের ছবিগুলো যেমন বাঘ আর সিংহ নয়, আসল বাঘ আর সিংহ দেখতে হলে চিড়িয়াখানাতে গিয়ে দেখতে হয় , তেমনি নিজের সঙ্গে রুহ- এর পরিচয়টি জানতে চাইলে ওই হেরা গুহার মতো নির্জনে সাধনা ছাড়া পাওয়া সম্ভব কি না  পাঠকদের হাতেই বিচারের ভারটি তুলে দিলাম।
পরিশেষে একদম খোলা মেলা করে বলতে গেলে বলতে হয় যে, রুহ-এর পরিপূর্ণ রূপটি আল্লাহর রব-রূপী পরিপূর্ণরূপ । আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা- রূপে সবাই (নাস্তিক ছাড়া) মেনে নেয়, কিন্তু আল্লাহকে রব-রূপে মেনে নিতে গেলেই ধ্যানসাধনাটির প্রয়োজনটি অত্যাবশ্যকীয়। তাই আমরা দেখতে পাই, কোরান-এর প্রথম হতে শুরু করে শেষ পর্যন্ত কেবলমাত্র রাব্বুল আলামিনের ‘জিকির ‘শব্দটি দেখতে পাই। মানুষের মাঝে রব-রূপে  প্রকাশিত হওয়ার পরিপূর্ণ রুপটি হলো রুহ। সুতরাং রুহ-এর এই ভেদরহস্য সম্পর্কে ধ্যানসাধনা বিহনে কিছু একটা বলতে গেলে অনুমানের ঢিলটি ছুঁড়তে হয় এবং যারা এই অনুমানের ঢিলটি ছোঁড়ে তাদেরেই বা কী দোষ দিতে যাব? এ যে মহান রাব্বুল আলামিনের লীলাখেলা। তাই দর্শনেই মুক্তি, অজ্ঞতার অন্ধকারে বন্ধন। এই মুক্তি ও বন্ধনের লীলাখেলাটি যদি থেমে যায় তা হলে দুনিয়া অচল, নিষ্ক্রিয় এবং অথর্ব।
কোরান-এর ষোল নম্বর সুরা আন নহলের দুই নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ইউনাজাজিলুল (নাজেল করেন)মালাইকাতা (ফেরেশতাদেরকে) বিররুহি (রুহের সহিত) মিন্ (হইতে) আমরিহি (তাঁহার হুকুমে ) আলা (উপর) মাই (যাহাকে) ইয়াশাউ (ইচ্ছা করেন) মিন (হইতে) ইবাদিহি (তাঁহার বান্দাদের) আন্ (যে, এই যে, হইতে) আনজিরু (তোমরা সাবধান করিয়া দাও) আননাহু (অবশ্যই ইহা) লা (নাই) ইলাহা (ইলাহ, অধিকারী) ইললা(একমাত্র, কিন্তু, ব্যতীত) আনা (আমি) ফাততাকুনি (সুতরাং আমার তাকওয়া করো)।
নাজেল করেন ফেরেশতাদেরকে রুহের সহিত তাঁহার হুকুম হইতে যাহার উপর ইচ্ছা করেন তাঁহার  বান্দাদের হইতে যে তোমরা সাবধান করিয়া দাও অবশ্যই ইহা নাই ইলাহ একমাত্র আমি, সুতরাং আমার তাকওয়া করো।
 এই আয়াতে ফেশেতাদেরকে নাজেল করার কথাটি বলা হয়েছে এবং ফেরেশতাদের সঙ্গে রুহকেও নাজেল করার কথাটি বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, রুহের সহিত অর্থাৎ , ফেরেশতারা এবং রুহ বিষয়টি যে মোটেই এক ও অভিন্ন নয়, বরং দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা এবং ভিন্ন এই আয়াতে পরিষ্কারভাবে তা বলে দেওয়া হয়েছে। তা হলে জিবরাইল নামক ফেরেশতাকে কেমন করে রুহ বলে চালিয়ে দেওয়া যায়? কারণ , আমরা প্রত্যেকেই জানি যে জিবরাইল যত শক্তিরই অধিকারী হন না কেন তিনি নিছক একজন ফেরেশতা বৈ আর কিছু নন। আমরা আজরাইল , মিকাইল এবং ইসরাফিলকেও ফেরেশেতা বলেই জানি এবং এই চারজনই ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত। এই চারজন ফেরেশতা বাহিরের কেহ নন। তা হলে রুহ বলতে কেমন করে জিবরাইল নামক ফেরেশতাটিকে অনুবাদ করা হয়? কোথায় জিবরাইল ফেরেশতা আর কোথায় রুহ! অনুবাদক এবং তফসিরকারক এই জটিল এবং সূ্ক্ষ্ম বিষয়টি বুঝতে না পেরে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলে এবং অনুবাদ ও ব্যাখ্যাটি লেজে-গোবরের অবস্থায় পরিনত হবার গোঁজামিলের রূপগুলো চোখের সামনে পরিষ্কার ধরা পড়তে থাকে। তখনই মহানবির নামে সনদের দোহাই দিয়ে উমাইয়াএবং আব্বাসীয় যুগে সংগ্রহ করা কথাকে হাদিস নামে চালিয়ে দিতে থাকে। (আল্লামা সা’দ উল্লাহ সাহেবের রচিত হাদিস সংগ্রহের ইতিহাসটি পড়লেই অনেক কিছু ভালো-মন্দ বিষয়গুলো পরিষ্কার বুঝতে পারবেন) । প্রশ্ন আসে, আসলেই  কি এগুলো মহানবির কথা তথা হাদিস, নাকি মহানবির নামে চালিয়ে দেবার অপকৌশল মাত্র? ফেরেশতাদের সঙ্গে রুহ নাজেল করার কথাটি না বলে জিবরাইলের কথাটিতো আল্লাহ বলতে পারতেন। তা হলে রুহ অর্থে কেমন করে জিবরাইল নামক ফেরেশতাটিকে দাঁড় করানো হয়? তা হলে কি এই কথাটুকু বলা যায় না যে, সবজান্তার ভূমিকা পালন না করে সোজা বলে দিলেই হলো যে, আমি ইহার অর্থটি বুঝলাম না তথা আল্লাহর কালামের এই আয়াতের মর্ম আমাদের বোধগম্য নহে ? কেহ যদি মুখ ফসকে বলে ফেলেন যে , আপনারা জেনেশুনে অথবা না–জেনে ভুলও করছেন এবং ভণ্ডামিও করছেন?- যদিও আপনাদের এই ভুল, এই ভণ্ডামি এতই সূক্ষ্ম বিষয় যে সবার চোখে ধরা পড়ার কথা নয়। নাই কোনো ইলাহ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া, সুতরাং তাকওয়া করো অথবা ভয় করো –বিষয়টি এখানে এবং এই ক্ষুদ্র নফস ও রুহের পার্থক্য নামক প্রবন্ধে তুলে ধরা হতে ইচ্ছা করেই বিরত রইলাম।
হজরত ইসা নবিকে যে–রুহ দেওয়া হয়েছে উহা বীজরূপী রুহ নহে, বরং পরিপূর্ণ রুহ। তাই তিনি দোলনায় দুলেও কথা বলেছেন এবং পিতা ছাড়া যে জন্মগ্রহণ করেছেন ইহা নিঃসন্দেহে একটি বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য। এই বৈশিষ্ট্যটি একেক নবির মধ্যে একেক রকমভাবে আল্লাহ তুলে ধরেছেন। যেমন, হজরত সোলায়মান (আ).-কে রহমতের বাতাস নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাটি দান করেছেন। হজরত মুসা (আ.)-এর লাঠিটি সর্পে পরিণত হবার বৈশিষ্ট্যটি দান করা হয়েছে। এভাবে প্রত্যেক নবির বেলাতেই ভিন্ন-ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের  রূপগুলো আমরা দেখতে পাই। সুতরাং বৈশিষ্ট্য আর মর্যাদা দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় বলেই মনে করতে চাই।

সগীরে  আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী  আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।

নফস ও রুহের পার্থক্য -১১

সারাটি  জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই।  এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।

               ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

তুমি নিজেকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে যেতে চেষ্টা কর, যদি শূণ্য হয়ে যেতে পার সমালোচনা ঠাঁই পাবে না । কেবলমাত্র ঠাঁই পাবে নীরবতা অথবা প্রশংসা।
                                                    --------ব্রুন বাওর।

জানিয়া রেখ, চোরও লাশের কাপড় চুরি করে। কিন্তু মাজারের গিলাপ কখনই চুরি করে না।          
                                -------বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর।

কোরানের ছাব্বিশ নম্বর সুরা শুয়ারা-র একশত বিরানব্বই হতে একশত চুরানব্বই নম্বর পর্যন্ত আয়াতে বলা হয়েছে:         ওয়া (এবং) ইননাহু (নিশ্চয়ই ইহা) লাতানজিলু (অবশ্যই নাজেল করা) রাববিল (রব) আলামিন(জগৎসমূহের)।
>এবং নিশ্চয়ই ইহা অবশ্যই নাজেল করিয়াছেন জগৎসমূহের রব।
নাজালা (নাজেল করিয়াছেন) বিহি (ইহা দিয়া, তাহার সঙ্গে, উহার দ্বারা) রুহুল (রুহ) আমিন (বিশ্বস্ত)।
>নাজেল করিয়াছেন ইহার সঙ্গে বিশ্বস্ত রুহ।
আলা(উপর) কালবিকা (আপনার কলবের) লিতাকুনা (যেন আপনি হন) মিনাল(হইতে) মুনজিরিন (সাবধানকারীদের)
>আপনার কলবের উপর যেন আপনি হন সাবধানকারীদের হইতে।
এই আয়াত তিনটির দর্শন তথা ভাবধারাটি খুবই গভীর এবং রহস্যময়। ধ্যানসাধনার মাধ্যমে আপনার সাথে সূক্ষ্ম  বীজরূপে তথা রুহরুপে যে আল্লাহ অবস্থান করেন তাঁকে রবরূপে তথা প্রতিপালকরূপে দর্শন লাভ করতে পারলেই পবিত্র নফসের মধ্যে যে খান্নাসরূপী আবরণটি থাকে, সেই আবরণের পর্দা ছিন্ন করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনরূপে তথা জগৎসমূহের রবরূপে প্রকাশিত হন এবং তখনই ইহাকে বলা হয় নিরাপত্তা দানকারী রুহ নাজেল করা। এ জাতীয় সাধকেরাই মহাপুরুষ তথা জগৎগুরু এবং এঁরাই সত্যের প্রত্যক্ষদর্শী হন এবং সেই কারণেই আমজনতার নিকট সাবধানকারী বলে পরিচিতি লাভ করেন। ইহা কোনো বৈষয়িক বিষয়ের উল্টা-পাল্টা সাংঘর্ষিক দর্শন নয়, কারণ বৈষয়িক দর্শন যতই মজবুত হোক না কেন, একটি ব্যক্তি-জীবনের সামনে খুব বেশি হলে আশি-নব্বই বছর মোহ বিস্তারের নকল সত্য বলে মনে হয়, তারপর সব শেষ। যে-সকল সাধকেরা আল্লাহকে রবরূপে পাবার ধ্যানসাধনায় বিরাট ধৈর্যধারণ করেন, সেই সাধকদের উপর রাব্বুল আলামিন তথা আপন রব যখন প্রকাশিত হন তখনই তিনি দর্শন দান করেন বিশ্বরবরূপে। সাধকের পবিত্র নফস হতে যখন খান্নাসরূপী শয়তানের পর্দাগুলি তথা আবরণগুলি এক-একে ছিন্ন করে ফেলা হয় তখনই রবরূপে জগৎময় তিনিই মূর্তিমান তথা প্রতিভাত হয়ে উঠেন সাধকের অন্তরে তথা নফসে। আসলে উলঙ্গ সত্য কথাটি বলতে গেলে বলতে হয় যে, রুহুল আমিন হলেন মহানবির আপন আধ্যাত্মিক প্রতিচ্ছবি। ইহা জগৎময় ব্যক্তও হতে পারে আবার যে কোনোরূপ মূর্তি ধারণ করতেও পারে। ইহা স্থান-কালের (টাইম অ্যান্ড স্পেস) সব রকম মানুষের আদি এবং আসল রূপ। এই রূপের মাঝে প্রত্যাবর্তন করাই মানবজীবনের পরম এবং চরম সার্থকতা। আল্লাহর নিকট মানুষের প্রত্যাবর্তণ করার তথা ফিরে আসার অর্থটিও ইহাই ।
রুহ নাজেল করা অর্থে যদি জীবনীশক্তি দান করা অথবা প্রাণের সঞ্চার করা অর্থে তফসির করা হয় তাহলে জীবনীশক্তি দান অথবা প্রাণসঞ্চার কেবলমাত্র মানুষ কেন তিনি তো সকল জীবকেই দান করে থাকেন। ইহা ছাড়া 'মোলাকাৎ দিবস সম্বন্ধে জনগণকে সাবধান করবার জন্যেই রুহ দান করেন।' এখানে প্রাণ অর্থে রুহ শব্দটিকে গ্রহণ করলে কথা ও ভাবের দর্শনের মিলটি তো খুঁজে পাওয়া যায়ই না, বরং সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়।
পরিশেষে, ওই একই কথা বারবার বলতে হচ্ছে যে, জিবরাইল যদি ফেরেশতা হয়ে থাকে এবং জিবরাইল তো সত্যিই একজন ফেরেশতা-- আমরা দেখতে পাই যে –কোনো ফেরেশতাকেই নফস এবং রুহ দেওয়া হয় নাই। তা হলে জিবরাইল নামক ফেরেশতাটিকে রুহের স্থলে কেমন করে দাঁড় করানো যায় উহা আমাদের জানা নেই।

কোরান-এর বত্রিশ নম্বর সুরা সাজদার – নয় নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
 সুমমা (তারপর) সাওয়াহু(তাহাকে সুন্দর চেহারাযুক্ত  করিয়াছেন, তাহাকে অঙ্গসৌষ্ঠব-বিশিষ্ট করিয়াছেন, তাহাকে সুগঠিত করিয়াছেন, তাহাকে সুঠাম করিয়াছেন, তাহাকে সুষমভাবে তৈরি করিয়াছেন, তাহাকে সুসংবদ্ধ পূর্ণাঙ্গ করিয়াছেন) ওয়া (এবং) নাফাখা(ফুৎকার করিয়াছেন , ফুঁকিয়া দিয়াছেন) ফিহি (উহার মধ্যে, তাহার মধ্যে) মির (হইতে) রুহিহি (তাঁহার [আল্লাহর] রুহ) ওয়া (এবং) জাআলা (দিয়াছেন) লাকুমুস (তোমাদের জন্য) সামআ (শ্রবণ শক্তি , শুনিবার শক্তি) ওয়াল (এবং ) আবসারা (দর্শন শক্তি .দেখিবার শক্তি) ওয়াল(এবং) আফয়িদাতা (অন্তঃকরণ,হৃদয়, মন, অনুভূতি, অন্তর) কালিলাম (কম, অল্প সামান্য)  মা (যাহা) তাশকুরুন (তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তোমরা উপকারীর উপকার স্বীকার করো)।
>তারপর তাহাকে সুঠাম করিয়াছেন এবং ফুৎকার করিয়াছেন তাহার মধ্যে তাঁহার [আল্লাহর] রুহ হইতে এবং দিয়াছেন তোমাদের জন্য শ্রবণ শক্তি এবং দর্শন শক্তি এবং অন্তঃকরণ । যাহা কমই তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।

এই আয়াতের ব্যাখ্যাটি লিখতে গিয়ে মনে হবে রুহকে নফসরূপে তথা প্রাণরূপে গ্রহণ করতে গিয়ে বিরাট ভুল করা হয়. কিন্তু তাহার মধ্যে “আল্লাহর নফস হইতে “ বলা হয় নাই, বরং বলা হয়েছে ‘ফিহি মির রুহিহি’ তথা তাহার মধ্যে তাঁহার তথা আল্লাহর রুহ হইতে। এই একটি মাত্র আয়াতে রুহকে প্রাণরূপে গ্রহণ করবার সমূহ বিপদ থেকে যায়, কিন্তু প্রাণ বলতে নফসকে বোঝানো হয়, কিন্তু এখানে নফস না বলে ‘আল্লাহর রুহ হতে’ বলা হয়েছে। তা ছাড়া আল্লাহর নফস তথা প্রাণ থাকার প্রশ্নই উঠতে পারে না, কারণ নফস তথা প্রাণকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয় তথা একবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয় তথা মৃত্যুর স্বাদ গহণ করতে হয়। অথচ রুহুকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করার কথাটি কোরানে-এ একটি বারও বলা হয় নি, তবে এই আয়াত দ্বারা এই কথাটুকু পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে আল্লাহ তাঁর রুহকে বীজরূপে দান করেছেন।  তা ছাড়া পূর্ণাঙ্গ রুহরূপে গ্রহণ করে নিতে গেলে সব মানুষই পরিপূর্ণ রুহপ্রাপ্ত হয়েছে বলতে হয়, কিন্তু ইহা একেবারেই অসম্ভব। রুহকে নুরের মুহাম্মদির মূূর্তিমান রুপও বলা যেতে পারে, কারণ রুহ-এর পরিপূর্ণ বিকাশটি নুরে মুহাম্মদির মধ্যেই পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়। রুহ ফুৎকার অর্থে প্রাণ ফুৎকারের কথাটি আসতেই পারে না। শ্রবণ, দর্শন ও অন্তঃকরণ শব্দগুলোর দ্বারা বাহ্যইন্দ্রিয় অনুভুতিটি বোঝায়। আল্লাহকে রবরূপে গ্রহণ করে ধ্যানসাধনা করে নফসের সঙ্গে খান্নাসের আবরণরূপী  আমিত্বের পর্দাটি সরিয়ে দিতে পারলেই রবকে জাগ্রত করে তোলা যায় এবং তখনই নফসের উপর রুহের আলোকিত রুপটি প্রকাশিত হয় এবং ইহাকেই নুরে মুহাম্মদি বলা হয় এবং অন্য ভাষায় বলা যেতে পারে যে, নুরে মুহাম্মদির মোড়কে (সিল) নফসকে আবৃত ও সুরক্ষিত করে নেন। তা ছাড়া রুহ নিক্ষেপ করবার কথাটি কেমন করে কোরান-এ বলা হয়েছে? বাহির হতে কোনো কিছু আসলে উহাকে নিক্ষেপ বলা যেতে পারে। আল্লাহ তো প্রতিটি মানুষের মাঝে রবরূপে বিরাজ করেন, কিন্তু মানুষ তার নিজের রবের পরিচয় পায় না ততক্ষণ, যতক্ষণ তিনি বিকশিত হয়ে আপন পরিচয় দান না করেন। রুহের বীজ প্রতিটি মানুষের মধ্যে সুপ্ত আছে, কিন্তু উহা মানুষের জানা নাই। উহা কেবল সন্ধান করলেই পাওয়া যায় না, সন্ধানকারীর প্রতি আল্লাহর বিশেষ রহমত হলেই সন্ধান মেলে। যদিও রুহ মানুষের ভিতরেই বীজরূপে অবস্থান করার পর নিক্ষেপ করা অথবা নাজেল করার কথাটি কোরানে প্রকাশ করা হয়েছে, এই নিক্ষেপ করা অথবা নাজেল করার কথাটির দ্বারা পরিপুর্ণ রুহের বিকশিত রূপটিরই পরিচয় পাওয়া যায়। রুহকে পরিপূর্ণরূপে জাগ্রত করে যখন রুহের দ্বারা নফসকে চালনা করা হয় সেই অবস্থাটিকেই রুহ নিক্ষেপ করা বলা হয়েছে। নফসের খান্নাস–রূপী কর্তৃত্বের আমিত্বটি যখন ধ্যানসাধনার মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ রহমতে সরে পড়ে তখনই নফসের উপর রুহের নিক্ষেপ করা অথবা নাজেল  হওয়া কথাটি বলা হয়ে থাকে । তাছাড়া রুহ সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলে শুধু এটুকুই বলেছিলেন ‘কুলুর রুহ মিন আমরি রাববি’- তথা রুহ আমার রবেরই আদেশ হতে আগত। এ জন্য রুহকে সৃষ্টি চিনতে পারে না। সৃষ্ট বুদ্ধি রুহকে ধারণা করতে পারে না বলেই জটিলতার পাকে পড়ে যায়। সুতরায় রুহ রহস্যময় এবং এই রহস্যময় বিষয়টিকে কথায় অথবা ভাষায় বোঝানো যায় না।
 কোরান-এর সতের নম্বর সুরা বনি ইসরাইল –এ পঁচাশি নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
ওয়া (এবং, আর, ও) ইয়াসআলু (তাহারা প্রশ্ন করে, তাহারা জিজ্ঞাসা করে, তাহারা জানিতে চায়, তাহারা শুধায়) নাকা (আপনাকে,তোমাকে, তোকে) আনি (সম্পর্কে , সম্বন্ধে, বিষয়ে) রুহি (রুহ [ইহার ইংরেজি অথবা বাংলা অথবা অন্য কোনো ভাষায় প্রতিশব্দটি নাই।]
>এবং আপনাকে রুহ সম্পর্কে তাহারা প্রশ্ন করে।
>কুল (বলুন) রহু (রুহ , ইহার কোনো প্রতিশব্দ নাই) মিন (হইতে , থেকে, চেয়ে) আমরি (নির্দেশ,  আদেশ , হুকুম) রাববি (আমার রবের, আমার প্রতিপালকের, আমার সদাপ্রভুর—যে প্রভু আমার সঙ্গে সব সময় অবস্থান করেন উহাকেই একবচনে সদাপ্রভু বলা হয়[একটু খেয়াল করুন, এখানে ‘রাববি’ তথা ‘আমার রব’ বলা হয়েছে, কিন্তু রাববানা তথা আমাদের রব বলা হয় নাই অথবা রাববুকুম বা তোমাদের রব তথা তোমাদের প্রতিপালকও  বলা হয় নাই অথবা রাবুবকা অর্থাৎ ‘তোমাদর রব’ তথা তোমদের প্রতিপালকও বলা হয় নাই অথবা রাববুকা অর্থাৎ তোমার রব তথা তোমার প্রতিপালকও বলা হয় নাই। কারণ, রাববি, রাববানা, রাববুকা, রাববুকুম – এই কথা গুলোর মাঝে গোপন রহস্যটি লুকিয়ে আছে. যাহা সহজে ধরা যায় না]) ওয়া (এবং , আর, ও) মা (না) উতিতুম (তোমাদেরকে দেওয়া হইয়াছে, তোমাদেরকে দান করা হইয়াছে, তোমাদেরকে আতা করা হইয়াছে) মিনাল ( হইতে, থেকে, চেয়ে) ইলমি (জ্ঞান, শিক্ষা, বিদ্যা, পরিচিতি, তথ্য) ইললা (একমাত্র, কিন্তু, ব্যতীত)  কালিলান (সামান্য, অল্প,অতিঅল্প, কম, একটু, কিছুটা, ঈষৎ, কিঞ্চিৎ)।
>বলুন , রুহ আমার রবের আদেশ হইতে এবং তোমাদের দান করা হইয়াছে জ্ঞান হইতে সামান্য ব্যতীত নয়।
মহানবিকে রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মহানবি বললেন যে, রুহ হলো আমার রবের হুকুম তথা আদেশ। জ্ঞান ব্যতীত মানুষ সত্যের অতি সামান্যই বুঝতে পারে। আবার, এই কথাটিও বলে দেওয়া হলো যে, বিশেষ করে রুহের বিষয়টির জ্ঞান দান করা হয়েছে অতি সামান্য। অতি সামান্য তথা অতি অল্প জ্ঞান দেবার কথাটি রুহ বিষয়ে কেন বলা হলো? কারণ রূহ অতীব সুক্ষ্মরূপে-যাকে আমরা বীজরূপে অবস্থানের কথাটি বলে থাকি সেই বিষয়টির পরিপূর্ণ জ্ঞান না থাকাটাই স্বাভাবিক, সুতরাং আপন পবিত্র নফসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে  জড়িয়ে দেওয়া  হয়েছে। একে তো রুহ বিষয়ে অতি অল্প জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তার উপর খান্নাসের অনেক ধরনের প্রতারণার জাল পাতা থাকে। সুতরাং, খান্নাসের প্রতারণার জালগুলো যখন সাধকেরা হেরা গুহার মতো নির্জনে একাকী  বছরের পর বছর ধ্যানসাধনা করে সম্পূর্ণরূপে তাড়িয়ে দিতে পারেন তখনই নফসের উপর রুহ পরিপূর্ণরূপে উদ্ভাসিত হয় এবং তখনই একজন সাধকের নফসটিকে রূপক ভাষায় চন্দ্রগ্রহণ অথবা সূর্যগ্রহণের মতো গিলে ফেলে এবং তখনই সাধক কেবলই রুহের অবস্থানটি দেখতে পান এবং নিজেকে হারিয়ে ফেলেন এবং তখনই সাধক বিভিন্ন ভাষায় বলে ফেলেন: আনাল হক – তথা, আমিই সত্য; আনা সুবাহানি মা আজামুশশানি –তথা, আমিই সুবাহানি, সব শান আমারই; লাইসা ফি জুব্বাতি সেওয়া আল্লাহ তায়ালা—তথা
, এই জোব্বার ভেতর আল্লাহ ছাড়া কিছুই নাই, না দিদাম মোস্তফারা বালকে খোদারা-তথা, মোস্তফা-রূপ ধারণ করেই আল্লাহকে দেখলাম, সোহহম সোহমি- তথা, তিনিই আমি- আমিই তিনি –এভাবে অনেক-অনেক উদাহরণ সুফিদের মধ্যে  পেয়ে থাকি। সুতরাং খান্নাসমুক্ত জ্ঞান ব্যতীত মানুষ সত্যটির সামন্যই বুঝতে পারে এবং এ-জন্যই বলা হয়েছে যে, মানুষকে যে-জ্ঞান দান করা হয়েছে ওটা অতি সামান্য। সুতরাং, রুহ বিষয়ে অনেক রকম কথা দিয়ে অধিক কিছু জানতে চাওয়া বৃথা। তাই অনেক ওলি-আল্লাহ বলে থাকেন যে, রুহের আসল পরিচয়টি জানবার আগ্রহটি যাদের নাই তারা শিক্ষিত বটে, জ্ঞানীও বটে, কিন্তু মানুষ হতে পারেনি।

সগীরে  আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী  আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।
নফস ও রুহের পার্থক্য - ১২

সারাটি  জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই।  এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।

               ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

নকশেবন্দি- মুজাদ্দেদি তরিকা, চিশতিয়া-কাদেরিয়া তরিকা, আবু - উলাই তরিকা, কালান্দারিয়া তরিকার শান গেয়েই গেলেন , শান না গাইলেও কিছু আসে যায় না। প্রশ্ন হলো? আপনি তো তিন নম্বর ছাগলের বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে শুধু লাফালাফিই করেই গেলেন।
                ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

 আমার পীর বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীরের সঙ্গে অন্য পীরের তুলনা করাই যায় না। কারণ, কোরানে ২১ বার রুহ বিষয়ে বলা হয়েছে, এবং এই ২১ বারই একবচনে বলা হয়েছে রুহের বহুবচন নাই । রুহ ফুৎকার করা হয়– নফস নয় । এই বিষয়ে অবাক করা ব্যাখ্যাটি সমগ্র পৃথিবীতে আমার বাবাই দিয়ে গেছেন। কথাটি শুনতে ভাল লাগবে না, কিন্তু আসলে ইহা একটি তিক্ত সত্য কথা।  আমার পীর বাবার পঁচিশটি বই কোরানের পনের পারার অনুবাদ কিছুটা ব্যাখ্যা এবং আট জি.বি তেষট্টি ঘন্টার মেমোরিকার্ডটি শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন আমার কথার সত্যতাটি।
                -------শাহ সূফি ময়েজউদ্দিন আল সুরেশ্বরী।

যারা অজানা কিছু জানতে আগ্রহী
তাদেরকে বলছি, সবাইকে নয়।

তোমার পীর যত বড় পীরই হোক না কেন
যদি তুমি তার থেকে সত্য না পাও তবে
ফেলে দাও তাকে। কারণ পীর এখানে মুখ্য
বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হলো সত্য পাওয়া।
সত্য হলো আল্লাহর রহস্য লোকের কিছু জানা।
সুরেশ্বরীর শান কত বড় রে, ভান্ডারীর শান
কত বড় রে, খাজা বাবার শান কত বড় রে,
শান বললেও আছে, না বললেও আছে, তুমি
কি ঘোড়ার ডিমটা পাইলা। তুমিতো বকরির
তিন নম্বর বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে পীরের
বাড়িতে গিয়ে শুধু লাফালাফিই করে গেলা।

আসো বসো মুরিদ হও, ধ্যান-সাধনা কর, যদি
আল্লাহর রহস্যলোকের কিছুই না পাও
আমাকে ফেলে চলে যাও। এখানে পীর বড়
নয় এখানে সত্য বড়। সারা জীবন বাবা
বাবা ডাকবা পাইবা না ঘোড়ার ডিমও
সেই বাবা ডাইকা কোন লাভ নাই।
              --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

আমার চাওয়া-পাওয়াটি কী ছিল? আমি তা নিজেই জানতে পারলাম না। এমনকি মরনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত।
~হযরত সাকীব

যে পীর মুরিদের ধন-সম্পদের দিকে তাকায় বলে দাও সে দুনিয়াদার মরদুদ (মরদুদ শয়তান)
                --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

গোত্রের দ্বারা বিমোহিত হবার থেকে মুক্ত থাকবার জন্য ব্যক্তিকে সবসময় সংগ্রাম করতে  হয়েছে । যদি তুমি এই চেষ্টা কর, তোমাকে প্রায়ই নিঃসঙ্গ হয়ে যেতে হবে। কখনও তোমাকে ভয় দেখানোও হবে। কিন্তু নিজেকে লাভ করবার যে সুবিধা সেটা পাবার জন্য কোনো মূল্যই খুব বেশি নয়।
                                         ---------ফ্রেডারিক নিটশে


আল্লাহর প্রত্যেক ওলি যাদেরকে আমরা মহামানব বলে থাকি তাঁরা রুহুল্লাহ তথা আল্লাহর রুহ। কিন্তু এখানে একটি বিরাট কথা থেকে যায়, আর সেই কথাটি হলো, সাধক যখন নফস হতে খান্নাসকে মুক্ত করতে পারেন তখনই রুহুল্লাহ হন, তবে  যারা মাসুম , মহানবির আওলাদেরা এবং সকল নবিই আজন্ম রুহ প্রাপ্ত, যদিও হজরত ইসা (আ.) তথা যিশুখ্রিস্টকে সাধারণভাবে রুহুল্লাহ বলা হয়ে থাকে এবং যেহেতু কোরান-এ বলা হয়েছে 'আমরা ইসাকে – রুহুল কুদ্দুস দ্বারা শক্তিশালী করেছিলাম।' এই কথাটির দ্বারা অনেকেই ভুল করে বসেন , কারণ ইহাতে হজরত ইসা নবির শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হয় না বরং বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ হয়। এই রুহের পরিপূর্ণ বিকাশটিকেই আবার নুরে মুহাম্মদির ভাণ্ডার বলা হয়।
একটি বিখ্যাত হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে যে, মানবদেহের মাঝে কলব আছে। কলবের মাঝে আছে 'ফুয়াদ' অর্থাৎ অনুভূতিও চিন্তার বিচিত্র গতিপ্রবাহ। এই ফুয়াদের মধ্যে রুহ উদ্ভাসিত হয় তখনই যখন ফুয়াদ খান্নাসমুক্ত হয় । রুহের মাঝে আছে 'সেরর' তথা রহস্য। সেরর তথা রহস্য। সেরর তথা রহস্যের মাঝে আছে ‘নুর’ তথা নুরে মুহাম্মদি । নুরে মুহাম্মদির মধ্যে আছে 'আনা' তথা 'আমিই আমি'। আল্লাহ বলেছেন, নুরের মাঝে শুধু আমিই আছি।
এখানে যারা মহানবিকে প্রশ্ন করছে তারা কমবেশি বিদ্যাবুদ্ধির অধিকারী । কিন্তু রুহ বিষয়ে প্রশ্ন করার সঙ্গে-সঙ্গে আল্লাহ মহানবিকে বলে দিলেন এই বলে যে, রুহ হলো আমার প্রতিপালকের আদেশ। তারপর বলা হলো, এই রুহ বিষয়ে তোমাদেরকে অতি সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে। কেন আল্লাহ রুহ বিষয়ে অতি সামান্য জ্ঞান দান করলেন এই বিষয়টি নিয়ে খুব কমই গবেষণা  করা হয়ে থাকে। আর গবেষণা করলেই বা লাভ কী, কারণ যত গবেষণাই করা হোক না কেন উহার ফলটি যে অতি সামান্য হতে বাধ্য ইহা তো আল্লাহ আগেই বলে দিয়েছেন। তবে যারা ধ্যানসাধনার মোরাকাবা-মোশাহেদার দায়েমি সালাতে নির্জনে একাকি বিরাট ধৈর্যধারণ করে সাধনাটি করতে পারেন এবং যদি আল্লাহর বিশেষ রহমতটি দান করা হয় তবেই রুহের প্রকৃত পরিচয়টি জানা যায়, বোঝা যায় এবং ইহাই আইনুল ইমান অথবা হাককুল ইমান তথা যে-ইমানটির এদিকে-সেদিক হবার অথবা যাওয়া-আসার সম্ভাবনাটি আর থাকে না। এই ইমানের অধিকারীদেরকেই মোমিন বলা হয়ে থাকে। এই ইমানের বাহিরে যারা ইমান রাখে তাদেরকেই আমানু বলা হয়। তাই আমরা দেখতে পাই, কোরান-এর ২৬৫ টি আয়াতে আমানু শব্দটি মোট ২৭৮ বার উল্লেখ করা হয়েছে । অথচ পরক্ষনে মোমিন শব্দটি কোরান-এর ১৪১ আয়াতে মাত্র ১৫১ বার উল্লেখ করা হয়েছে । যে-মানুষটি নফসে মোৎমায়েন্নার অধিকারী হতে পেরেছেন তিনিই মোমিন এবং জান্নাতের সুসংবাদটি তাকেই দেওয়া হয়েছে। রুহ যে স্বয়ং আল্লাহ রব-রূপে প্রতিটি মানুষের সঙ্গে শাহারগের নিকটেই তথা জীবন-রগের কাছেই অবস্থান করছেন সেই জ্ঞানটি অতি অল্পসংখ্যক মানুষই বুঝতে পারেন। কারণ অতি অল্পসংখ্যক মানুষই ধ্যানসাধনার মোরাকাবা-মোশাহেদার দায়েমি সালাতে ডুবে থাকেন। আর আমরা সবাই ছরছর করি। সুতরাং, রুহের পরিচয়টি জানবার ইচ্ছাটি যার প্রবল তিনি অবশ্যই ধ্যানসাধনার দিকে এগিয়ে যাবেন। মানুষ বৈষয়িক বিষয়ের চাকচিক্যময় লোভ-মায়ার আকর্ষণে খান্নাসের কুমন্ত্রণায় বিভোর হয়ে থাকে। তাই রুহ বিষয়টি কেমন করে জানতে পারবে?
কোরান -এর দুই নম্বর সূরা বাকারার দুইশত তিপ্পান্ন নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:  তিলকা(ওই) রসুলু (রসুলেরা, রসুলগণ) ফাদদালনা (আমরা ফজিলত দিয়াছি, আমরা মর্যাদা দিয়াছি, আমরা শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছি) ‍বাদাহুম (তাহাদের কেহ কেহ ) আলা (উপর) বাদিন (অংশ, টুকরা, সম্পূর্ণ বস্তুর কিছু অংশ, কিছু, কাহারও)।
 ওই রসুলগণ আমরা ফজিলত দিয়াছি তাহাদের কাহাকেও কাহারও উপর।
মিনহুম (তাহাদের মধ্য হইতে) মান (কাহারও ,কেহ) কাললামা (কথা বলিয়াছেন) আল্লাহু (আল্লাহ ) ওয়া (এবং) রাফাআ( ঊর্ধ্বে স্থাপন করিলেন, উপরে উঠাইলেন, উঠাইলেন) বাদহুম (তাহাদের কেহ-কেহ) দারাজাতিন (মর্যাদা, ধাপ, সিঁড়ি) ।
তাহাদের মধ্য হইতে আল্লাহ কথা বলিয়াছে কাহারও (সাথে) এবং মর্যাদায় ঊর্ধ্বে স্থাপন করিলেন তাহাদের কেহ-কেহকে।
ওয়া (এবং) আতাইনা (আমরা দান করিয়াছি) ইসা (ইসাকে) ইবনা (পুত্র) মারিয়ামা (মারিয়মের) বাইইনাতি (খোলা চিহ্নসমূহ, উজ্জ্বল প্রমাণ) ওয়া(এবং) আইয়াদনাহু (আমরা তাহাকে সাহায্য  করিয়াছি, শক্তি দিয়াছি) বিরুহি (রুহের দ্বারা ) কুদুসি (খুব পবিত্র, পবিত্র সত্তা)। এবং আমরা দিয়াছি মরিয়মের ছেলে ইসাকে উজ্জ্বল প্রমাণ এবং আমরা তাঁহাকে (ইসাকে) সাহায্য করিয়াছি খুব পবিত্র রুহের দ্বারা।
 ওয়া (এবং) লাও (যদি ) শাআ (চাইতেন, ইচ্ছা করিতেন) আল্লাহু (আল্লাহ) মা (না) ইকতাতালা (সে যুদ্ধ করিল, পরস্পর যুদ্ধ করা) আললাজিনা (যাহারা ) মিন (হইতে) বাদি (পরে) হিম (তাহাদের ) মিমবাদি (হইতে পরে) মা (যাহা) জাআতহুমু (তাহাদের কাছে আসিয়াছিল) বাইইনাতু (উজ্জ্বল প্রমাণ) ওয়ালাকিনি (এবং কিন্তু) ইখতালাফু (তাহারা মতভেদ করিল, তাহারা মতবিরোধ করিল) ফামিনহুম(সুতরাং তাহাদের মধ্য হইতে) মান  (যে , কেহ, কাহারও ) আমানা (ইমান আনিয়াছে, ইমান আনিল) ওয়া (এবং) মিনহুম (তাহাদের মধ্য হইতে) মান (কেহ) কাফারা (কুফরি করিল,অস্বীকার করিল)
এবং যদি আল্লাহ ইচ্ছা করিতেন তাহারা পরস্পর যুদ্ধ করিত না তাহাদের পর হইতে যাহারা, যাহা তাহাদের কাছে উজ্জ্বল প্রমাণগুলি আসিয়াছিল ইহার পরেও এবং কিন্তু তাহারা মতবিরোধ করিল সুতরাং তাহাদের মধ্য হইতে কেহ ইমান আনিল এবং তাহাদের মধ্য হইতে কেহ কুফরি করিল।
ওয়া (এবং ) লাও (যদি) শাআ (ইচ্ছা করিতেন) আল্লাহু (আল্লাহ ) মা (না ইকতাতালু (তাহারা একে–অপরকে হত্যা করিত)।
 এবং যদি আল্লাহ ইচ্ছা করিতেন তাহারা এক–অপরকে হত্যা করিত না ।
> ওয়া (এবং) লাকিননা (কিন্তু) আল্লাহ (আল্লাহ) ইয়াফ্আলু (করেন) মা (যাহা) ইউরিদু (তিনি চাহেন)।
>এবং কিন্তু আল্লাহ করেন যাহা চাহেন।
এই আয়াতে আল্লাহ নিজেই ঘোষণা করছেন এই বলে যে, রসুলগণের মধ্যে তিনি ফজিলতের প্রশ্নে কিছুটা কম-বেশি করেছেন। অথচ এই সুরা বাকারাতেই আল্লাহ তাদেরকে তথা মানুষদেরকে রসুলগণের সাথে ছোট-বড় করার ভাগ করতে নিষেধ করে দিয়েছেন। আমরা এই কথাটুকুর মাঝে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে আল্লাহ মর্যাদার প্রশ্নে তথা ফজিলতের বিষয়ে রসুলগনের মধ্যে একজন হতে আরেকজনকে মর্যাদাবান বেশি করেছেন। যেহেতু এই মর্যাদার বিভাজনটি রসুলগণের মধ্যে তিনিই করেছেন সেইহেতু কোন কিছু বলার এবং অভিযোগ করার প্রশ্নটি অবান্তর। অথচ আমাদেরকে রসুলগনের মধ্যে ছোট-বড় করতে মানা করে দিয়েছেন। কারণ, যদিও  রসূলগণ আমাদেরই মতো অথচ রসুলগণ মোটেও আমাদের মতো নহেন। যেহেতু রসুলেরা আমাদের মতো নহেন সেই হেতু আল্লাহ আমাদেরকে ছোট-বড় করতে তথা পার্থক্য করতে মানা করে দিয়েছেন।
আবার আল্লাহ বলেছেন, রসুলগণের মধ্যে তিনি কারো সঙ্গে কথা বলেছেন। এই কথাটির গভীর রহস্য অধম লেখকের পরিষ্কার জানা থাকলেও অপরিষ্কারের ভান করে বলতে হচ্ছে যে তিনি (আল্লাহ )রাসুলদের মধ্যে অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছেন। আবার তিনি বলছেন যে উচ্চমর্যাদার প্রশ্নে রসুলগণের মধ্যে কাহাকেও উচ্চমর্যাদাটি দান করেছেন। তারপর আল্লাহ বলেছেন, মরিয়মপুত্র হজরত ইসা রুহুল্লাহ (আ)-কে উজ্জ্বল প্রমাণ দান করেছেন । এখন প্রশ্ন হলো, এই উজ্জ্বল প্রমাণ (বাইইনাত) বলতে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন? অধম (বাইইনাত) বলতে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন? অধম লেখকের মনে হয় যে এই উজ্জ্বল প্রমাণটি হলো হজরত ইসা রহুল্লাহ (আ.) দোলনাতে শুয়ে –শুয়েই কথা বলতেন। তিন দিনের শিশু অবস্থায় আর কোনো রসুল কথা বলেছেন কিনা উহা অধম লেখকের জানা নাই। কিন্তু হজরত ইসা রুহুল্লরাহ (আ.) যে জন্মগ্রহণ করেই কথা বলতে শুরু করেছেন ইহার জ্বলন্ত দলিলটি আমরা কোরান-এই পাই।  কথিত আছে যে, দোলনায় শুয়ে- শুয়ে শিশু ইসা রুহুল্লাহ (আ.) যখন মানুষদের সঙ্গে কথা বলতেন তখন সেই মানুষেরা অবাক বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে যেত এবং ভক্ত তথা মুরিদ হয়ে যেত। তারপরে আবার মরিয়ম পুত্র ইসাকে রহুল কুদ্দুস  তথা অতি পবিত্র রুহ দ্বারা শক্তিশালী করার কথাটিও বলা হয়েছে। অধিকাংশ তফসিরকারকেরা রুহুল কুদ্দুসের অর্থটি  বুঝতে না পেরে অনুমানের গুলমারা বিদ্যাটি জাহির করে ফেলেছেন। আর সেই গুলমারা বিদ্যাটি হলো, রুহুল কুদ্দুস বলতে তারা ফেরেশতা জিবরাইলের কথাটি উল্লেখ করেছেন। হায় রে খোদা!  এরা কি এটুকু বেমালুম ভুলে গেছেন যে, জিবরাইল ফেরেশতার নফসও নাই এবং রুহও নাই তথা নির্বাচন করার অধিকার হতে ফেরেশতারা সম্পূর্ণ ভাবে বঞ্চিত । আসলে ফেরেশতা জিবরাইলের নাম যদি রুহুল কুদ্দুস দেওয়া হয় তা হলে ইহা অনেকটা কানা ছেলের নাম পদ্মলোচনের মতো শোনায়, তথা চোখই নাই অথচ কী সুন্দর অপূর্ব চোখ দুইটি । বুকে হাত রেখে বিবেককে ফাঁকি না দিয়ে একবার ভাবুন তো যে, আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে কোনো নফস এবং কোনো রুহ দান করেন নি। আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টজীবকে আল্লাহ নফস দান করেছেন, কিন্তু রুহ দান করেন নাই-একমাত্র মানুষ এবং জিন ছাড়া। তাই আমরা দেখতে পাই , মানুষের মধ্যে যে –রকম আল্লাহর ওলি হয়, তেমনি জিনের মধ্যেও আল্লাহর ওলি হয় । যেহেতু জিনজাতির সঙ্গে আমাদের তথা মানুষদের সঙ্গে পরিচয় না বললেই চলে তাই ইচ্ছা করেই জিনজাতির কথাটি বাদ দিয়ে যাই। আমরা জানি, ফেরেশতারা অতি পবিত্র, কিন্তু সর্বশ্রেষ্ঠ নহে । সর্বশ্রেষ্ঠ হলো মানুষ। তাই মানুষকে আল্লাহ 'আশরাফুল মাখলুকাত'- তথা সৃষ্টির স্রেষ্ঠ জীব বলে আখ্যায়িত করেছেন । ফেরেশতারা অতি পবিত্র হয়েও এই সর্বশ্রেষ্ঠ গুণটির ধারের-কাছেও নাই। কারণ, নির্বাচন করার ক্ষমতাটি ফেরেশতাদেরকে দেওয়া হয় নি। নির্বাচন করার কথাটি তখনই আসে যখন ভালো এবং মন্দের মিশ্রণ করা হয়। ভালো-মন্দের অধিকারটি দান করলেই সীমিত স্বাধীন ইচ্ছা শক্তিটিও দান করা হয়ে যায়। কারণ, কান টানলে মাথা আপনিই আসবে। আল্লাহর এত বড় –বড় জ্বলন্ত প্রমাণসমূহ দেখার পরেও মানুষ উহা হতে শিক্ষা গ্রহণ না করে বরং পরস্পর হিংসা, বিদ্বেষ, মারামারি, হত্যাযজ্ঞ এমনকি  ভয়ঙ্কর যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছে বারবার। ইহা মানবজাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কের তিলক হয়ে আছে এবং থাকবে। তাই এই সীমিত ইচ্ছা শক্তিটি দান করার দরুন কেহ ইমান আনবে, কেহ সরাসরি কুফরি করবে। ভালো এবং মন্দের এই লীলাখেলাটি যুগ-যুগ ধরে চলে আসছে অনেক রূপ ও রঙ্গে এবং অনেক রকম লেবাসে।যেহেতু আল্লাহ মানুষকে সীমিত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিটি দান করেছেন তথা নির্বাচন করার অধিকারটি দিয়েছেন সেই হেতু আল্লাহ ইহার উপর হস্তক্ষেপ করেন না। যদি হস্তক্ষেপ করতেন তাহলে এই হত্যাযজ্ঞের লীলাখেলাটির চিরতরে অবসান হতো। এখানে অনেকেই আল্লাহকে গোপনে দোষ দিতে চায় । কিন্তু অধম লেখক নিরপেক্ষ মনে বলছি যে , স্বাধীনতা দেবার পর যদি উহ হরণ করা হয় তা হলে এই স্বাধীনতার মর্যাদাটি থাকে কোথায় ? সুতরাং সর্বপ্রকার দোষ হতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জাল্লাশানাহু সম্পূর্ণ মুক্ত।

সগীরে  আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী  আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।
নফস ও রুহের পার্থক্য - শেষ পর্ব।

সারাটি  জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই।  এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।

               ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

নকশেবন্দি- মুজাদ্দেদি তরিকা, চিশতিয়া-কাদেরিয়া তরিকা, আবু - উলাই তরিকা, কালান্দারিয়া তরিকার শান গেয়েই গেলেন , শান না গাইলেও কিছু আসে যায় না। প্রশ্ন হলো? আপনি তো তিন নম্বর ছাগলের বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে শুধু লাফালাফিই করেই গেলেন।
                ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

 আমার পীর বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীরের সঙ্গে অন্য পীরের তুলনা করাই যায় না। কারণ, কোরানে ২১ বার রুহ বিষয়ে বলা হয়েছে, এবং এই ২১ বারই একবচনে বলা হয়েছে রুহের বহুবচন নাই । রুহ ফুৎকার করা হয়– নফস নয় । এই বিষয়ে অবাক করা ব্যাখ্যাটি সমগ্র পৃথিবীতে আমার বাবাই দিয়ে গেছেন। কথাটি শুনতে ভাল লাগবে না, কিন্তু আসলে ইহা একটি তিক্ত সত্য কথা।  আমার পীর বাবার পঁচিশটি বই কোরানের পনের পারার অনুবাদ কিছুটা ব্যাখ্যা এবং আট জি.বি তেষট্টি ঘন্টার মেমোরিকার্ডটি শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন আমার কথার সত্যতাটি।
                -------শাহ সূফি ময়েজউদ্দিন আল সুরেশ্বরী।

যারা অজানা কিছু জানতে আগ্রহী
তাদেরকে বলছি, সবাইকে নয়।

তোমার পীর যত বড় পীরই হোক না কেন
যদি তুমি তার থেকে সত্য না পাও তবে
ফেলে দাও তাকে। কারণ পীর এখানে মুখ্য
বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হলো সত্য পাওয়া।
সত্য হলো আল্লাহর রহস্য লোকের কিছু জানা।
সুরেশ্বরীর শান কত বড় রে, ভান্ডারীর শান
কত বড় রে, খাজা বাবার শান কত বড় রে,
শান বললেও আছে, না বললেও আছে, তুমি
কি ঘোড়ার ডিমটা পাইলা। তুমিতো বকরির
তিন নম্বর বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে পীরের
বাড়িতে গিয়ে শুধু লাফালাফিই করে গেলা।

আসো বসো মুরিদ হও, ধ্যান-সাধনা কর, যদি
আল্লাহর রহস্যলোকের কিছুই না পাও
আমাকে ফেলে চলে যাও। এখানে পীর বড়
নয় এখানে সত্য বড়। সারা জীবন বাবা
বাবা ডাকবা পাইবা না ঘোড়ার ডিমও
সেই বাবা ডাইকা কোন লাভ নাই।
              --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

যে পীর মুরিদের ধন-সম্পদের দিকে তাকায় বলে দাও সে দুনিয়াদার মরদুদ (মরদুদ শয়তান)
    --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

খান্নাসমুক্ত আমির মাঝেই পাবে আমিকে, ঐ আমিটাই দূষিত আমি নয়। নির্ভেজাল আমির মাঝে কেবলই রুহরূপী আল্লাহ পরিপূর্নরূপে জাগ্রত হয়ে উঠে।
                           ---------মাওলানা জালাল উদ্দিন রূমি।

তুমি নিজেকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে যেতে চেষ্টা কর, যদি শূণ্য হয়ে যেতে পার সমালোচনা ঠাঁই পাবে না । কেবলমাত্র ঠাঁই পাবে নীরবতা অথবা প্রশংসা।
                                                    --------ব্রুন বাওর।

তুমি  দেখতে পাও না ধন-সম্পদে ডুবে থেকে কত অহংকারের পচা বচন শুনায় । মরে যাবার পর সেই অহংকারীর জন্য একটি কুকুরও কাঁদে না।
                            --------বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর।

জানিয়া রেখ, চোরও লাশের কাপড় চুরি করে। কিন্তু মাজারের গিলাপ কখনই চুরি করে না।          
                                -------বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর।

কোরান-এর সত্তর নম্বর সুরা মারেজ এর  চার নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে”: তারুজুল (উরুজ করে , আরোহণ করে, উপরে উঠে, ঊর্ধ্বে গমন করে, অধিরোহণ করে) মালায়িকাতু (ফেরেশতারা ) ওয়া (এবং) রুহ (রহু [রুহের প্রতিশব্দ বাংলাতেও নাই এবং ইংরেজি ভাষাতেও নাই। তবে বাংলা ভাষায় পরমাত্মা এবং ইংরেজিতে ‘স্পিরিট’ কেউ-কেউ অনুবাদ করে থাকেন]) ইলাইহি (তাহার দিকে) ফি (মধ্যে) ইয়াওমিন্ (একদিন) কানা (হয়) মিকদারুহু (যাহার পরিমাণ, যাহার মাপ, যাহার মাত্রা, যাহার ওজন, যাহার সংখ্যা,  যাহার বিস্তার, যাহার গুরুত্ব) খানসিনা (পঞ্চাশ) আলফা (হাজার ) ছানাতিন (বছর)। উরুজ করে ফেরেশতারা এবং রুহ তাহার (আল্লাহর) দিকে একদিনের মধ্যে যাহার পরিমাণ হয় পঞ্চাশ হাজার বছর। এই আয়াতে ‘উরুজ’ শব্দটির অর্থ হলো উপরে ওটা তথা ঊর্দ্ধগমন। আবার ‘উরা’ শব্দটির অর্থটি মিলনও হয়। আরবি ভাষায একটি শব্দের যে কত রকম অর্থ হয় তার কিছুটা নমুনা কোথাও-কোথাও তুলে ধরেছি। আল্লাহর সঙ্গে মিলনের জন্য আধ্যাত্মিক উর্দ্ধগতিকেও ‘উরুজ’ বলে। এই উরুজ শব্দের সঙ্গে মেরাজ নামক পরিচিত শব্দটি আমাদের জানা আছে ‘উরুজ শব্দ হতেই মেরাজ শব্দটির আগমন। ফেরেশতারা এবং রুহ আল্লাহর দিকে যে- গতিতে এগিয়ে যায় তা পৃথিবীতে বাস করা মানুষের নিকট পঞ্চাশ হাজার গুণ তিনশত ষাটদিন (হিজরি সনের গণনায়)- এই কথাটির মাধ্যমে স্থানে ও কালের (টাইম অ্যান্ড স্পেস) সীমাবদ্ধ দৈহিক গতিটিকে বোঝানো হয় নাই। কারণ, আল্লাহ স্থান এবং কালের বৃত্তের গণ্ডিতে আবদ্ধ নন। আল্লাহ কখনোই মানুষ হতে কোনো এক সুদূর স্থানে অবস্থান করেন না যার জন্য এত বড় লম্বা রাস্তটি অতিক্রম করে আল্লাহর নিকট যেতে হবে। এই গতি দৈহিক অথবা বৈষয়িক গতি (ফেনোমেনাল স্পিড)নহে । ইহা নিছক একটি আধ্যাত্মিক গতি (স্পিরিচুয়াল স্পিড) । আপন নফস হতে খান্নাসটিকে তাড়িয়ে দেবার ধ্যানসাধনায় দায়েমি সালাতে ডুবে থেকে সাধক যখন খান্নাসমুক্ত হতে পারে তখনই সে আল্লাহর রহস্যময় পরিচয়ে পরিচিতি লাভ করে। অর্থাৎ আপন নফসের মধ্যে  রহুটি যখন পরিপূর্ণ রূপ ধারণ করে, সেই পরিপূর্ণ রূপটিই হলো আল্লাহর রূপ এবং যেখানেই আল্লাহর রূপের পরিচয়টি ধরা দেবে সেখানে ফেরেশতাদের আগমনটি অবধারিত। মহানবি যে মেরাজে আল্লাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন  সেই সময়টিকেও সর্বনিম্ন সাতাশ বছর  হতে সাতাশি হাজার বছর পর্যন্ত অবস্থান করার কথাটি দেখতে পাই। অথচ মহানবির ওজুর পানি তখনও গড়িয়ে যাচ্ছিল এবং আরও কিছু ঘটনা। এই স্থান ও কালের (টাইম অ্যাণ্ড স্পেস) বিষয়টির কিছুটা পরিচয় আমরা এই আধুনিকালে বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং হতে জানতে পারি। তা ছাড়া আল্লাহর বহু ওলিরা বলেই ফেলেছে যে ‘বুদ আনদার লা মোকা  খসরু’ – তথা , খসরু লা-মোকায় অবস্থান করেছিল । মহানবি বলেছেন, আসসালাতু মেরাজুল মোমেনিন অর্থাৎ সালাতই মোমিনদের মেরাজ পক্ষান্তরে,
আল্লাহ সুরা মারেজ এর তেইশ নম্বর  আয়াতে বলেছেন, আললাজিনা হুম আলা সালাতিহিম দায়েমুন । অর্থাৎ যারা দায়েমি সালাতের উপরে তথা চব্বিশ ঘণ্টা সালাতের উপর অবস্থান করে তারাই মুসলিম। এখানে একটু লক্ষ করবার বিষয় হলো, কোরান দায়েমি সালাতের কথাটি একদম সোজসুজি বলে দিলেন পক্ষান্তরে ওয়াক্তিয়া সালাতের কথাটি কোরানে সোজাসুজি  বলা হয়নি অথবা বলেননি। ধ্যানসাধনায় রত থাকা একজন সাধক যখন আপন পবিত্র  নফস  খান্নাসটিকে তাড়িয়ে দিতে পারেন তখনই সাধক মোমিনে পরিণত হন এবং রুহ পরিপূর্ণরূপ ধারণ করে যে –দর্শনটি দান করা হয় উহাই হলো সাধকের মেরাজ।
নফস সরল, কিন্তু খান্নাস বক্র তথা আকাম-কুকামের গুরু ঠাকুর। খান্নাসমুক্ত নফসটি একদম সরল-সহজ এবং নিষ্পাপ । তাই বলা হয়ে থাকে, ‘ফেরেশতার মতো’। সুতরাং , রুহ রহস্যের ভাণ্ডার , রুহ গোপনেরও গোপন, রুহ বিজ্ঞানের বহির্ভূত বিজ্ঞান, রুহ ধারণার বহির্ভূত ধারণা। অথচ, এই রুহ প্রতিট মানুষের জীবন-রগের নিকটেই অবস্থান করে – যদিও বুঝতে পারে না এবং দুনিয়ার অনেক রকম চাকচিক্যময় মোহনীয়  বিষয়গুলো  মায়াজালে আপন নফসের  সঙ্গেই মিশে থাকা খান্নাসটি সত্যদর্শন হতে তথা রুহের পরিচয়হ হতে ফিরিয়ে রাখে অনেক রকম মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে। কোরান-এর আটত্রিশ নম্বর সুরা সাদ-এর বাহাত্তর নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ফা (সতরাং, কাজেই, অগত্যা, অতএব) ইজা (যখন , ওই সময়, হাঠাৎ) সাওয়াইতুহু (আমি এখানে আল্লাহ নিজেকে একবচনে বলেছেন এবং নাহনু তথা শব্দটি ব্যবহার করা হয় নাই। রাজা অথবা রানি সব সময় আমরা ব্যবহার করে থাকেন, কিন্তু আল্লাহ দুনিয়ার রাজা বা রানি নহেন। তাই তিনি কখনো ‘আমি’ এবং কখনো   আমরা বলেন]) তাহাকে সুষম করি, আমি তাহাকে সমান করি, সুসঙ্গতিপূর্ণ করি, সুন্দর করি, শোভন করি, যথাযোগ্য উপাদানবিশিষ্ট করি, সোজা করি, ঠিক করি, মীমাংসা করি, বিন্যস্ত করি, সাজাইয়া রাখি, মেইক হারমোনিয়াস, ওয়েল-প্রপরশন্ড, ইভেন, স্ট্রেইট শেপ, প্রপার, কারেক্ট, রেগুলার, ইনট্যাক্ট, রাইট, শেপলি) ওয়া (এবং ,আর, ও) নাফাখতু (আমি ফুৎকার দেই, আমি ফুঁ দেই) ফিহি (ইহার মধ্যে) মিন (হইতে, থেকে চেয়ে) রুহি (আমার রুহ [পাঠক , খেয়াল করুন, এখাানে নাফসি বলা হয় নাই। কারণ নফস জীবন-মৃত্যুর অধীন। অথচ এই রুহটি আমাদের মধ্যে ফুৎকার  করার কথাটি বলা হয়েছে, নফস ফুৎকার করার কথাটি বলা হয়নি। কারণ, নফস হলো প্রাণ, আর রুহ অর্থটি হলো আল্লাহর আদেশ তথা স্বয়ং আল্লাহ । কারন আদমের আগে আল্লাহ যে কাকে তৈরি করেছিলেন উহার দলিলটি হাবিল-কবিলের ঘটনাতেই দেখতে পাই। কারণ, কাকের প্রাণ আছে কিন্তু রুহ নাই। সুতরাং, প্রাণ এবং রুহ এই দুটোর মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এই বিষয়টি অনেকেরই জানা নাই]) ফাকাউ (সুতরাং তোমরা পড়িয়া যাও, সুতরাং তোমরা ভুপতিত হয়, সতরাং তোমরা নত হয়) লাহু (তাহার, তাহার জন্য) সাজিদিনা (সেজদায়, সেজদাকারী হওয়া)
সুতরাং যখন আমি তাহা সুষম করি এবং আমি ফুৎকার দেই ইহার মধ্যে আমার রুহ হইতে, সুতরাং তোমরা তাহাকে সেজদা করে। এখানে লক্ষ্য করার বিষয়টি হলো, আদমের মধ্যে আল্লাহ যে ফুৎকার করে দিচ্ছেন, সেই ফুৎকারটি কিন্তু নফস নহে। কারণ নফস জীবন-মরনের অধীন। তা ছাড়া আল্লাহর মধ্যে নফস নাই, নফস আল্লাহর গুণবাচক তথা সেফাতি সৃষ্টি। ওয়া নাফাখতু ফিহি মির রুহি- অর্থাৎ “আমি ফুৎকার ইহার মধ্যে আমার রুহ। এখানে বলা হয় নি, আমি ফুৎকার দেই ইহার মধ্যে আমার নফস। সুতরাং নফস এবং রুহের মধ্যে বিশাল পার্থক্যটি পরিষ্কাররূপে ধরা পড়ে যায়। আরও অনেক কিছু বলা যেত, লেখা যেত, কিন্তু বিস্তারিত না লিখে সামান্য একটি কথাই বলতে চাই যে আদমের পূর্বেই জিনজাতিকে আল্লাহ তৈরি করেছেন এবং কেবল জিনজাতিই নয় –বরং কাক  হতে সব রকম পাখি, পশু, গাছ-পালা, ফুল ইত্যাদিও যে আদমের আগেই তৈরি করে রাখা হয়েছে ইহাও পরিষ্কারভাবে অনুধাবন করা যায়। সুতরাং রুহ সৃষ্টির অন্তর্ভু্ক্ত নহে, রুহ সৃজনীশক্তির অধিকারী তথা এককথায় , রুহ প্রতিটি মানুষের সঙ্গে রবরূপে তথা প্রতিপালক-রূপে শাহারগের নিকটেই অবস্থান করে।
কোরান-এর পনের নম্বর সুরা হিজর-এর ঊনত্রিশ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ফা (সুতরাং, অতএব, অগত্যা, কাজে-কাজেই) ইজা (যখন , ওই,সময় হঠাৎ) সাওয়াইতুহু (আমি [এখানে আল্লাহ নিজেকে একবচনে বলেছেন এবং নাহনু তথা আমরা শব্দটি ব্যবহার করা হয় নাই। রাজা অথবা রানি সব সময় ‘আমরা’ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু আল্লাহ দুনিয়ার রাজা বা রানি নহেন। তাই তিনি কখনো ‘আমি’কখনো ‘আমরা’ বলেন] তাহাকে সুষম করি, আমি তাহাকে সমান করি, সুসঙ্গতিপূর্ণ করি, সুন্দর করি , সোজা করে, শোভন করি, যথাযোগ্য উপাদানবিশিষ্ট করি, সাজাইয়া রাখি, মেইক হারমোনিয়াস, ওয়েল প্রপরশন্ড ইভেন, স্ট্রেইট শেপড, প্রপার, কারেক্ট, রেগুলার, ইনট্যাক্ট, রাইট শেপলি) ওয়া (এবং আর, ও) নাফখতু (আমি ফুৎকার দেই, আমি ফুঁ দেই) ফিহি (ইহার মাধ্যে) মিন (হইতে, থেকে, চেয়ে) রুহি (আমার রুহ [এখানে নফস বলা হয় নি,কারণ নফস জন্ম-মৃত্যুর অধীন। রুহ –এর প্রতিশব্দ অন্য কোনো ভাষায় নাই])  ফাকাউ সুতরাং তোমরা পড়িয়া যাও, সুতরাং তোমরা ভূপতিত হও, সুতরাং তোমরা নত হও) লাহু (তাহার, তাহার জন্য) সাজিদিন (সেজদায়, সেজদাকারী হওয়া) । সুতরাং যখন আমি তাহা সুষম করি এবং আমি ফুৎকার দেই ইহার মধ্যে আমার রুহ হতে সুতরাং তোমরা তাহাকে সেজদা করো। যেহেতু এই আয়াতটির অনুরূপ আয়াতের সেজাদ করো। যেহেতু এই আয়াতটির অনুরূপ আয়াতের ব্যাখ্যা আগেই (সাদ:৭২) লেখা হয়েছে  তাই ইহার ব্যাখ্যা দেবার প্রয়োজন  আছে বলে মনে করি না।কোরান-এর ছেষট্টি নম্বর সুরা তাহরিম-এর বারো নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ওয়া (এবং, আর, ও) মরিয়ামা (মরিয়ম) ইবনাতা (কন্যা, মেয়ে ) ইমরানা (ইমরানের ) লাতি (যে, যাহা , যাহাকে, যিনি, যা , যাহার, যার যাকে) আহসানাত (হেফাজত করিয়াছেলেন , সংরক্ষণ করিয়াছিলেন, রক্ষা করিয়াছিলেন, পাহারা  দিয়েছিলেন, তত্ত্বাবধান  করিয়াছিলেন ফাজাহা (ছিড়িয়া ফেল, ফাঁড়িয়া ফেলা, ফাটা , পরুষ ও মহিলাদের লজ্জার স্তান) ফা (সুতরাং , অতএব, অগত্যা, কাজে-কাজেই ) নাফাখনা (আমরা ফুৎকার দেই, আমরা ফুকিয়া দেই[এখানে রুহ-ফুৎকার করার প্রশ্নে আল্লাহ ‘আমরা’শব্দটি ব্যবহার করেছেন তথা বহুবচনে বলা হয়েছে। কিন্তু অন্য আয়াতে বহুবচনে না বলে একবচনে তথা ‘আনা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছ   একবার ‘আমি এবং আবার ‘আমরা’ তথা একবচন এবং বহুবচন উভয়টি রুহ ফুৎকারের বেলায় কেন ব্যবহার করার  হলো উহা অধম লেখকের জানা নাই তবে এক বচন ও বহুবচন ব্যবহার করার  মাঝে অবশ্যই গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে এবং এই রহস্যটি জানা না থাকার দরুন পাঠকদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরলাম]) ফিহি (ইহার মধ্যে) মির (হইতে,থেকে, চেয়ে) রুহিনা ( আমাদের রুহ [এখানে আল্লাহ বহুবচনে রুহ-ফুৎকার করছেন]) ওয়া (এবং আর,ও) সাদদাকাত (সে সত্য  হিসাবে মানিয়া লইয়াছ, সে সত্য বলিয়া বিশ্বাস করিয়াছে, সে সত্যায়িত করিয়াছে, সে সত্যতা স্বীকার করিয়াছে, সে সাক্ষ্য দিয়াছে) বিকালিমাতি (বাণীসমুহের সহিত, কথাগুলির সহিত , শব্দসমূহের সহিত, উক্তিসমূহের সহিত,ভাষন সমূহের সহিত) রাববিহা (তাহার রবের, তাহার প্রতিপালকের, তাহার সদাপ্রভুর) ওয়া (এবং আর, ও) কুতুবিহি (তাঁহার কিতাবসমূহ, তাহার প্রত্যাদেশসমূহ)  ওয়া (এবং আর, ও) কানাহ (তিনি ছিলেন, তিনি হন) মিলান (হতে, থেকে , চেয়ে) কানিতিন(অনুগ্যতদেরর, অধীনদের , অনুসরণকারীদের, আশ্রিতদের।
এবং ইমরানের কন্যা মরিয়ম যিনি হেফাজত করিয়াছিলেন তাহার লজ্জাস্থান সুতরাং আমরা ফুৎকার দেই ইঁহার মধ্যে আমাদের রুহ হতে এবং তিনি সত্য বলিয়া মানিয়া লইয়াছেন তাহার রবের বাণীসমূহ এবং তাহর কিতাবসমূহ এবং তিনি ছিলেন অনুগতদের হইতে একজন।
প্রথমেই পাঠকদেরকে বলে রাখতে চাই যে, এই আয়াতের ব্যাখ্যাটি লেখা উদ্দেশ্য নয়, বরং মূল উদ্দেশ্যাটি হলো রুহ ফুৎকারে বিষয় কোরানার কোথাও একটি বারে তরে নফস ফুৎকারের কথাটি বলা হয় নাই। সুতরাং.আমার মূল উদ্দেশ্যটি হলো নফসও রুহের পার্থক্যটি পাঠকদের সামনে তুলে ধরা। আমার জানা মতে, কোরান-এ বিশটি আয়াতে একুশবার রুহ শব্দটি বলা হয়েছে এবং যে-যে সুরার যে-যে আয়াতে রুহ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে উহাই তুলে ধরাটি হলো মুখ্য উদ্দেশ্য। রুহ যে মোটেও প্রাণ নহে তথা নফস নহে এই কথাটুকু পাঠকদের বুঝিয়ে দেবার জন্যই এই প্রচেষ্টা।  বিস্তারিত ব্যাখ্যাটি তখনই লেখা হবে যখন কোরান –এর কোনো সুরার সব আয়াতের ব্যাখ্যা লেখা হবে । তবে এই কথাটি পরিষ্কার বোঝা গেল যে, রুহ-ফুৎকার বিষয়টি কেবলমাত্র নবি-রসুলদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নহেন, বরং আল্লাহর একান্ত অনুগত বান্দাদের মধ্যেও রুহ-ফুৎকার করা হয় এবং রুহ-ফুৎকারও যে একটি সার্বজনীন বিষয় ইহাও পরিষ্কার বোঝা গেল। কোরান-এর পাঁচ নম্বর সূরা মায়েদার একশত দশ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে । ইজ (যখন যে-সময়, যেহেতু , কারণ হাঠাৎ, আকস্মাৎ, অতঃপর) কালাল্লাহু (আল্লাহ বলিলেন) ইযা (হে ) ইসা (ইসা) বিনা (পুত্র) মারিয়ামা (মারিয়মের) আজকুল (তুমি জিকির করো, তুমি মনে করো, তুমি স্মরণ করো) নিয়ামাতি (আমার নেয়ামতের , আমার অনুগ্রহের , আমার দয়ার, আমার প্রসাদের , আমার প্রসনন্নতার  , আমার আনুকূল্যের ,আমার উপকারের) আলাইকা( তোমার উপর) ওয়া (এবং আর, ও ) আলা (উপর ) ওয়ালিদাতিকা (তোমার মায়ের, তোমার মাতার)। আল্লাহ বলিলেন , হে মরিয়মের পুত্র ইসা, তুমি জিকির করো তোমার উপর এবং তোমার মায়ের  উপর ।
উজাপ (যখন ) আইয়াততুকা (তোমাক সাহায্য করিলাম) বিরুহিলকুদুসি(পবিত্র রুহের সহিত, পবিত্র রুহের দ্বারা তোমাকে সাহায্য করিলাম) তুকাললিমু  (তুমি কথা বলিতে) নাসা  (মানুষের [সাথে ]) ফিল (মধ্যে ) মাহদি (কোল, মায়ের কোল, বিছানা, দোলনা) ওয়া (এবং ) কাহলান (মধ্য বয়সে, পরিণত বয়েসে) মানুষের (সাথে ) তুমি কথা বলিতে দোলনার মধ্যে এবং পরিণত বয়সে। ওয়া (এবং) ইজ (যখন) আইয়াততুকা (তোমাকে শিক্ষা দিলাম ) কিতাবা  (কিতাব) ওয়া (এবং) হিকমাতা (হিকমত, বিজ্ঞান) ওয়া (এবং) তাওরাতা (তাওরাত) ওয়া(এবং) ইনজিলা (ইঞ্জিল)। এবং যখন তোমাকে শিক্ষা দিলাম কিতাব এবং হিকমত এবং তাওরাত এবং ইঞ্জিল। ওয়া (এবং) ইজা (যখন) তাখলুকু (তুমি তৈরি করিয়াছে, তুমি বানাইয়াছ) মিনাত (হইতে) তিনি (মাটি ) কাহাইয়াতি(মতো, আকৃতিসদৃশ্য,  সুরতে) তাইরি (পাখি) বিইজনি(আমার নির্দেশে, আমার হুকুমে, আমার আদেশে) ফাতানফুখু (সুতরাং ফুঁকলে , সুতরাং ফু দিলে)  ফিহা (উহার মধ্যে) ফাতকুনু (সুতরাং হইয়া যাইত) তাইরাম (পাখি) বিইজনি (আমার নির্দেশে , আমার হুকুমে , আমার আদেশে) ওয়া (এবং ) তুবরিউল তুমি ভালো করিয়া দিতে, তুমি নিরাময় করিয়া দিতে ) আকমাহা (জন্মান্ধ) ওয়াল (এবং ) আবরাসা (কুষ্ঠরোগী) বিইজনি (আমার  নির্দেশে, আমার হুকুমে, আমার আদেশে)। এবং যখন তুমি আমর হুকুমে মাটি হইতে পাখির মতো আকৃতি তৈরি করিতে, সুতরাং উহার মধ্যে ফু দিতে  সুতরাং (উহা ) আমার হুকুমে পাখি হইয়া যাইত এবং তুমি আমার হুকুমে জন্মান্ধ এবং কুষ্ঠরোগকে ভালো করিতে। ।
ওয়া (এবং )ইজ (যখন ) তুখরিজুল(তুমি বাহির করিতে , তুমি জীবিত করিতে) মাওতা(মৃতদেরকে) বিইজনি (আমার হুকুমে , আমার নির্দেশে)।এবং  যখন আমার হুকুমে তুমি মৃতদেরকে জীবিত করিতে। ওয়া (এবং )ইজ (যখন ) আফাফতু (বিরত রাখিয়াছিলাম) বানি ইসরাইল ( বনি ইসরাইলকে ) আনকা (তোমা হইতে) । এবং যখন বনি ইসরাইলকে তোমার হইতে বিরত রাখিলাম। ইজ (যখন ) জিতাহুম(তুমি তাহাদের নিকট আসিলে) বিলবাইয়িনাতি (সুষ্পষ্ট নির্দশনসমূহসহ) ফাকালাল (সুতরাং বলিয়াছিলি) লাজিন(যাহারা) কাফারু( কাফেরেরা, অস্বীকারকারীরা) নিহম, (তাহাদের মধ্যে) ইন  (নহে ,নয়) হাজা(এইটা) ইললা( একমাত্র, কিন্তু , ব্যতীত) সিহরুম(জাদু) মুবিনুন(প্রকাশ্য, সুস্পষ্ট)।যখন তুমি তাহাদের নিকট আসিলে সুষ্পষ্ট নির্দশনসমূহসহ সুতরাং যাহারা কাফের তাহাদের মধ্য হইতে বলিয়াছিল, এইটা পরিষ্কার জাদু ছাড়া (আর কিছু ) নয়। এই  আয়াতে পবিত্র রুহের দ্বারা সাহায্য করার কথাটি বলা হয়েছে। পাঠক , খেয়াল করুন, এখানে পবিত্র নফস দ্বরা সাহায্য করার কথা বলা হয় নাই। অবশ্য কেহ-কেহ না বুঝে না শুনে ‘রুহুল কুদ্দুস' তথা ‘পবিত্র রুহ’ অনুবাদ করার সময় জিবরাইল নামক এক ফেরেশতার নামটি বসিয়ে দেয়। একটিবারের তরেও ভেবে দেখে না যে, জিবরাইল ফেরেশতা আল্লাহর সিফতি নুরের তথা গুণবাচক ‍নুরের তৈরি এবং কোরান-এর কোথাও একটি বারের তরেও । এই কথাটি বলা হয়নি যে, ফেরেস্তাদের নফসও আছে, রুহও আছে। নফস এবং রুহ –দুইটির একটিও ফেশেতাদেরকে দেওয়া হয়নি। তাহলে রুহুল কুদ্দুস তথা পবিত্র রুহ কথাটির দ্বারা কেমন করে জিবরাইল ফেরেশতাকে বোঝানো হয়েছে  ইহা অধম লেখকের জানা নাই। । এখানে আমরা সুরা মায়েদার ধারাবাহিক শব্দার্থ , বাক্য গঠন এবং ব্যাখ্যা লিখছি না, লেখছি কেবলমাত্র রুহ-এর পরিচয়টি তুলে ধরতে এবং রুহ ও নফসের মধ্যে যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য উহাই তুলে ধরতে। একটু খেয়াল করুন তো, মায়ের কোলে অথবা দোলনার শিশুটি কেমন করে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারে? কেমন করে এই শিশুটিকে কিতাব এবং হিকমত দেওয়া যেতে পারে? ইহা কি একটি অতীব আশ্চর্যজনক ঘটনা নহে ? শুধু কি কিতাব ও হিকমতই দান করেছেন । অবাক হই, দুই-দুইটি সহিফা – একটির নাম তাওরাত এবং অপরটির নাম ইঞ্জিল  শিক্ষা দিয়েছেন দোলনায় থাকা অবস্থায় । আল্লাহর এত বড় অপরিসীম দান সত্যিই মানবজাতিকে ভাবিয়ে তোলে।  এখানেই শেষ করে দেওয়া হয়নি , বরং আরও এগিয়ে গিয়ে বলা হয়েছে যে মাটি দিয়ে বানানো পাখির মতো একটি মাটির পাখি তৈরি করে আল্লাহর হুকুমে ফুৎকার দেবার সঙ্গে-সঙ্গে ইহা জীবন্ত পাখিতে পরিণত হয়ে যেতে। মাটি দিয়ে তৈরি পাখির মধ্যে রুহ থাকার তো প্রশ্ন উঠে না বরং প্রানটিও নাই অথচ প্রানহীন মাটির তৈরি খেলনার মতো পাখিতে আল্লাহর ফুৎকার দেবার সঙ্গে  সঙ্গে উহা জীবন্ত পাখিতে পরিণত হয়ে  যাওয়াটা কি একটি অভাবনীয়, অচিন্তনীয, বিস্ময়কর ঘটনা বলে মনে হয় না? আল্লাহ আরও বলছেন যে, জন্মান্ধ এবং কুষ্ঠ রোগীরদকেও আল্লাহর হুকুমে ভালো করে দিয়েছে।  তারপরের কথাটি সবাইকে অবাক করে তোলে আর সেটি হলে, মৃতব্যক্তিদরকে  “ আল্লাহর হুকুমে জীবিত হও বলার সঙ্গে সঙ্গে জীবিত হয়ে যেত। এত কিছু দেখার পরেও যারা কাফের তারা নবি-রসুল-রূপে মেনে নেওয়া তো দূরে থাক , বরং জঘন্য ভাষায় বলতো যে ,এগুলো হচ্ছে প্রকাশ্য জাদু । সুতরাং , যাদের তকদিরে ইমান শব্দটি লেখা হয় নাই তাদেরকে বড়-বড় জ্বলন্ত দৃষ্টান্তগুলো একের পর এক দেখিয়ে দিলেও কেমন করে ইমান আনবে আর কেমন করেই বা বিশ্বাস স্থাপন করবে ? সুতরাং সব সিন্ধান্তের  শেষ সিন্ধান্তটি হলো, মেনে নেওয়াটাও তকদির এবং অস্বীকার করাটাও তকদির। এই তকদিরের বলয় হতে আল্লাহর বিশেষ রহমত ছাড়া বেরিয়ে আসা যায় না। এটাই সত্য।  এটাই নির্মম সত্য। এটাই উলঙ্গ সত্য। এটাই স্বতঃসিদ্ধ সত্য।

সগীরে  আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী  আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।

শনিবার, ২৪ জুন, ২০১৭


চেরাগে জান শরীফ শরাবে শাহেনশাহে আজিজি আশিকে বারগাহে কালান্দার ডা.বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহজালাল নূরী আল সুরেশ্বরী।
বি:দ্র: ডা:বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী রচিত বইসমুহ পাইকারি মূল্যে নিম্নোক্ত ঠিকানায় পাওয়া যাচ্ছে........।


         ঠিকানাঃ
                  সুফিবাদ প্রকাশনালয়
              প্রযত্নে:বে-ঈমান হোমিও হল
   ১০৮ নিউ এলিফ্যান্ট রোড(২য় তলা) ঢাকা-১২০৫
               মোবাইল ঃ০১৯১১৫৯৭৭৮০