শনিবার, ৮ জুলাই, ২০১৭

নফস ও রুহের পার্থক্য - শেষ পর্ব।

সারাটি  জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই।  এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।

               ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

নকশেবন্দি- মুজাদ্দেদি তরিকা, চিশতিয়া-কাদেরিয়া তরিকা, আবু - উলাই তরিকা, কালান্দারিয়া তরিকার শান গেয়েই গেলেন , শান না গাইলেও কিছু আসে যায় না। প্রশ্ন হলো? আপনি তো তিন নম্বর ছাগলের বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে শুধু লাফালাফিই করেই গেলেন।
                ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

 আমার পীর বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীরের সঙ্গে অন্য পীরের তুলনা করাই যায় না। কারণ, কোরানে ২১ বার রুহ বিষয়ে বলা হয়েছে, এবং এই ২১ বারই একবচনে বলা হয়েছে রুহের বহুবচন নাই । রুহ ফুৎকার করা হয়– নফস নয় । এই বিষয়ে অবাক করা ব্যাখ্যাটি সমগ্র পৃথিবীতে আমার বাবাই দিয়ে গেছেন। কথাটি শুনতে ভাল লাগবে না, কিন্তু আসলে ইহা একটি তিক্ত সত্য কথা।  আমার পীর বাবার পঁচিশটি বই কোরানের পনের পারার অনুবাদ কিছুটা ব্যাখ্যা এবং আট জি.বি তেষট্টি ঘন্টার মেমোরিকার্ডটি শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন আমার কথার সত্যতাটি।
                -------শাহ সূফি ময়েজউদ্দিন আল সুরেশ্বরী।

যারা অজানা কিছু জানতে আগ্রহী
তাদেরকে বলছি, সবাইকে নয়।

তোমার পীর যত বড় পীরই হোক না কেন
যদি তুমি তার থেকে সত্য না পাও তবে
ফেলে দাও তাকে। কারণ পীর এখানে মুখ্য
বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হলো সত্য পাওয়া।
সত্য হলো আল্লাহর রহস্য লোকের কিছু জানা।
সুরেশ্বরীর শান কত বড় রে, ভান্ডারীর শান
কত বড় রে, খাজা বাবার শান কত বড় রে,
শান বললেও আছে, না বললেও আছে, তুমি
কি ঘোড়ার ডিমটা পাইলা। তুমিতো বকরির
তিন নম্বর বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে পীরের
বাড়িতে গিয়ে শুধু লাফালাফিই করে গেলা।

আসো বসো মুরিদ হও, ধ্যান-সাধনা কর, যদি
আল্লাহর রহস্যলোকের কিছুই না পাও
আমাকে ফেলে চলে যাও। এখানে পীর বড়
নয় এখানে সত্য বড়। সারা জীবন বাবা
বাবা ডাকবা পাইবা না ঘোড়ার ডিমও
সেই বাবা ডাইকা কোন লাভ নাই।
              --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

যে পীর মুরিদের ধন-সম্পদের দিকে তাকায় বলে দাও সে দুনিয়াদার মরদুদ (মরদুদ শয়তান)
    --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

খান্নাসমুক্ত আমির মাঝেই পাবে আমিকে, ঐ আমিটাই দূষিত আমি নয়। নির্ভেজাল আমির মাঝে কেবলই রুহরূপী আল্লাহ পরিপূর্নরূপে জাগ্রত হয়ে উঠে।
                           ---------মাওলানা জালাল উদ্দিন রূমি।

তুমি নিজেকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে যেতে চেষ্টা কর, যদি শূণ্য হয়ে যেতে পার সমালোচনা ঠাঁই পাবে না । কেবলমাত্র ঠাঁই পাবে নীরবতা অথবা প্রশংসা।
                                                    --------ব্রুন বাওর।

তুমি  দেখতে পাও না ধন-সম্পদে ডুবে থেকে কত অহংকারের পচা বচন শুনায় । মরে যাবার পর সেই অহংকারীর জন্য একটি কুকুরও কাঁদে না।
                            --------বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর।

জানিয়া রেখ, চোরও লাশের কাপড় চুরি করে। কিন্তু মাজারের গিলাপ কখনই চুরি করে না।          
                                -------বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর।

কোরান-এর সত্তর নম্বর সুরা মারেজ এর  চার নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে”: তারুজুল (উরুজ করে , আরোহণ করে, উপরে উঠে, ঊর্ধ্বে গমন করে, অধিরোহণ করে) মালায়িকাতু (ফেরেশতারা ) ওয়া (এবং) রুহ (রহু [রুহের প্রতিশব্দ বাংলাতেও নাই এবং ইংরেজি ভাষাতেও নাই। তবে বাংলা ভাষায় পরমাত্মা এবং ইংরেজিতে ‘স্পিরিট’ কেউ-কেউ অনুবাদ করে থাকেন]) ইলাইহি (তাহার দিকে) ফি (মধ্যে) ইয়াওমিন্ (একদিন) কানা (হয়) মিকদারুহু (যাহার পরিমাণ, যাহার মাপ, যাহার মাত্রা, যাহার ওজন, যাহার সংখ্যা,  যাহার বিস্তার, যাহার গুরুত্ব) খানসিনা (পঞ্চাশ) আলফা (হাজার ) ছানাতিন (বছর)। উরুজ করে ফেরেশতারা এবং রুহ তাহার (আল্লাহর) দিকে একদিনের মধ্যে যাহার পরিমাণ হয় পঞ্চাশ হাজার বছর। এই আয়াতে ‘উরুজ’ শব্দটির অর্থ হলো উপরে ওটা তথা ঊর্দ্ধগমন। আবার ‘উরা’ শব্দটির অর্থটি মিলনও হয়। আরবি ভাষায একটি শব্দের যে কত রকম অর্থ হয় তার কিছুটা নমুনা কোথাও-কোথাও তুলে ধরেছি। আল্লাহর সঙ্গে মিলনের জন্য আধ্যাত্মিক উর্দ্ধগতিকেও ‘উরুজ’ বলে। এই উরুজ শব্দের সঙ্গে মেরাজ নামক পরিচিত শব্দটি আমাদের জানা আছে ‘উরুজ শব্দ হতেই মেরাজ শব্দটির আগমন। ফেরেশতারা এবং রুহ আল্লাহর দিকে যে- গতিতে এগিয়ে যায় তা পৃথিবীতে বাস করা মানুষের নিকট পঞ্চাশ হাজার গুণ তিনশত ষাটদিন (হিজরি সনের গণনায়)- এই কথাটির মাধ্যমে স্থানে ও কালের (টাইম অ্যান্ড স্পেস) সীমাবদ্ধ দৈহিক গতিটিকে বোঝানো হয় নাই। কারণ, আল্লাহ স্থান এবং কালের বৃত্তের গণ্ডিতে আবদ্ধ নন। আল্লাহ কখনোই মানুষ হতে কোনো এক সুদূর স্থানে অবস্থান করেন না যার জন্য এত বড় লম্বা রাস্তটি অতিক্রম করে আল্লাহর নিকট যেতে হবে। এই গতি দৈহিক অথবা বৈষয়িক গতি (ফেনোমেনাল স্পিড)নহে । ইহা নিছক একটি আধ্যাত্মিক গতি (স্পিরিচুয়াল স্পিড) । আপন নফস হতে খান্নাসটিকে তাড়িয়ে দেবার ধ্যানসাধনায় দায়েমি সালাতে ডুবে থেকে সাধক যখন খান্নাসমুক্ত হতে পারে তখনই সে আল্লাহর রহস্যময় পরিচয়ে পরিচিতি লাভ করে। অর্থাৎ আপন নফসের মধ্যে  রহুটি যখন পরিপূর্ণ রূপ ধারণ করে, সেই পরিপূর্ণ রূপটিই হলো আল্লাহর রূপ এবং যেখানেই আল্লাহর রূপের পরিচয়টি ধরা দেবে সেখানে ফেরেশতাদের আগমনটি অবধারিত। মহানবি যে মেরাজে আল্লাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন  সেই সময়টিকেও সর্বনিম্ন সাতাশ বছর  হতে সাতাশি হাজার বছর পর্যন্ত অবস্থান করার কথাটি দেখতে পাই। অথচ মহানবির ওজুর পানি তখনও গড়িয়ে যাচ্ছিল এবং আরও কিছু ঘটনা। এই স্থান ও কালের (টাইম অ্যাণ্ড স্পেস) বিষয়টির কিছুটা পরিচয় আমরা এই আধুনিকালে বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং হতে জানতে পারি। তা ছাড়া আল্লাহর বহু ওলিরা বলেই ফেলেছে যে ‘বুদ আনদার লা মোকা  খসরু’ – তথা , খসরু লা-মোকায় অবস্থান করেছিল । মহানবি বলেছেন, আসসালাতু মেরাজুল মোমেনিন অর্থাৎ সালাতই মোমিনদের মেরাজ পক্ষান্তরে,
আল্লাহ সুরা মারেজ এর তেইশ নম্বর  আয়াতে বলেছেন, আললাজিনা হুম আলা সালাতিহিম দায়েমুন । অর্থাৎ যারা দায়েমি সালাতের উপরে তথা চব্বিশ ঘণ্টা সালাতের উপর অবস্থান করে তারাই মুসলিম। এখানে একটু লক্ষ করবার বিষয় হলো, কোরান দায়েমি সালাতের কথাটি একদম সোজসুজি বলে দিলেন পক্ষান্তরে ওয়াক্তিয়া সালাতের কথাটি কোরানে সোজাসুজি  বলা হয়নি অথবা বলেননি। ধ্যানসাধনায় রত থাকা একজন সাধক যখন আপন পবিত্র  নফস  খান্নাসটিকে তাড়িয়ে দিতে পারেন তখনই সাধক মোমিনে পরিণত হন এবং রুহ পরিপূর্ণরূপ ধারণ করে যে –দর্শনটি দান করা হয় উহাই হলো সাধকের মেরাজ।
নফস সরল, কিন্তু খান্নাস বক্র তথা আকাম-কুকামের গুরু ঠাকুর। খান্নাসমুক্ত নফসটি একদম সরল-সহজ এবং নিষ্পাপ । তাই বলা হয়ে থাকে, ‘ফেরেশতার মতো’। সুতরাং , রুহ রহস্যের ভাণ্ডার , রুহ গোপনেরও গোপন, রুহ বিজ্ঞানের বহির্ভূত বিজ্ঞান, রুহ ধারণার বহির্ভূত ধারণা। অথচ, এই রুহ প্রতিট মানুষের জীবন-রগের নিকটেই অবস্থান করে – যদিও বুঝতে পারে না এবং দুনিয়ার অনেক রকম চাকচিক্যময় মোহনীয়  বিষয়গুলো  মায়াজালে আপন নফসের  সঙ্গেই মিশে থাকা খান্নাসটি সত্যদর্শন হতে তথা রুহের পরিচয়হ হতে ফিরিয়ে রাখে অনেক রকম মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে। কোরান-এর আটত্রিশ নম্বর সুরা সাদ-এর বাহাত্তর নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ফা (সতরাং, কাজেই, অগত্যা, অতএব) ইজা (যখন , ওই সময়, হাঠাৎ) সাওয়াইতুহু (আমি এখানে আল্লাহ নিজেকে একবচনে বলেছেন এবং নাহনু তথা শব্দটি ব্যবহার করা হয় নাই। রাজা অথবা রানি সব সময় আমরা ব্যবহার করে থাকেন, কিন্তু আল্লাহ দুনিয়ার রাজা বা রানি নহেন। তাই তিনি কখনো ‘আমি’ এবং কখনো   আমরা বলেন]) তাহাকে সুষম করি, আমি তাহাকে সমান করি, সুসঙ্গতিপূর্ণ করি, সুন্দর করি, শোভন করি, যথাযোগ্য উপাদানবিশিষ্ট করি, সোজা করি, ঠিক করি, মীমাংসা করি, বিন্যস্ত করি, সাজাইয়া রাখি, মেইক হারমোনিয়াস, ওয়েল-প্রপরশন্ড, ইভেন, স্ট্রেইট শেপ, প্রপার, কারেক্ট, রেগুলার, ইনট্যাক্ট, রাইট, শেপলি) ওয়া (এবং ,আর, ও) নাফাখতু (আমি ফুৎকার দেই, আমি ফুঁ দেই) ফিহি (ইহার মধ্যে) মিন (হইতে, থেকে চেয়ে) রুহি (আমার রুহ [পাঠক , খেয়াল করুন, এখাানে নাফসি বলা হয় নাই। কারণ নফস জীবন-মৃত্যুর অধীন। অথচ এই রুহটি আমাদের মধ্যে ফুৎকার  করার কথাটি বলা হয়েছে, নফস ফুৎকার করার কথাটি বলা হয়নি। কারণ, নফস হলো প্রাণ, আর রুহ অর্থটি হলো আল্লাহর আদেশ তথা স্বয়ং আল্লাহ । কারন আদমের আগে আল্লাহ যে কাকে তৈরি করেছিলেন উহার দলিলটি হাবিল-কবিলের ঘটনাতেই দেখতে পাই। কারণ, কাকের প্রাণ আছে কিন্তু রুহ নাই। সুতরাং, প্রাণ এবং রুহ এই দুটোর মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এই বিষয়টি অনেকেরই জানা নাই]) ফাকাউ (সুতরাং তোমরা পড়িয়া যাও, সুতরাং তোমরা ভুপতিত হয়, সতরাং তোমরা নত হয়) লাহু (তাহার, তাহার জন্য) সাজিদিনা (সেজদায়, সেজদাকারী হওয়া)
সুতরাং যখন আমি তাহা সুষম করি এবং আমি ফুৎকার দেই ইহার মধ্যে আমার রুহ হইতে, সুতরাং তোমরা তাহাকে সেজদা করে। এখানে লক্ষ্য করার বিষয়টি হলো, আদমের মধ্যে আল্লাহ যে ফুৎকার করে দিচ্ছেন, সেই ফুৎকারটি কিন্তু নফস নহে। কারণ নফস জীবন-মরনের অধীন। তা ছাড়া আল্লাহর মধ্যে নফস নাই, নফস আল্লাহর গুণবাচক তথা সেফাতি সৃষ্টি। ওয়া নাফাখতু ফিহি মির রুহি- অর্থাৎ “আমি ফুৎকার ইহার মধ্যে আমার রুহ। এখানে বলা হয় নি, আমি ফুৎকার দেই ইহার মধ্যে আমার নফস। সুতরাং নফস এবং রুহের মধ্যে বিশাল পার্থক্যটি পরিষ্কাররূপে ধরা পড়ে যায়। আরও অনেক কিছু বলা যেত, লেখা যেত, কিন্তু বিস্তারিত না লিখে সামান্য একটি কথাই বলতে চাই যে আদমের পূর্বেই জিনজাতিকে আল্লাহ তৈরি করেছেন এবং কেবল জিনজাতিই নয় –বরং কাক  হতে সব রকম পাখি, পশু, গাছ-পালা, ফুল ইত্যাদিও যে আদমের আগেই তৈরি করে রাখা হয়েছে ইহাও পরিষ্কারভাবে অনুধাবন করা যায়। সুতরাং রুহ সৃষ্টির অন্তর্ভু্ক্ত নহে, রুহ সৃজনীশক্তির অধিকারী তথা এককথায় , রুহ প্রতিটি মানুষের সঙ্গে রবরূপে তথা প্রতিপালক-রূপে শাহারগের নিকটেই অবস্থান করে।
কোরান-এর পনের নম্বর সুরা হিজর-এর ঊনত্রিশ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ফা (সুতরাং, অতএব, অগত্যা, কাজে-কাজেই) ইজা (যখন , ওই,সময় হঠাৎ) সাওয়াইতুহু (আমি [এখানে আল্লাহ নিজেকে একবচনে বলেছেন এবং নাহনু তথা আমরা শব্দটি ব্যবহার করা হয় নাই। রাজা অথবা রানি সব সময় ‘আমরা’ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু আল্লাহ দুনিয়ার রাজা বা রানি নহেন। তাই তিনি কখনো ‘আমি’কখনো ‘আমরা’ বলেন] তাহাকে সুষম করি, আমি তাহাকে সমান করি, সুসঙ্গতিপূর্ণ করি, সুন্দর করি , সোজা করে, শোভন করি, যথাযোগ্য উপাদানবিশিষ্ট করি, সাজাইয়া রাখি, মেইক হারমোনিয়াস, ওয়েল প্রপরশন্ড ইভেন, স্ট্রেইট শেপড, প্রপার, কারেক্ট, রেগুলার, ইনট্যাক্ট, রাইট শেপলি) ওয়া (এবং আর, ও) নাফখতু (আমি ফুৎকার দেই, আমি ফুঁ দেই) ফিহি (ইহার মাধ্যে) মিন (হইতে, থেকে, চেয়ে) রুহি (আমার রুহ [এখানে নফস বলা হয় নি,কারণ নফস জন্ম-মৃত্যুর অধীন। রুহ –এর প্রতিশব্দ অন্য কোনো ভাষায় নাই])  ফাকাউ সুতরাং তোমরা পড়িয়া যাও, সুতরাং তোমরা ভূপতিত হও, সুতরাং তোমরা নত হও) লাহু (তাহার, তাহার জন্য) সাজিদিন (সেজদায়, সেজদাকারী হওয়া) । সুতরাং যখন আমি তাহা সুষম করি এবং আমি ফুৎকার দেই ইহার মধ্যে আমার রুহ হতে সুতরাং তোমরা তাহাকে সেজদা করো। যেহেতু এই আয়াতটির অনুরূপ আয়াতের সেজাদ করো। যেহেতু এই আয়াতটির অনুরূপ আয়াতের ব্যাখ্যা আগেই (সাদ:৭২) লেখা হয়েছে  তাই ইহার ব্যাখ্যা দেবার প্রয়োজন  আছে বলে মনে করি না।কোরান-এর ছেষট্টি নম্বর সুরা তাহরিম-এর বারো নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ওয়া (এবং, আর, ও) মরিয়ামা (মরিয়ম) ইবনাতা (কন্যা, মেয়ে ) ইমরানা (ইমরানের ) লাতি (যে, যাহা , যাহাকে, যিনি, যা , যাহার, যার যাকে) আহসানাত (হেফাজত করিয়াছেলেন , সংরক্ষণ করিয়াছিলেন, রক্ষা করিয়াছিলেন, পাহারা  দিয়েছিলেন, তত্ত্বাবধান  করিয়াছিলেন ফাজাহা (ছিড়িয়া ফেল, ফাঁড়িয়া ফেলা, ফাটা , পরুষ ও মহিলাদের লজ্জার স্তান) ফা (সুতরাং , অতএব, অগত্যা, কাজে-কাজেই ) নাফাখনা (আমরা ফুৎকার দেই, আমরা ফুকিয়া দেই[এখানে রুহ-ফুৎকার করার প্রশ্নে আল্লাহ ‘আমরা’শব্দটি ব্যবহার করেছেন তথা বহুবচনে বলা হয়েছে। কিন্তু অন্য আয়াতে বহুবচনে না বলে একবচনে তথা ‘আনা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছ   একবার ‘আমি এবং আবার ‘আমরা’ তথা একবচন এবং বহুবচন উভয়টি রুহ ফুৎকারের বেলায় কেন ব্যবহার করার  হলো উহা অধম লেখকের জানা নাই তবে এক বচন ও বহুবচন ব্যবহার করার  মাঝে অবশ্যই গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে এবং এই রহস্যটি জানা না থাকার দরুন পাঠকদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরলাম]) ফিহি (ইহার মধ্যে) মির (হইতে,থেকে, চেয়ে) রুহিনা ( আমাদের রুহ [এখানে আল্লাহ বহুবচনে রুহ-ফুৎকার করছেন]) ওয়া (এবং আর,ও) সাদদাকাত (সে সত্য  হিসাবে মানিয়া লইয়াছ, সে সত্য বলিয়া বিশ্বাস করিয়াছে, সে সত্যায়িত করিয়াছে, সে সত্যতা স্বীকার করিয়াছে, সে সাক্ষ্য দিয়াছে) বিকালিমাতি (বাণীসমুহের সহিত, কথাগুলির সহিত , শব্দসমূহের সহিত, উক্তিসমূহের সহিত,ভাষন সমূহের সহিত) রাববিহা (তাহার রবের, তাহার প্রতিপালকের, তাহার সদাপ্রভুর) ওয়া (এবং আর, ও) কুতুবিহি (তাঁহার কিতাবসমূহ, তাহার প্রত্যাদেশসমূহ)  ওয়া (এবং আর, ও) কানাহ (তিনি ছিলেন, তিনি হন) মিলান (হতে, থেকে , চেয়ে) কানিতিন(অনুগ্যতদেরর, অধীনদের , অনুসরণকারীদের, আশ্রিতদের।
এবং ইমরানের কন্যা মরিয়ম যিনি হেফাজত করিয়াছিলেন তাহার লজ্জাস্থান সুতরাং আমরা ফুৎকার দেই ইঁহার মধ্যে আমাদের রুহ হতে এবং তিনি সত্য বলিয়া মানিয়া লইয়াছেন তাহার রবের বাণীসমূহ এবং তাহর কিতাবসমূহ এবং তিনি ছিলেন অনুগতদের হইতে একজন।
প্রথমেই পাঠকদেরকে বলে রাখতে চাই যে, এই আয়াতের ব্যাখ্যাটি লেখা উদ্দেশ্য নয়, বরং মূল উদ্দেশ্যাটি হলো রুহ ফুৎকারে বিষয় কোরানার কোথাও একটি বারে তরে নফস ফুৎকারের কথাটি বলা হয় নাই। সুতরাং.আমার মূল উদ্দেশ্যটি হলো নফসও রুহের পার্থক্যটি পাঠকদের সামনে তুলে ধরা। আমার জানা মতে, কোরান-এ বিশটি আয়াতে একুশবার রুহ শব্দটি বলা হয়েছে এবং যে-যে সুরার যে-যে আয়াতে রুহ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে উহাই তুলে ধরাটি হলো মুখ্য উদ্দেশ্য। রুহ যে মোটেও প্রাণ নহে তথা নফস নহে এই কথাটুকু পাঠকদের বুঝিয়ে দেবার জন্যই এই প্রচেষ্টা।  বিস্তারিত ব্যাখ্যাটি তখনই লেখা হবে যখন কোরান –এর কোনো সুরার সব আয়াতের ব্যাখ্যা লেখা হবে । তবে এই কথাটি পরিষ্কার বোঝা গেল যে, রুহ-ফুৎকার বিষয়টি কেবলমাত্র নবি-রসুলদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নহেন, বরং আল্লাহর একান্ত অনুগত বান্দাদের মধ্যেও রুহ-ফুৎকার করা হয় এবং রুহ-ফুৎকারও যে একটি সার্বজনীন বিষয় ইহাও পরিষ্কার বোঝা গেল। কোরান-এর পাঁচ নম্বর সূরা মায়েদার একশত দশ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে । ইজ (যখন যে-সময়, যেহেতু , কারণ হাঠাৎ, আকস্মাৎ, অতঃপর) কালাল্লাহু (আল্লাহ বলিলেন) ইযা (হে ) ইসা (ইসা) বিনা (পুত্র) মারিয়ামা (মারিয়মের) আজকুল (তুমি জিকির করো, তুমি মনে করো, তুমি স্মরণ করো) নিয়ামাতি (আমার নেয়ামতের , আমার অনুগ্রহের , আমার দয়ার, আমার প্রসাদের , আমার প্রসনন্নতার  , আমার আনুকূল্যের ,আমার উপকারের) আলাইকা( তোমার উপর) ওয়া (এবং আর, ও ) আলা (উপর ) ওয়ালিদাতিকা (তোমার মায়ের, তোমার মাতার)। আল্লাহ বলিলেন , হে মরিয়মের পুত্র ইসা, তুমি জিকির করো তোমার উপর এবং তোমার মায়ের  উপর ।
উজাপ (যখন ) আইয়াততুকা (তোমাক সাহায্য করিলাম) বিরুহিলকুদুসি(পবিত্র রুহের সহিত, পবিত্র রুহের দ্বারা তোমাকে সাহায্য করিলাম) তুকাললিমু  (তুমি কথা বলিতে) নাসা  (মানুষের [সাথে ]) ফিল (মধ্যে ) মাহদি (কোল, মায়ের কোল, বিছানা, দোলনা) ওয়া (এবং ) কাহলান (মধ্য বয়সে, পরিণত বয়েসে) মানুষের (সাথে ) তুমি কথা বলিতে দোলনার মধ্যে এবং পরিণত বয়সে। ওয়া (এবং) ইজ (যখন) আইয়াততুকা (তোমাকে শিক্ষা দিলাম ) কিতাবা  (কিতাব) ওয়া (এবং) হিকমাতা (হিকমত, বিজ্ঞান) ওয়া (এবং) তাওরাতা (তাওরাত) ওয়া(এবং) ইনজিলা (ইঞ্জিল)। এবং যখন তোমাকে শিক্ষা দিলাম কিতাব এবং হিকমত এবং তাওরাত এবং ইঞ্জিল। ওয়া (এবং) ইজা (যখন) তাখলুকু (তুমি তৈরি করিয়াছে, তুমি বানাইয়াছ) মিনাত (হইতে) তিনি (মাটি ) কাহাইয়াতি(মতো, আকৃতিসদৃশ্য,  সুরতে) তাইরি (পাখি) বিইজনি(আমার নির্দেশে, আমার হুকুমে, আমার আদেশে) ফাতানফুখু (সুতরাং ফুঁকলে , সুতরাং ফু দিলে)  ফিহা (উহার মধ্যে) ফাতকুনু (সুতরাং হইয়া যাইত) তাইরাম (পাখি) বিইজনি (আমার নির্দেশে , আমার হুকুমে , আমার আদেশে) ওয়া (এবং ) তুবরিউল তুমি ভালো করিয়া দিতে, তুমি নিরাময় করিয়া দিতে ) আকমাহা (জন্মান্ধ) ওয়াল (এবং ) আবরাসা (কুষ্ঠরোগী) বিইজনি (আমার  নির্দেশে, আমার হুকুমে, আমার আদেশে)। এবং যখন তুমি আমর হুকুমে মাটি হইতে পাখির মতো আকৃতি তৈরি করিতে, সুতরাং উহার মধ্যে ফু দিতে  সুতরাং (উহা ) আমার হুকুমে পাখি হইয়া যাইত এবং তুমি আমার হুকুমে জন্মান্ধ এবং কুষ্ঠরোগকে ভালো করিতে। ।
ওয়া (এবং )ইজ (যখন ) তুখরিজুল(তুমি বাহির করিতে , তুমি জীবিত করিতে) মাওতা(মৃতদেরকে) বিইজনি (আমার হুকুমে , আমার নির্দেশে)।এবং  যখন আমার হুকুমে তুমি মৃতদেরকে জীবিত করিতে। ওয়া (এবং )ইজ (যখন ) আফাফতু (বিরত রাখিয়াছিলাম) বানি ইসরাইল ( বনি ইসরাইলকে ) আনকা (তোমা হইতে) । এবং যখন বনি ইসরাইলকে তোমার হইতে বিরত রাখিলাম। ইজ (যখন ) জিতাহুম(তুমি তাহাদের নিকট আসিলে) বিলবাইয়িনাতি (সুষ্পষ্ট নির্দশনসমূহসহ) ফাকালাল (সুতরাং বলিয়াছিলি) লাজিন(যাহারা) কাফারু( কাফেরেরা, অস্বীকারকারীরা) নিহম, (তাহাদের মধ্যে) ইন  (নহে ,নয়) হাজা(এইটা) ইললা( একমাত্র, কিন্তু , ব্যতীত) সিহরুম(জাদু) মুবিনুন(প্রকাশ্য, সুস্পষ্ট)।যখন তুমি তাহাদের নিকট আসিলে সুষ্পষ্ট নির্দশনসমূহসহ সুতরাং যাহারা কাফের তাহাদের মধ্য হইতে বলিয়াছিল, এইটা পরিষ্কার জাদু ছাড়া (আর কিছু ) নয়। এই  আয়াতে পবিত্র রুহের দ্বারা সাহায্য করার কথাটি বলা হয়েছে। পাঠক , খেয়াল করুন, এখানে পবিত্র নফস দ্বরা সাহায্য করার কথা বলা হয় নাই। অবশ্য কেহ-কেহ না বুঝে না শুনে ‘রুহুল কুদ্দুস' তথা ‘পবিত্র রুহ’ অনুবাদ করার সময় জিবরাইল নামক এক ফেরেশতার নামটি বসিয়ে দেয়। একটিবারের তরেও ভেবে দেখে না যে, জিবরাইল ফেরেশতা আল্লাহর সিফতি নুরের তথা গুণবাচক ‍নুরের তৈরি এবং কোরান-এর কোথাও একটি বারের তরেও । এই কথাটি বলা হয়নি যে, ফেরেস্তাদের নফসও আছে, রুহও আছে। নফস এবং রুহ –দুইটির একটিও ফেশেতাদেরকে দেওয়া হয়নি। তাহলে রুহুল কুদ্দুস তথা পবিত্র রুহ কথাটির দ্বারা কেমন করে জিবরাইল ফেরেশতাকে বোঝানো হয়েছে  ইহা অধম লেখকের জানা নাই। । এখানে আমরা সুরা মায়েদার ধারাবাহিক শব্দার্থ , বাক্য গঠন এবং ব্যাখ্যা লিখছি না, লেখছি কেবলমাত্র রুহ-এর পরিচয়টি তুলে ধরতে এবং রুহ ও নফসের মধ্যে যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য উহাই তুলে ধরতে। একটু খেয়াল করুন তো, মায়ের কোলে অথবা দোলনার শিশুটি কেমন করে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারে? কেমন করে এই শিশুটিকে কিতাব এবং হিকমত দেওয়া যেতে পারে? ইহা কি একটি অতীব আশ্চর্যজনক ঘটনা নহে ? শুধু কি কিতাব ও হিকমতই দান করেছেন । অবাক হই, দুই-দুইটি সহিফা – একটির নাম তাওরাত এবং অপরটির নাম ইঞ্জিল  শিক্ষা দিয়েছেন দোলনায় থাকা অবস্থায় । আল্লাহর এত বড় অপরিসীম দান সত্যিই মানবজাতিকে ভাবিয়ে তোলে।  এখানেই শেষ করে দেওয়া হয়নি , বরং আরও এগিয়ে গিয়ে বলা হয়েছে যে মাটি দিয়ে বানানো পাখির মতো একটি মাটির পাখি তৈরি করে আল্লাহর হুকুমে ফুৎকার দেবার সঙ্গে-সঙ্গে ইহা জীবন্ত পাখিতে পরিণত হয়ে যেতে। মাটি দিয়ে তৈরি পাখির মধ্যে রুহ থাকার তো প্রশ্ন উঠে না বরং প্রানটিও নাই অথচ প্রানহীন মাটির তৈরি খেলনার মতো পাখিতে আল্লাহর ফুৎকার দেবার সঙ্গে  সঙ্গে উহা জীবন্ত পাখিতে পরিণত হয়ে  যাওয়াটা কি একটি অভাবনীয়, অচিন্তনীয, বিস্ময়কর ঘটনা বলে মনে হয় না? আল্লাহ আরও বলছেন যে, জন্মান্ধ এবং কুষ্ঠ রোগীরদকেও আল্লাহর হুকুমে ভালো করে দিয়েছে।  তারপরের কথাটি সবাইকে অবাক করে তোলে আর সেটি হলে, মৃতব্যক্তিদরকে  “ আল্লাহর হুকুমে জীবিত হও বলার সঙ্গে সঙ্গে জীবিত হয়ে যেত। এত কিছু দেখার পরেও যারা কাফের তারা নবি-রসুল-রূপে মেনে নেওয়া তো দূরে থাক , বরং জঘন্য ভাষায় বলতো যে ,এগুলো হচ্ছে প্রকাশ্য জাদু । সুতরাং , যাদের তকদিরে ইমান শব্দটি লেখা হয় নাই তাদেরকে বড়-বড় জ্বলন্ত দৃষ্টান্তগুলো একের পর এক দেখিয়ে দিলেও কেমন করে ইমান আনবে আর কেমন করেই বা বিশ্বাস স্থাপন করবে ? সুতরাং সব সিন্ধান্তের  শেষ সিন্ধান্তটি হলো, মেনে নেওয়াটাও তকদির এবং অস্বীকার করাটাও তকদির। এই তকদিরের বলয় হতে আল্লাহর বিশেষ রহমত ছাড়া বেরিয়ে আসা যায় না। এটাই সত্য।  এটাই নির্মম সত্য। এটাই উলঙ্গ সত্য। এটাই স্বতঃসিদ্ধ সত্য।

সগীরে  আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী  আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন