নফস ও রুহের পার্থক্য -১১
সারাটি জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই। এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।
------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।
তুমি নিজেকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে যেতে চেষ্টা কর, যদি শূণ্য হয়ে যেতে পার সমালোচনা ঠাঁই পাবে না । কেবলমাত্র ঠাঁই পাবে নীরবতা অথবা প্রশংসা।
--------ব্রুন বাওর।
জানিয়া রেখ, চোরও লাশের কাপড় চুরি করে। কিন্তু মাজারের গিলাপ কখনই চুরি করে না।
-------বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর।
কোরানের ছাব্বিশ নম্বর সুরা শুয়ারা-র একশত বিরানব্বই হতে একশত চুরানব্বই নম্বর পর্যন্ত আয়াতে বলা হয়েছে: ওয়া (এবং) ইননাহু (নিশ্চয়ই ইহা) লাতানজিলু (অবশ্যই নাজেল করা) রাববিল (রব) আলামিন(জগৎসমূহের)।
>এবং নিশ্চয়ই ইহা অবশ্যই নাজেল করিয়াছেন জগৎসমূহের রব।
নাজালা (নাজেল করিয়াছেন) বিহি (ইহা দিয়া, তাহার সঙ্গে, উহার দ্বারা) রুহুল (রুহ) আমিন (বিশ্বস্ত)।
>নাজেল করিয়াছেন ইহার সঙ্গে বিশ্বস্ত রুহ।
আলা(উপর) কালবিকা (আপনার কলবের) লিতাকুনা (যেন আপনি হন) মিনাল(হইতে) মুনজিরিন (সাবধানকারীদের)
>আপনার কলবের উপর যেন আপনি হন সাবধানকারীদের হইতে।
এই আয়াত তিনটির দর্শন তথা ভাবধারাটি খুবই গভীর এবং রহস্যময়। ধ্যানসাধনার মাধ্যমে আপনার সাথে সূক্ষ্ম বীজরূপে তথা রুহরুপে যে আল্লাহ অবস্থান করেন তাঁকে রবরূপে তথা প্রতিপালকরূপে দর্শন লাভ করতে পারলেই পবিত্র নফসের মধ্যে যে খান্নাসরূপী আবরণটি থাকে, সেই আবরণের পর্দা ছিন্ন করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনরূপে তথা জগৎসমূহের রবরূপে প্রকাশিত হন এবং তখনই ইহাকে বলা হয় নিরাপত্তা দানকারী রুহ নাজেল করা। এ জাতীয় সাধকেরাই মহাপুরুষ তথা জগৎগুরু এবং এঁরাই সত্যের প্রত্যক্ষদর্শী হন এবং সেই কারণেই আমজনতার নিকট সাবধানকারী বলে পরিচিতি লাভ করেন। ইহা কোনো বৈষয়িক বিষয়ের উল্টা-পাল্টা সাংঘর্ষিক দর্শন নয়, কারণ বৈষয়িক দর্শন যতই মজবুত হোক না কেন, একটি ব্যক্তি-জীবনের সামনে খুব বেশি হলে আশি-নব্বই বছর মোহ বিস্তারের নকল সত্য বলে মনে হয়, তারপর সব শেষ। যে-সকল সাধকেরা আল্লাহকে রবরূপে পাবার ধ্যানসাধনায় বিরাট ধৈর্যধারণ করেন, সেই সাধকদের উপর রাব্বুল আলামিন তথা আপন রব যখন প্রকাশিত হন তখনই তিনি দর্শন দান করেন বিশ্বরবরূপে। সাধকের পবিত্র নফস হতে যখন খান্নাসরূপী শয়তানের পর্দাগুলি তথা আবরণগুলি এক-একে ছিন্ন করে ফেলা হয় তখনই রবরূপে জগৎময় তিনিই মূর্তিমান তথা প্রতিভাত হয়ে উঠেন সাধকের অন্তরে তথা নফসে। আসলে উলঙ্গ সত্য কথাটি বলতে গেলে বলতে হয় যে, রুহুল আমিন হলেন মহানবির আপন আধ্যাত্মিক প্রতিচ্ছবি। ইহা জগৎময় ব্যক্তও হতে পারে আবার যে কোনোরূপ মূর্তি ধারণ করতেও পারে। ইহা স্থান-কালের (টাইম অ্যান্ড স্পেস) সব রকম মানুষের আদি এবং আসল রূপ। এই রূপের মাঝে প্রত্যাবর্তন করাই মানবজীবনের পরম এবং চরম সার্থকতা। আল্লাহর নিকট মানুষের প্রত্যাবর্তণ করার তথা ফিরে আসার অর্থটিও ইহাই ।
রুহ নাজেল করা অর্থে যদি জীবনীশক্তি দান করা অথবা প্রাণের সঞ্চার করা অর্থে তফসির করা হয় তাহলে জীবনীশক্তি দান অথবা প্রাণসঞ্চার কেবলমাত্র মানুষ কেন তিনি তো সকল জীবকেই দান করে থাকেন। ইহা ছাড়া 'মোলাকাৎ দিবস সম্বন্ধে জনগণকে সাবধান করবার জন্যেই রুহ দান করেন।' এখানে প্রাণ অর্থে রুহ শব্দটিকে গ্রহণ করলে কথা ও ভাবের দর্শনের মিলটি তো খুঁজে পাওয়া যায়ই না, বরং সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়।
পরিশেষে, ওই একই কথা বারবার বলতে হচ্ছে যে, জিবরাইল যদি ফেরেশতা হয়ে থাকে এবং জিবরাইল তো সত্যিই একজন ফেরেশতা-- আমরা দেখতে পাই যে –কোনো ফেরেশতাকেই নফস এবং রুহ দেওয়া হয় নাই। তা হলে জিবরাইল নামক ফেরেশতাটিকে রুহের স্থলে কেমন করে দাঁড় করানো যায় উহা আমাদের জানা নেই।
কোরান-এর বত্রিশ নম্বর সুরা সাজদার – নয় নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
সুমমা (তারপর) সাওয়াহু(তাহাকে সুন্দর চেহারাযুক্ত করিয়াছেন, তাহাকে অঙ্গসৌষ্ঠব-বিশিষ্ট করিয়াছেন, তাহাকে সুগঠিত করিয়াছেন, তাহাকে সুঠাম করিয়াছেন, তাহাকে সুষমভাবে তৈরি করিয়াছেন, তাহাকে সুসংবদ্ধ পূর্ণাঙ্গ করিয়াছেন) ওয়া (এবং) নাফাখা(ফুৎকার করিয়াছেন , ফুঁকিয়া দিয়াছেন) ফিহি (উহার মধ্যে, তাহার মধ্যে) মির (হইতে) রুহিহি (তাঁহার [আল্লাহর] রুহ) ওয়া (এবং) জাআলা (দিয়াছেন) লাকুমুস (তোমাদের জন্য) সামআ (শ্রবণ শক্তি , শুনিবার শক্তি) ওয়াল (এবং ) আবসারা (দর্শন শক্তি .দেখিবার শক্তি) ওয়াল(এবং) আফয়িদাতা (অন্তঃকরণ,হৃদয়, মন, অনুভূতি, অন্তর) কালিলাম (কম, অল্প সামান্য) মা (যাহা) তাশকুরুন (তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তোমরা উপকারীর উপকার স্বীকার করো)।
>তারপর তাহাকে সুঠাম করিয়াছেন এবং ফুৎকার করিয়াছেন তাহার মধ্যে তাঁহার [আল্লাহর] রুহ হইতে এবং দিয়াছেন তোমাদের জন্য শ্রবণ শক্তি এবং দর্শন শক্তি এবং অন্তঃকরণ । যাহা কমই তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।
এই আয়াতের ব্যাখ্যাটি লিখতে গিয়ে মনে হবে রুহকে নফসরূপে তথা প্রাণরূপে গ্রহণ করতে গিয়ে বিরাট ভুল করা হয়. কিন্তু তাহার মধ্যে “আল্লাহর নফস হইতে “ বলা হয় নাই, বরং বলা হয়েছে ‘ফিহি মির রুহিহি’ তথা তাহার মধ্যে তাঁহার তথা আল্লাহর রুহ হইতে। এই একটি মাত্র আয়াতে রুহকে প্রাণরূপে গ্রহণ করবার সমূহ বিপদ থেকে যায়, কিন্তু প্রাণ বলতে নফসকে বোঝানো হয়, কিন্তু এখানে নফস না বলে ‘আল্লাহর রুহ হতে’ বলা হয়েছে। তা ছাড়া আল্লাহর নফস তথা প্রাণ থাকার প্রশ্নই উঠতে পারে না, কারণ নফস তথা প্রাণকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয় তথা একবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয় তথা মৃত্যুর স্বাদ গহণ করতে হয়। অথচ রুহুকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করার কথাটি কোরানে-এ একটি বারও বলা হয় নি, তবে এই আয়াত দ্বারা এই কথাটুকু পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে আল্লাহ তাঁর রুহকে বীজরূপে দান করেছেন। তা ছাড়া পূর্ণাঙ্গ রুহরূপে গ্রহণ করে নিতে গেলে সব মানুষই পরিপূর্ণ রুহপ্রাপ্ত হয়েছে বলতে হয়, কিন্তু ইহা একেবারেই অসম্ভব। রুহকে নুরের মুহাম্মদির মূূর্তিমান রুপও বলা যেতে পারে, কারণ রুহ-এর পরিপূর্ণ বিকাশটি নুরে মুহাম্মদির মধ্যেই পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়। রুহ ফুৎকার অর্থে প্রাণ ফুৎকারের কথাটি আসতেই পারে না। শ্রবণ, দর্শন ও অন্তঃকরণ শব্দগুলোর দ্বারা বাহ্যইন্দ্রিয় অনুভুতিটি বোঝায়। আল্লাহকে রবরূপে গ্রহণ করে ধ্যানসাধনা করে নফসের সঙ্গে খান্নাসের আবরণরূপী আমিত্বের পর্দাটি সরিয়ে দিতে পারলেই রবকে জাগ্রত করে তোলা যায় এবং তখনই নফসের উপর রুহের আলোকিত রুপটি প্রকাশিত হয় এবং ইহাকেই নুরে মুহাম্মদি বলা হয় এবং অন্য ভাষায় বলা যেতে পারে যে, নুরে মুহাম্মদির মোড়কে (সিল) নফসকে আবৃত ও সুরক্ষিত করে নেন। তা ছাড়া রুহ নিক্ষেপ করবার কথাটি কেমন করে কোরান-এ বলা হয়েছে? বাহির হতে কোনো কিছু আসলে উহাকে নিক্ষেপ বলা যেতে পারে। আল্লাহ তো প্রতিটি মানুষের মাঝে রবরূপে বিরাজ করেন, কিন্তু মানুষ তার নিজের রবের পরিচয় পায় না ততক্ষণ, যতক্ষণ তিনি বিকশিত হয়ে আপন পরিচয় দান না করেন। রুহের বীজ প্রতিটি মানুষের মধ্যে সুপ্ত আছে, কিন্তু উহা মানুষের জানা নাই। উহা কেবল সন্ধান করলেই পাওয়া যায় না, সন্ধানকারীর প্রতি আল্লাহর বিশেষ রহমত হলেই সন্ধান মেলে। যদিও রুহ মানুষের ভিতরেই বীজরূপে অবস্থান করার পর নিক্ষেপ করা অথবা নাজেল করার কথাটি কোরানে প্রকাশ করা হয়েছে, এই নিক্ষেপ করা অথবা নাজেল করার কথাটির দ্বারা পরিপুর্ণ রুহের বিকশিত রূপটিরই পরিচয় পাওয়া যায়। রুহকে পরিপূর্ণরূপে জাগ্রত করে যখন রুহের দ্বারা নফসকে চালনা করা হয় সেই অবস্থাটিকেই রুহ নিক্ষেপ করা বলা হয়েছে। নফসের খান্নাস–রূপী কর্তৃত্বের আমিত্বটি যখন ধ্যানসাধনার মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ রহমতে সরে পড়ে তখনই নফসের উপর রুহের নিক্ষেপ করা অথবা নাজেল হওয়া কথাটি বলা হয়ে থাকে । তাছাড়া রুহ সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলে শুধু এটুকুই বলেছিলেন ‘কুলুর রুহ মিন আমরি রাববি’- তথা রুহ আমার রবেরই আদেশ হতে আগত। এ জন্য রুহকে সৃষ্টি চিনতে পারে না। সৃষ্ট বুদ্ধি রুহকে ধারণা করতে পারে না বলেই জটিলতার পাকে পড়ে যায়। সুতরায় রুহ রহস্যময় এবং এই রহস্যময় বিষয়টিকে কথায় অথবা ভাষায় বোঝানো যায় না।
কোরান-এর সতের নম্বর সুরা বনি ইসরাইল –এ পঁচাশি নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
ওয়া (এবং, আর, ও) ইয়াসআলু (তাহারা প্রশ্ন করে, তাহারা জিজ্ঞাসা করে, তাহারা জানিতে চায়, তাহারা শুধায়) নাকা (আপনাকে,তোমাকে, তোকে) আনি (সম্পর্কে , সম্বন্ধে, বিষয়ে) রুহি (রুহ [ইহার ইংরেজি অথবা বাংলা অথবা অন্য কোনো ভাষায় প্রতিশব্দটি নাই।]
>এবং আপনাকে রুহ সম্পর্কে তাহারা প্রশ্ন করে।
>কুল (বলুন) রহু (রুহ , ইহার কোনো প্রতিশব্দ নাই) মিন (হইতে , থেকে, চেয়ে) আমরি (নির্দেশ, আদেশ , হুকুম) রাববি (আমার রবের, আমার প্রতিপালকের, আমার সদাপ্রভুর—যে প্রভু আমার সঙ্গে সব সময় অবস্থান করেন উহাকেই একবচনে সদাপ্রভু বলা হয়[একটু খেয়াল করুন, এখানে ‘রাববি’ তথা ‘আমার রব’ বলা হয়েছে, কিন্তু রাববানা তথা আমাদের রব বলা হয় নাই অথবা রাববুকুম বা তোমাদের রব তথা তোমাদের প্রতিপালকও বলা হয় নাই অথবা রাবুবকা অর্থাৎ ‘তোমাদর রব’ তথা তোমদের প্রতিপালকও বলা হয় নাই অথবা রাববুকা অর্থাৎ তোমার রব তথা তোমার প্রতিপালকও বলা হয় নাই। কারণ, রাববি, রাববানা, রাববুকা, রাববুকুম – এই কথা গুলোর মাঝে গোপন রহস্যটি লুকিয়ে আছে. যাহা সহজে ধরা যায় না]) ওয়া (এবং , আর, ও) মা (না) উতিতুম (তোমাদেরকে দেওয়া হইয়াছে, তোমাদেরকে দান করা হইয়াছে, তোমাদেরকে আতা করা হইয়াছে) মিনাল ( হইতে, থেকে, চেয়ে) ইলমি (জ্ঞান, শিক্ষা, বিদ্যা, পরিচিতি, তথ্য) ইললা (একমাত্র, কিন্তু, ব্যতীত) কালিলান (সামান্য, অল্প,অতিঅল্প, কম, একটু, কিছুটা, ঈষৎ, কিঞ্চিৎ)।
>বলুন , রুহ আমার রবের আদেশ হইতে এবং তোমাদের দান করা হইয়াছে জ্ঞান হইতে সামান্য ব্যতীত নয়।
মহানবিকে রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মহানবি বললেন যে, রুহ হলো আমার রবের হুকুম তথা আদেশ। জ্ঞান ব্যতীত মানুষ সত্যের অতি সামান্যই বুঝতে পারে। আবার, এই কথাটিও বলে দেওয়া হলো যে, বিশেষ করে রুহের বিষয়টির জ্ঞান দান করা হয়েছে অতি সামান্য। অতি সামান্য তথা অতি অল্প জ্ঞান দেবার কথাটি রুহ বিষয়ে কেন বলা হলো? কারণ রূহ অতীব সুক্ষ্মরূপে-যাকে আমরা বীজরূপে অবস্থানের কথাটি বলে থাকি সেই বিষয়টির পরিপূর্ণ জ্ঞান না থাকাটাই স্বাভাবিক, সুতরাং আপন পবিত্র নফসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একে তো রুহ বিষয়ে অতি অল্প জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তার উপর খান্নাসের অনেক ধরনের প্রতারণার জাল পাতা থাকে। সুতরাং, খান্নাসের প্রতারণার জালগুলো যখন সাধকেরা হেরা গুহার মতো নির্জনে একাকী বছরের পর বছর ধ্যানসাধনা করে সম্পূর্ণরূপে তাড়িয়ে দিতে পারেন তখনই নফসের উপর রুহ পরিপূর্ণরূপে উদ্ভাসিত হয় এবং তখনই একজন সাধকের নফসটিকে রূপক ভাষায় চন্দ্রগ্রহণ অথবা সূর্যগ্রহণের মতো গিলে ফেলে এবং তখনই সাধক কেবলই রুহের অবস্থানটি দেখতে পান এবং নিজেকে হারিয়ে ফেলেন এবং তখনই সাধক বিভিন্ন ভাষায় বলে ফেলেন: আনাল হক – তথা, আমিই সত্য; আনা সুবাহানি মা আজামুশশানি –তথা, আমিই সুবাহানি, সব শান আমারই; লাইসা ফি জুব্বাতি সেওয়া আল্লাহ তায়ালা—তথা
, এই জোব্বার ভেতর আল্লাহ ছাড়া কিছুই নাই, না দিদাম মোস্তফারা বালকে খোদারা-তথা, মোস্তফা-রূপ ধারণ করেই আল্লাহকে দেখলাম, সোহহম সোহমি- তথা, তিনিই আমি- আমিই তিনি –এভাবে অনেক-অনেক উদাহরণ সুফিদের মধ্যে পেয়ে থাকি। সুতরাং খান্নাসমুক্ত জ্ঞান ব্যতীত মানুষ সত্যটির সামন্যই বুঝতে পারে এবং এ-জন্যই বলা হয়েছে যে, মানুষকে যে-জ্ঞান দান করা হয়েছে ওটা অতি সামান্য। সুতরাং, রুহ বিষয়ে অনেক রকম কথা দিয়ে অধিক কিছু জানতে চাওয়া বৃথা। তাই অনেক ওলি-আল্লাহ বলে থাকেন যে, রুহের আসল পরিচয়টি জানবার আগ্রহটি যাদের নাই তারা শিক্ষিত বটে, জ্ঞানীও বটে, কিন্তু মানুষ হতে পারেনি।
সগীরে আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।
সারাটি জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই। এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।
------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।
তুমি নিজেকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে যেতে চেষ্টা কর, যদি শূণ্য হয়ে যেতে পার সমালোচনা ঠাঁই পাবে না । কেবলমাত্র ঠাঁই পাবে নীরবতা অথবা প্রশংসা।
--------ব্রুন বাওর।
জানিয়া রেখ, চোরও লাশের কাপড় চুরি করে। কিন্তু মাজারের গিলাপ কখনই চুরি করে না।
-------বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর।
কোরানের ছাব্বিশ নম্বর সুরা শুয়ারা-র একশত বিরানব্বই হতে একশত চুরানব্বই নম্বর পর্যন্ত আয়াতে বলা হয়েছে: ওয়া (এবং) ইননাহু (নিশ্চয়ই ইহা) লাতানজিলু (অবশ্যই নাজেল করা) রাববিল (রব) আলামিন(জগৎসমূহের)।
>এবং নিশ্চয়ই ইহা অবশ্যই নাজেল করিয়াছেন জগৎসমূহের রব।
নাজালা (নাজেল করিয়াছেন) বিহি (ইহা দিয়া, তাহার সঙ্গে, উহার দ্বারা) রুহুল (রুহ) আমিন (বিশ্বস্ত)।
>নাজেল করিয়াছেন ইহার সঙ্গে বিশ্বস্ত রুহ।
আলা(উপর) কালবিকা (আপনার কলবের) লিতাকুনা (যেন আপনি হন) মিনাল(হইতে) মুনজিরিন (সাবধানকারীদের)
>আপনার কলবের উপর যেন আপনি হন সাবধানকারীদের হইতে।
এই আয়াত তিনটির দর্শন তথা ভাবধারাটি খুবই গভীর এবং রহস্যময়। ধ্যানসাধনার মাধ্যমে আপনার সাথে সূক্ষ্ম বীজরূপে তথা রুহরুপে যে আল্লাহ অবস্থান করেন তাঁকে রবরূপে তথা প্রতিপালকরূপে দর্শন লাভ করতে পারলেই পবিত্র নফসের মধ্যে যে খান্নাসরূপী আবরণটি থাকে, সেই আবরণের পর্দা ছিন্ন করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনরূপে তথা জগৎসমূহের রবরূপে প্রকাশিত হন এবং তখনই ইহাকে বলা হয় নিরাপত্তা দানকারী রুহ নাজেল করা। এ জাতীয় সাধকেরাই মহাপুরুষ তথা জগৎগুরু এবং এঁরাই সত্যের প্রত্যক্ষদর্শী হন এবং সেই কারণেই আমজনতার নিকট সাবধানকারী বলে পরিচিতি লাভ করেন। ইহা কোনো বৈষয়িক বিষয়ের উল্টা-পাল্টা সাংঘর্ষিক দর্শন নয়, কারণ বৈষয়িক দর্শন যতই মজবুত হোক না কেন, একটি ব্যক্তি-জীবনের সামনে খুব বেশি হলে আশি-নব্বই বছর মোহ বিস্তারের নকল সত্য বলে মনে হয়, তারপর সব শেষ। যে-সকল সাধকেরা আল্লাহকে রবরূপে পাবার ধ্যানসাধনায় বিরাট ধৈর্যধারণ করেন, সেই সাধকদের উপর রাব্বুল আলামিন তথা আপন রব যখন প্রকাশিত হন তখনই তিনি দর্শন দান করেন বিশ্বরবরূপে। সাধকের পবিত্র নফস হতে যখন খান্নাসরূপী শয়তানের পর্দাগুলি তথা আবরণগুলি এক-একে ছিন্ন করে ফেলা হয় তখনই রবরূপে জগৎময় তিনিই মূর্তিমান তথা প্রতিভাত হয়ে উঠেন সাধকের অন্তরে তথা নফসে। আসলে উলঙ্গ সত্য কথাটি বলতে গেলে বলতে হয় যে, রুহুল আমিন হলেন মহানবির আপন আধ্যাত্মিক প্রতিচ্ছবি। ইহা জগৎময় ব্যক্তও হতে পারে আবার যে কোনোরূপ মূর্তি ধারণ করতেও পারে। ইহা স্থান-কালের (টাইম অ্যান্ড স্পেস) সব রকম মানুষের আদি এবং আসল রূপ। এই রূপের মাঝে প্রত্যাবর্তন করাই মানবজীবনের পরম এবং চরম সার্থকতা। আল্লাহর নিকট মানুষের প্রত্যাবর্তণ করার তথা ফিরে আসার অর্থটিও ইহাই ।
রুহ নাজেল করা অর্থে যদি জীবনীশক্তি দান করা অথবা প্রাণের সঞ্চার করা অর্থে তফসির করা হয় তাহলে জীবনীশক্তি দান অথবা প্রাণসঞ্চার কেবলমাত্র মানুষ কেন তিনি তো সকল জীবকেই দান করে থাকেন। ইহা ছাড়া 'মোলাকাৎ দিবস সম্বন্ধে জনগণকে সাবধান করবার জন্যেই রুহ দান করেন।' এখানে প্রাণ অর্থে রুহ শব্দটিকে গ্রহণ করলে কথা ও ভাবের দর্শনের মিলটি তো খুঁজে পাওয়া যায়ই না, বরং সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়।
পরিশেষে, ওই একই কথা বারবার বলতে হচ্ছে যে, জিবরাইল যদি ফেরেশতা হয়ে থাকে এবং জিবরাইল তো সত্যিই একজন ফেরেশতা-- আমরা দেখতে পাই যে –কোনো ফেরেশতাকেই নফস এবং রুহ দেওয়া হয় নাই। তা হলে জিবরাইল নামক ফেরেশতাটিকে রুহের স্থলে কেমন করে দাঁড় করানো যায় উহা আমাদের জানা নেই।
কোরান-এর বত্রিশ নম্বর সুরা সাজদার – নয় নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
সুমমা (তারপর) সাওয়াহু(তাহাকে সুন্দর চেহারাযুক্ত করিয়াছেন, তাহাকে অঙ্গসৌষ্ঠব-বিশিষ্ট করিয়াছেন, তাহাকে সুগঠিত করিয়াছেন, তাহাকে সুঠাম করিয়াছেন, তাহাকে সুষমভাবে তৈরি করিয়াছেন, তাহাকে সুসংবদ্ধ পূর্ণাঙ্গ করিয়াছেন) ওয়া (এবং) নাফাখা(ফুৎকার করিয়াছেন , ফুঁকিয়া দিয়াছেন) ফিহি (উহার মধ্যে, তাহার মধ্যে) মির (হইতে) রুহিহি (তাঁহার [আল্লাহর] রুহ) ওয়া (এবং) জাআলা (দিয়াছেন) লাকুমুস (তোমাদের জন্য) সামআ (শ্রবণ শক্তি , শুনিবার শক্তি) ওয়াল (এবং ) আবসারা (দর্শন শক্তি .দেখিবার শক্তি) ওয়াল(এবং) আফয়িদাতা (অন্তঃকরণ,হৃদয়, মন, অনুভূতি, অন্তর) কালিলাম (কম, অল্প সামান্য) মা (যাহা) তাশকুরুন (তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তোমরা উপকারীর উপকার স্বীকার করো)।
>তারপর তাহাকে সুঠাম করিয়াছেন এবং ফুৎকার করিয়াছেন তাহার মধ্যে তাঁহার [আল্লাহর] রুহ হইতে এবং দিয়াছেন তোমাদের জন্য শ্রবণ শক্তি এবং দর্শন শক্তি এবং অন্তঃকরণ । যাহা কমই তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।
এই আয়াতের ব্যাখ্যাটি লিখতে গিয়ে মনে হবে রুহকে নফসরূপে তথা প্রাণরূপে গ্রহণ করতে গিয়ে বিরাট ভুল করা হয়. কিন্তু তাহার মধ্যে “আল্লাহর নফস হইতে “ বলা হয় নাই, বরং বলা হয়েছে ‘ফিহি মির রুহিহি’ তথা তাহার মধ্যে তাঁহার তথা আল্লাহর রুহ হইতে। এই একটি মাত্র আয়াতে রুহকে প্রাণরূপে গ্রহণ করবার সমূহ বিপদ থেকে যায়, কিন্তু প্রাণ বলতে নফসকে বোঝানো হয়, কিন্তু এখানে নফস না বলে ‘আল্লাহর রুহ হতে’ বলা হয়েছে। তা ছাড়া আল্লাহর নফস তথা প্রাণ থাকার প্রশ্নই উঠতে পারে না, কারণ নফস তথা প্রাণকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয় তথা একবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয় তথা মৃত্যুর স্বাদ গহণ করতে হয়। অথচ রুহুকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করার কথাটি কোরানে-এ একটি বারও বলা হয় নি, তবে এই আয়াত দ্বারা এই কথাটুকু পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে আল্লাহ তাঁর রুহকে বীজরূপে দান করেছেন। তা ছাড়া পূর্ণাঙ্গ রুহরূপে গ্রহণ করে নিতে গেলে সব মানুষই পরিপূর্ণ রুহপ্রাপ্ত হয়েছে বলতে হয়, কিন্তু ইহা একেবারেই অসম্ভব। রুহকে নুরের মুহাম্মদির মূূর্তিমান রুপও বলা যেতে পারে, কারণ রুহ-এর পরিপূর্ণ বিকাশটি নুরে মুহাম্মদির মধ্যেই পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়। রুহ ফুৎকার অর্থে প্রাণ ফুৎকারের কথাটি আসতেই পারে না। শ্রবণ, দর্শন ও অন্তঃকরণ শব্দগুলোর দ্বারা বাহ্যইন্দ্রিয় অনুভুতিটি বোঝায়। আল্লাহকে রবরূপে গ্রহণ করে ধ্যানসাধনা করে নফসের সঙ্গে খান্নাসের আবরণরূপী আমিত্বের পর্দাটি সরিয়ে দিতে পারলেই রবকে জাগ্রত করে তোলা যায় এবং তখনই নফসের উপর রুহের আলোকিত রুপটি প্রকাশিত হয় এবং ইহাকেই নুরে মুহাম্মদি বলা হয় এবং অন্য ভাষায় বলা যেতে পারে যে, নুরে মুহাম্মদির মোড়কে (সিল) নফসকে আবৃত ও সুরক্ষিত করে নেন। তা ছাড়া রুহ নিক্ষেপ করবার কথাটি কেমন করে কোরান-এ বলা হয়েছে? বাহির হতে কোনো কিছু আসলে উহাকে নিক্ষেপ বলা যেতে পারে। আল্লাহ তো প্রতিটি মানুষের মাঝে রবরূপে বিরাজ করেন, কিন্তু মানুষ তার নিজের রবের পরিচয় পায় না ততক্ষণ, যতক্ষণ তিনি বিকশিত হয়ে আপন পরিচয় দান না করেন। রুহের বীজ প্রতিটি মানুষের মধ্যে সুপ্ত আছে, কিন্তু উহা মানুষের জানা নাই। উহা কেবল সন্ধান করলেই পাওয়া যায় না, সন্ধানকারীর প্রতি আল্লাহর বিশেষ রহমত হলেই সন্ধান মেলে। যদিও রুহ মানুষের ভিতরেই বীজরূপে অবস্থান করার পর নিক্ষেপ করা অথবা নাজেল করার কথাটি কোরানে প্রকাশ করা হয়েছে, এই নিক্ষেপ করা অথবা নাজেল করার কথাটির দ্বারা পরিপুর্ণ রুহের বিকশিত রূপটিরই পরিচয় পাওয়া যায়। রুহকে পরিপূর্ণরূপে জাগ্রত করে যখন রুহের দ্বারা নফসকে চালনা করা হয় সেই অবস্থাটিকেই রুহ নিক্ষেপ করা বলা হয়েছে। নফসের খান্নাস–রূপী কর্তৃত্বের আমিত্বটি যখন ধ্যানসাধনার মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ রহমতে সরে পড়ে তখনই নফসের উপর রুহের নিক্ষেপ করা অথবা নাজেল হওয়া কথাটি বলা হয়ে থাকে । তাছাড়া রুহ সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলে শুধু এটুকুই বলেছিলেন ‘কুলুর রুহ মিন আমরি রাববি’- তথা রুহ আমার রবেরই আদেশ হতে আগত। এ জন্য রুহকে সৃষ্টি চিনতে পারে না। সৃষ্ট বুদ্ধি রুহকে ধারণা করতে পারে না বলেই জটিলতার পাকে পড়ে যায়। সুতরায় রুহ রহস্যময় এবং এই রহস্যময় বিষয়টিকে কথায় অথবা ভাষায় বোঝানো যায় না।
কোরান-এর সতের নম্বর সুরা বনি ইসরাইল –এ পঁচাশি নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
ওয়া (এবং, আর, ও) ইয়াসআলু (তাহারা প্রশ্ন করে, তাহারা জিজ্ঞাসা করে, তাহারা জানিতে চায়, তাহারা শুধায়) নাকা (আপনাকে,তোমাকে, তোকে) আনি (সম্পর্কে , সম্বন্ধে, বিষয়ে) রুহি (রুহ [ইহার ইংরেজি অথবা বাংলা অথবা অন্য কোনো ভাষায় প্রতিশব্দটি নাই।]
>এবং আপনাকে রুহ সম্পর্কে তাহারা প্রশ্ন করে।
>কুল (বলুন) রহু (রুহ , ইহার কোনো প্রতিশব্দ নাই) মিন (হইতে , থেকে, চেয়ে) আমরি (নির্দেশ, আদেশ , হুকুম) রাববি (আমার রবের, আমার প্রতিপালকের, আমার সদাপ্রভুর—যে প্রভু আমার সঙ্গে সব সময় অবস্থান করেন উহাকেই একবচনে সদাপ্রভু বলা হয়[একটু খেয়াল করুন, এখানে ‘রাববি’ তথা ‘আমার রব’ বলা হয়েছে, কিন্তু রাববানা তথা আমাদের রব বলা হয় নাই অথবা রাববুকুম বা তোমাদের রব তথা তোমাদের প্রতিপালকও বলা হয় নাই অথবা রাবুবকা অর্থাৎ ‘তোমাদর রব’ তথা তোমদের প্রতিপালকও বলা হয় নাই অথবা রাববুকা অর্থাৎ তোমার রব তথা তোমার প্রতিপালকও বলা হয় নাই। কারণ, রাববি, রাববানা, রাববুকা, রাববুকুম – এই কথা গুলোর মাঝে গোপন রহস্যটি লুকিয়ে আছে. যাহা সহজে ধরা যায় না]) ওয়া (এবং , আর, ও) মা (না) উতিতুম (তোমাদেরকে দেওয়া হইয়াছে, তোমাদেরকে দান করা হইয়াছে, তোমাদেরকে আতা করা হইয়াছে) মিনাল ( হইতে, থেকে, চেয়ে) ইলমি (জ্ঞান, শিক্ষা, বিদ্যা, পরিচিতি, তথ্য) ইললা (একমাত্র, কিন্তু, ব্যতীত) কালিলান (সামান্য, অল্প,অতিঅল্প, কম, একটু, কিছুটা, ঈষৎ, কিঞ্চিৎ)।
>বলুন , রুহ আমার রবের আদেশ হইতে এবং তোমাদের দান করা হইয়াছে জ্ঞান হইতে সামান্য ব্যতীত নয়।
মহানবিকে রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মহানবি বললেন যে, রুহ হলো আমার রবের হুকুম তথা আদেশ। জ্ঞান ব্যতীত মানুষ সত্যের অতি সামান্যই বুঝতে পারে। আবার, এই কথাটিও বলে দেওয়া হলো যে, বিশেষ করে রুহের বিষয়টির জ্ঞান দান করা হয়েছে অতি সামান্য। অতি সামান্য তথা অতি অল্প জ্ঞান দেবার কথাটি রুহ বিষয়ে কেন বলা হলো? কারণ রূহ অতীব সুক্ষ্মরূপে-যাকে আমরা বীজরূপে অবস্থানের কথাটি বলে থাকি সেই বিষয়টির পরিপূর্ণ জ্ঞান না থাকাটাই স্বাভাবিক, সুতরাং আপন পবিত্র নফসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একে তো রুহ বিষয়ে অতি অল্প জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তার উপর খান্নাসের অনেক ধরনের প্রতারণার জাল পাতা থাকে। সুতরাং, খান্নাসের প্রতারণার জালগুলো যখন সাধকেরা হেরা গুহার মতো নির্জনে একাকী বছরের পর বছর ধ্যানসাধনা করে সম্পূর্ণরূপে তাড়িয়ে দিতে পারেন তখনই নফসের উপর রুহ পরিপূর্ণরূপে উদ্ভাসিত হয় এবং তখনই একজন সাধকের নফসটিকে রূপক ভাষায় চন্দ্রগ্রহণ অথবা সূর্যগ্রহণের মতো গিলে ফেলে এবং তখনই সাধক কেবলই রুহের অবস্থানটি দেখতে পান এবং নিজেকে হারিয়ে ফেলেন এবং তখনই সাধক বিভিন্ন ভাষায় বলে ফেলেন: আনাল হক – তথা, আমিই সত্য; আনা সুবাহানি মা আজামুশশানি –তথা, আমিই সুবাহানি, সব শান আমারই; লাইসা ফি জুব্বাতি সেওয়া আল্লাহ তায়ালা—তথা
, এই জোব্বার ভেতর আল্লাহ ছাড়া কিছুই নাই, না দিদাম মোস্তফারা বালকে খোদারা-তথা, মোস্তফা-রূপ ধারণ করেই আল্লাহকে দেখলাম, সোহহম সোহমি- তথা, তিনিই আমি- আমিই তিনি –এভাবে অনেক-অনেক উদাহরণ সুফিদের মধ্যে পেয়ে থাকি। সুতরাং খান্নাসমুক্ত জ্ঞান ব্যতীত মানুষ সত্যটির সামন্যই বুঝতে পারে এবং এ-জন্যই বলা হয়েছে যে, মানুষকে যে-জ্ঞান দান করা হয়েছে ওটা অতি সামান্য। সুতরাং, রুহ বিষয়ে অনেক রকম কথা দিয়ে অধিক কিছু জানতে চাওয়া বৃথা। তাই অনেক ওলি-আল্লাহ বলে থাকেন যে, রুহের আসল পরিচয়টি জানবার আগ্রহটি যাদের নাই তারা শিক্ষিত বটে, জ্ঞানীও বটে, কিন্তু মানুষ হতে পারেনি।
সগীরে আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন