নফস ও রুহের পার্থক্য - ১২
সারাটি জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই। এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।
------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।
নকশেবন্দি- মুজাদ্দেদি তরিকা, চিশতিয়া-কাদেরিয়া তরিকা, আবু - উলাই তরিকা, কালান্দারিয়া তরিকার শান গেয়েই গেলেন , শান না গাইলেও কিছু আসে যায় না। প্রশ্ন হলো? আপনি তো তিন নম্বর ছাগলের বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে শুধু লাফালাফিই করেই গেলেন।
------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।
আমার পীর বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীরের সঙ্গে অন্য পীরের তুলনা করাই যায় না। কারণ, কোরানে ২১ বার রুহ বিষয়ে বলা হয়েছে, এবং এই ২১ বারই একবচনে বলা হয়েছে রুহের বহুবচন নাই । রুহ ফুৎকার করা হয়– নফস নয় । এই বিষয়ে অবাক করা ব্যাখ্যাটি সমগ্র পৃথিবীতে আমার বাবাই দিয়ে গেছেন। কথাটি শুনতে ভাল লাগবে না, কিন্তু আসলে ইহা একটি তিক্ত সত্য কথা। আমার পীর বাবার পঁচিশটি বই কোরানের পনের পারার অনুবাদ কিছুটা ব্যাখ্যা এবং আট জি.বি তেষট্টি ঘন্টার মেমোরিকার্ডটি শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন আমার কথার সত্যতাটি।
-------শাহ সূফি ময়েজউদ্দিন আল সুরেশ্বরী।
যারা অজানা কিছু জানতে আগ্রহী
তাদেরকে বলছি, সবাইকে নয়।
তোমার পীর যত বড় পীরই হোক না কেন
যদি তুমি তার থেকে সত্য না পাও তবে
ফেলে দাও তাকে। কারণ পীর এখানে মুখ্য
বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হলো সত্য পাওয়া।
সত্য হলো আল্লাহর রহস্য লোকের কিছু জানা।
সুরেশ্বরীর শান কত বড় রে, ভান্ডারীর শান
কত বড় রে, খাজা বাবার শান কত বড় রে,
শান বললেও আছে, না বললেও আছে, তুমি
কি ঘোড়ার ডিমটা পাইলা। তুমিতো বকরির
তিন নম্বর বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে পীরের
বাড়িতে গিয়ে শুধু লাফালাফিই করে গেলা।
আসো বসো মুরিদ হও, ধ্যান-সাধনা কর, যদি
আল্লাহর রহস্যলোকের কিছুই না পাও
আমাকে ফেলে চলে যাও। এখানে পীর বড়
নয় এখানে সত্য বড়। সারা জীবন বাবা
বাবা ডাকবা পাইবা না ঘোড়ার ডিমও
সেই বাবা ডাইকা কোন লাভ নাই।
--------কালান্দার ডাঃ বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল
আমার চাওয়া-পাওয়াটি কী ছিল? আমি তা নিজেই জানতে পারলাম না। এমনকি মরনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত।
~হযরত সাকীব
যে পীর মুরিদের ধন-সম্পদের দিকে তাকায় বলে দাও সে দুনিয়াদার মরদুদ (মরদুদ শয়তান)
--------কালান্দার ডাঃ বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল
গোত্রের দ্বারা বিমোহিত হবার থেকে মুক্ত থাকবার জন্য ব্যক্তিকে সবসময় সংগ্রাম করতে হয়েছে । যদি তুমি এই চেষ্টা কর, তোমাকে প্রায়ই নিঃসঙ্গ হয়ে যেতে হবে। কখনও তোমাকে ভয় দেখানোও হবে। কিন্তু নিজেকে লাভ করবার যে সুবিধা সেটা পাবার জন্য কোনো মূল্যই খুব বেশি নয়।
---------ফ্রেডারিক নিটশে
আল্লাহর প্রত্যেক ওলি যাদেরকে আমরা মহামানব বলে থাকি তাঁরা রুহুল্লাহ তথা আল্লাহর রুহ। কিন্তু এখানে একটি বিরাট কথা থেকে যায়, আর সেই কথাটি হলো, সাধক যখন নফস হতে খান্নাসকে মুক্ত করতে পারেন তখনই রুহুল্লাহ হন, তবে যারা মাসুম , মহানবির আওলাদেরা এবং সকল নবিই আজন্ম রুহ প্রাপ্ত, যদিও হজরত ইসা (আ.) তথা যিশুখ্রিস্টকে সাধারণভাবে রুহুল্লাহ বলা হয়ে থাকে এবং যেহেতু কোরান-এ বলা হয়েছে 'আমরা ইসাকে – রুহুল কুদ্দুস দ্বারা শক্তিশালী করেছিলাম।' এই কথাটির দ্বারা অনেকেই ভুল করে বসেন , কারণ ইহাতে হজরত ইসা নবির শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হয় না বরং বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ হয়। এই রুহের পরিপূর্ণ বিকাশটিকেই আবার নুরে মুহাম্মদির ভাণ্ডার বলা হয়।
একটি বিখ্যাত হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে যে, মানবদেহের মাঝে কলব আছে। কলবের মাঝে আছে 'ফুয়াদ' অর্থাৎ অনুভূতিও চিন্তার বিচিত্র গতিপ্রবাহ। এই ফুয়াদের মধ্যে রুহ উদ্ভাসিত হয় তখনই যখন ফুয়াদ খান্নাসমুক্ত হয় । রুহের মাঝে আছে 'সেরর' তথা রহস্য। সেরর তথা রহস্য। সেরর তথা রহস্যের মাঝে আছে ‘নুর’ তথা নুরে মুহাম্মদি । নুরে মুহাম্মদির মধ্যে আছে 'আনা' তথা 'আমিই আমি'। আল্লাহ বলেছেন, নুরের মাঝে শুধু আমিই আছি।
এখানে যারা মহানবিকে প্রশ্ন করছে তারা কমবেশি বিদ্যাবুদ্ধির অধিকারী । কিন্তু রুহ বিষয়ে প্রশ্ন করার সঙ্গে-সঙ্গে আল্লাহ মহানবিকে বলে দিলেন এই বলে যে, রুহ হলো আমার প্রতিপালকের আদেশ। তারপর বলা হলো, এই রুহ বিষয়ে তোমাদেরকে অতি সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে। কেন আল্লাহ রুহ বিষয়ে অতি সামান্য জ্ঞান দান করলেন এই বিষয়টি নিয়ে খুব কমই গবেষণা করা হয়ে থাকে। আর গবেষণা করলেই বা লাভ কী, কারণ যত গবেষণাই করা হোক না কেন উহার ফলটি যে অতি সামান্য হতে বাধ্য ইহা তো আল্লাহ আগেই বলে দিয়েছেন। তবে যারা ধ্যানসাধনার মোরাকাবা-মোশাহেদার দায়েমি সালাতে নির্জনে একাকি বিরাট ধৈর্যধারণ করে সাধনাটি করতে পারেন এবং যদি আল্লাহর বিশেষ রহমতটি দান করা হয় তবেই রুহের প্রকৃত পরিচয়টি জানা যায়, বোঝা যায় এবং ইহাই আইনুল ইমান অথবা হাককুল ইমান তথা যে-ইমানটির এদিকে-সেদিক হবার অথবা যাওয়া-আসার সম্ভাবনাটি আর থাকে না। এই ইমানের অধিকারীদেরকেই মোমিন বলা হয়ে থাকে। এই ইমানের বাহিরে যারা ইমান রাখে তাদেরকেই আমানু বলা হয়। তাই আমরা দেখতে পাই, কোরান-এর ২৬৫ টি আয়াতে আমানু শব্দটি মোট ২৭৮ বার উল্লেখ করা হয়েছে । অথচ পরক্ষনে মোমিন শব্দটি কোরান-এর ১৪১ আয়াতে মাত্র ১৫১ বার উল্লেখ করা হয়েছে । যে-মানুষটি নফসে মোৎমায়েন্নার অধিকারী হতে পেরেছেন তিনিই মোমিন এবং জান্নাতের সুসংবাদটি তাকেই দেওয়া হয়েছে। রুহ যে স্বয়ং আল্লাহ রব-রূপে প্রতিটি মানুষের সঙ্গে শাহারগের নিকটেই তথা জীবন-রগের কাছেই অবস্থান করছেন সেই জ্ঞানটি অতি অল্পসংখ্যক মানুষই বুঝতে পারেন। কারণ অতি অল্পসংখ্যক মানুষই ধ্যানসাধনার মোরাকাবা-মোশাহেদার দায়েমি সালাতে ডুবে থাকেন। আর আমরা সবাই ছরছর করি। সুতরাং, রুহের পরিচয়টি জানবার ইচ্ছাটি যার প্রবল তিনি অবশ্যই ধ্যানসাধনার দিকে এগিয়ে যাবেন। মানুষ বৈষয়িক বিষয়ের চাকচিক্যময় লোভ-মায়ার আকর্ষণে খান্নাসের কুমন্ত্রণায় বিভোর হয়ে থাকে। তাই রুহ বিষয়টি কেমন করে জানতে পারবে?
কোরান -এর দুই নম্বর সূরা বাকারার দুইশত তিপ্পান্ন নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: তিলকা(ওই) রসুলু (রসুলেরা, রসুলগণ) ফাদদালনা (আমরা ফজিলত দিয়াছি, আমরা মর্যাদা দিয়াছি, আমরা শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছি) বাদাহুম (তাহাদের কেহ কেহ ) আলা (উপর) বাদিন (অংশ, টুকরা, সম্পূর্ণ বস্তুর কিছু অংশ, কিছু, কাহারও)।
ওই রসুলগণ আমরা ফজিলত দিয়াছি তাহাদের কাহাকেও কাহারও উপর।
মিনহুম (তাহাদের মধ্য হইতে) মান (কাহারও ,কেহ) কাললামা (কথা বলিয়াছেন) আল্লাহু (আল্লাহ ) ওয়া (এবং) রাফাআ( ঊর্ধ্বে স্থাপন করিলেন, উপরে উঠাইলেন, উঠাইলেন) বাদহুম (তাহাদের কেহ-কেহ) দারাজাতিন (মর্যাদা, ধাপ, সিঁড়ি) ।
তাহাদের মধ্য হইতে আল্লাহ কথা বলিয়াছে কাহারও (সাথে) এবং মর্যাদায় ঊর্ধ্বে স্থাপন করিলেন তাহাদের কেহ-কেহকে।
ওয়া (এবং) আতাইনা (আমরা দান করিয়াছি) ইসা (ইসাকে) ইবনা (পুত্র) মারিয়ামা (মারিয়মের) বাইইনাতি (খোলা চিহ্নসমূহ, উজ্জ্বল প্রমাণ) ওয়া(এবং) আইয়াদনাহু (আমরা তাহাকে সাহায্য করিয়াছি, শক্তি দিয়াছি) বিরুহি (রুহের দ্বারা ) কুদুসি (খুব পবিত্র, পবিত্র সত্তা)। এবং আমরা দিয়াছি মরিয়মের ছেলে ইসাকে উজ্জ্বল প্রমাণ এবং আমরা তাঁহাকে (ইসাকে) সাহায্য করিয়াছি খুব পবিত্র রুহের দ্বারা।
ওয়া (এবং) লাও (যদি ) শাআ (চাইতেন, ইচ্ছা করিতেন) আল্লাহু (আল্লাহ) মা (না) ইকতাতালা (সে যুদ্ধ করিল, পরস্পর যুদ্ধ করা) আললাজিনা (যাহারা ) মিন (হইতে) বাদি (পরে) হিম (তাহাদের ) মিমবাদি (হইতে পরে) মা (যাহা) জাআতহুমু (তাহাদের কাছে আসিয়াছিল) বাইইনাতু (উজ্জ্বল প্রমাণ) ওয়ালাকিনি (এবং কিন্তু) ইখতালাফু (তাহারা মতভেদ করিল, তাহারা মতবিরোধ করিল) ফামিনহুম(সুতরাং তাহাদের মধ্য হইতে) মান (যে , কেহ, কাহারও ) আমানা (ইমান আনিয়াছে, ইমান আনিল) ওয়া (এবং) মিনহুম (তাহাদের মধ্য হইতে) মান (কেহ) কাফারা (কুফরি করিল,অস্বীকার করিল)
এবং যদি আল্লাহ ইচ্ছা করিতেন তাহারা পরস্পর যুদ্ধ করিত না তাহাদের পর হইতে যাহারা, যাহা তাহাদের কাছে উজ্জ্বল প্রমাণগুলি আসিয়াছিল ইহার পরেও এবং কিন্তু তাহারা মতবিরোধ করিল সুতরাং তাহাদের মধ্য হইতে কেহ ইমান আনিল এবং তাহাদের মধ্য হইতে কেহ কুফরি করিল।
ওয়া (এবং ) লাও (যদি) শাআ (ইচ্ছা করিতেন) আল্লাহু (আল্লাহ ) মা (না ইকতাতালু (তাহারা একে–অপরকে হত্যা করিত)।
এবং যদি আল্লাহ ইচ্ছা করিতেন তাহারা এক–অপরকে হত্যা করিত না ।
> ওয়া (এবং) লাকিননা (কিন্তু) আল্লাহ (আল্লাহ) ইয়াফ্আলু (করেন) মা (যাহা) ইউরিদু (তিনি চাহেন)।
>এবং কিন্তু আল্লাহ করেন যাহা চাহেন।
এই আয়াতে আল্লাহ নিজেই ঘোষণা করছেন এই বলে যে, রসুলগণের মধ্যে তিনি ফজিলতের প্রশ্নে কিছুটা কম-বেশি করেছেন। অথচ এই সুরা বাকারাতেই আল্লাহ তাদেরকে তথা মানুষদেরকে রসুলগণের সাথে ছোট-বড় করার ভাগ করতে নিষেধ করে দিয়েছেন। আমরা এই কথাটুকুর মাঝে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে আল্লাহ মর্যাদার প্রশ্নে তথা ফজিলতের বিষয়ে রসুলগনের মধ্যে একজন হতে আরেকজনকে মর্যাদাবান বেশি করেছেন। যেহেতু এই মর্যাদার বিভাজনটি রসুলগণের মধ্যে তিনিই করেছেন সেইহেতু কোন কিছু বলার এবং অভিযোগ করার প্রশ্নটি অবান্তর। অথচ আমাদেরকে রসুলগনের মধ্যে ছোট-বড় করতে মানা করে দিয়েছেন। কারণ, যদিও রসূলগণ আমাদেরই মতো অথচ রসুলগণ মোটেও আমাদের মতো নহেন। যেহেতু রসুলেরা আমাদের মতো নহেন সেই হেতু আল্লাহ আমাদেরকে ছোট-বড় করতে তথা পার্থক্য করতে মানা করে দিয়েছেন।
আবার আল্লাহ বলেছেন, রসুলগণের মধ্যে তিনি কারো সঙ্গে কথা বলেছেন। এই কথাটির গভীর রহস্য অধম লেখকের পরিষ্কার জানা থাকলেও অপরিষ্কারের ভান করে বলতে হচ্ছে যে তিনি (আল্লাহ )রাসুলদের মধ্যে অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছেন। আবার তিনি বলছেন যে উচ্চমর্যাদার প্রশ্নে রসুলগণের মধ্যে কাহাকেও উচ্চমর্যাদাটি দান করেছেন। তারপর আল্লাহ বলেছেন, মরিয়মপুত্র হজরত ইসা রুহুল্লাহ (আ)-কে উজ্জ্বল প্রমাণ দান করেছেন । এখন প্রশ্ন হলো, এই উজ্জ্বল প্রমাণ (বাইইনাত) বলতে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন? অধম (বাইইনাত) বলতে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন? অধম লেখকের মনে হয় যে এই উজ্জ্বল প্রমাণটি হলো হজরত ইসা রহুল্লাহ (আ.) দোলনাতে শুয়ে –শুয়েই কথা বলতেন। তিন দিনের শিশু অবস্থায় আর কোনো রসুল কথা বলেছেন কিনা উহা অধম লেখকের জানা নাই। কিন্তু হজরত ইসা রুহুল্লরাহ (আ.) যে জন্মগ্রহণ করেই কথা বলতে শুরু করেছেন ইহার জ্বলন্ত দলিলটি আমরা কোরান-এই পাই। কথিত আছে যে, দোলনায় শুয়ে- শুয়ে শিশু ইসা রুহুল্লাহ (আ.) যখন মানুষদের সঙ্গে কথা বলতেন তখন সেই মানুষেরা অবাক বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে যেত এবং ভক্ত তথা মুরিদ হয়ে যেত। তারপরে আবার মরিয়ম পুত্র ইসাকে রহুল কুদ্দুস তথা অতি পবিত্র রুহ দ্বারা শক্তিশালী করার কথাটিও বলা হয়েছে। অধিকাংশ তফসিরকারকেরা রুহুল কুদ্দুসের অর্থটি বুঝতে না পেরে অনুমানের গুলমারা বিদ্যাটি জাহির করে ফেলেছেন। আর সেই গুলমারা বিদ্যাটি হলো, রুহুল কুদ্দুস বলতে তারা ফেরেশতা জিবরাইলের কথাটি উল্লেখ করেছেন। হায় রে খোদা! এরা কি এটুকু বেমালুম ভুলে গেছেন যে, জিবরাইল ফেরেশতার নফসও নাই এবং রুহও নাই তথা নির্বাচন করার অধিকার হতে ফেরেশতারা সম্পূর্ণ ভাবে বঞ্চিত । আসলে ফেরেশতা জিবরাইলের নাম যদি রুহুল কুদ্দুস দেওয়া হয় তা হলে ইহা অনেকটা কানা ছেলের নাম পদ্মলোচনের মতো শোনায়, তথা চোখই নাই অথচ কী সুন্দর অপূর্ব চোখ দুইটি । বুকে হাত রেখে বিবেককে ফাঁকি না দিয়ে একবার ভাবুন তো যে, আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে কোনো নফস এবং কোনো রুহ দান করেন নি। আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টজীবকে আল্লাহ নফস দান করেছেন, কিন্তু রুহ দান করেন নাই-একমাত্র মানুষ এবং জিন ছাড়া। তাই আমরা দেখতে পাই , মানুষের মধ্যে যে –রকম আল্লাহর ওলি হয়, তেমনি জিনের মধ্যেও আল্লাহর ওলি হয় । যেহেতু জিনজাতির সঙ্গে আমাদের তথা মানুষদের সঙ্গে পরিচয় না বললেই চলে তাই ইচ্ছা করেই জিনজাতির কথাটি বাদ দিয়ে যাই। আমরা জানি, ফেরেশতারা অতি পবিত্র, কিন্তু সর্বশ্রেষ্ঠ নহে । সর্বশ্রেষ্ঠ হলো মানুষ। তাই মানুষকে আল্লাহ 'আশরাফুল মাখলুকাত'- তথা সৃষ্টির স্রেষ্ঠ জীব বলে আখ্যায়িত করেছেন । ফেরেশতারা অতি পবিত্র হয়েও এই সর্বশ্রেষ্ঠ গুণটির ধারের-কাছেও নাই। কারণ, নির্বাচন করার ক্ষমতাটি ফেরেশতাদেরকে দেওয়া হয় নি। নির্বাচন করার কথাটি তখনই আসে যখন ভালো এবং মন্দের মিশ্রণ করা হয়। ভালো-মন্দের অধিকারটি দান করলেই সীমিত স্বাধীন ইচ্ছা শক্তিটিও দান করা হয়ে যায়। কারণ, কান টানলে মাথা আপনিই আসবে। আল্লাহর এত বড় –বড় জ্বলন্ত প্রমাণসমূহ দেখার পরেও মানুষ উহা হতে শিক্ষা গ্রহণ না করে বরং পরস্পর হিংসা, বিদ্বেষ, মারামারি, হত্যাযজ্ঞ এমনকি ভয়ঙ্কর যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছে বারবার। ইহা মানবজাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কের তিলক হয়ে আছে এবং থাকবে। তাই এই সীমিত ইচ্ছা শক্তিটি দান করার দরুন কেহ ইমান আনবে, কেহ সরাসরি কুফরি করবে। ভালো এবং মন্দের এই লীলাখেলাটি যুগ-যুগ ধরে চলে আসছে অনেক রূপ ও রঙ্গে এবং অনেক রকম লেবাসে।যেহেতু আল্লাহ মানুষকে সীমিত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিটি দান করেছেন তথা নির্বাচন করার অধিকারটি দিয়েছেন সেই হেতু আল্লাহ ইহার উপর হস্তক্ষেপ করেন না। যদি হস্তক্ষেপ করতেন তাহলে এই হত্যাযজ্ঞের লীলাখেলাটির চিরতরে অবসান হতো। এখানে অনেকেই আল্লাহকে গোপনে দোষ দিতে চায় । কিন্তু অধম লেখক নিরপেক্ষ মনে বলছি যে , স্বাধীনতা দেবার পর যদি উহ হরণ করা হয় তা হলে এই স্বাধীনতার মর্যাদাটি থাকে কোথায় ? সুতরাং সর্বপ্রকার দোষ হতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জাল্লাশানাহু সম্পূর্ণ মুক্ত।
সগীরে আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।
সারাটি জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই। এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।
------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।
নকশেবন্দি- মুজাদ্দেদি তরিকা, চিশতিয়া-কাদেরিয়া তরিকা, আবু - উলাই তরিকা, কালান্দারিয়া তরিকার শান গেয়েই গেলেন , শান না গাইলেও কিছু আসে যায় না। প্রশ্ন হলো? আপনি তো তিন নম্বর ছাগলের বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে শুধু লাফালাফিই করেই গেলেন।
------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।
আমার পীর বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীরের সঙ্গে অন্য পীরের তুলনা করাই যায় না। কারণ, কোরানে ২১ বার রুহ বিষয়ে বলা হয়েছে, এবং এই ২১ বারই একবচনে বলা হয়েছে রুহের বহুবচন নাই । রুহ ফুৎকার করা হয়– নফস নয় । এই বিষয়ে অবাক করা ব্যাখ্যাটি সমগ্র পৃথিবীতে আমার বাবাই দিয়ে গেছেন। কথাটি শুনতে ভাল লাগবে না, কিন্তু আসলে ইহা একটি তিক্ত সত্য কথা। আমার পীর বাবার পঁচিশটি বই কোরানের পনের পারার অনুবাদ কিছুটা ব্যাখ্যা এবং আট জি.বি তেষট্টি ঘন্টার মেমোরিকার্ডটি শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন আমার কথার সত্যতাটি।
-------শাহ সূফি ময়েজউদ্দিন আল সুরেশ্বরী।
যারা অজানা কিছু জানতে আগ্রহী
তাদেরকে বলছি, সবাইকে নয়।
তোমার পীর যত বড় পীরই হোক না কেন
যদি তুমি তার থেকে সত্য না পাও তবে
ফেলে দাও তাকে। কারণ পীর এখানে মুখ্য
বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হলো সত্য পাওয়া।
সত্য হলো আল্লাহর রহস্য লোকের কিছু জানা।
সুরেশ্বরীর শান কত বড় রে, ভান্ডারীর শান
কত বড় রে, খাজা বাবার শান কত বড় রে,
শান বললেও আছে, না বললেও আছে, তুমি
কি ঘোড়ার ডিমটা পাইলা। তুমিতো বকরির
তিন নম্বর বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে পীরের
বাড়িতে গিয়ে শুধু লাফালাফিই করে গেলা।
আসো বসো মুরিদ হও, ধ্যান-সাধনা কর, যদি
আল্লাহর রহস্যলোকের কিছুই না পাও
আমাকে ফেলে চলে যাও। এখানে পীর বড়
নয় এখানে সত্য বড়। সারা জীবন বাবা
বাবা ডাকবা পাইবা না ঘোড়ার ডিমও
সেই বাবা ডাইকা কোন লাভ নাই।
--------কালান্দার ডাঃ বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল
আমার চাওয়া-পাওয়াটি কী ছিল? আমি তা নিজেই জানতে পারলাম না। এমনকি মরনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত।
~হযরত সাকীব
যে পীর মুরিদের ধন-সম্পদের দিকে তাকায় বলে দাও সে দুনিয়াদার মরদুদ (মরদুদ শয়তান)
--------কালান্দার ডাঃ বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল
গোত্রের দ্বারা বিমোহিত হবার থেকে মুক্ত থাকবার জন্য ব্যক্তিকে সবসময় সংগ্রাম করতে হয়েছে । যদি তুমি এই চেষ্টা কর, তোমাকে প্রায়ই নিঃসঙ্গ হয়ে যেতে হবে। কখনও তোমাকে ভয় দেখানোও হবে। কিন্তু নিজেকে লাভ করবার যে সুবিধা সেটা পাবার জন্য কোনো মূল্যই খুব বেশি নয়।
---------ফ্রেডারিক নিটশে
আল্লাহর প্রত্যেক ওলি যাদেরকে আমরা মহামানব বলে থাকি তাঁরা রুহুল্লাহ তথা আল্লাহর রুহ। কিন্তু এখানে একটি বিরাট কথা থেকে যায়, আর সেই কথাটি হলো, সাধক যখন নফস হতে খান্নাসকে মুক্ত করতে পারেন তখনই রুহুল্লাহ হন, তবে যারা মাসুম , মহানবির আওলাদেরা এবং সকল নবিই আজন্ম রুহ প্রাপ্ত, যদিও হজরত ইসা (আ.) তথা যিশুখ্রিস্টকে সাধারণভাবে রুহুল্লাহ বলা হয়ে থাকে এবং যেহেতু কোরান-এ বলা হয়েছে 'আমরা ইসাকে – রুহুল কুদ্দুস দ্বারা শক্তিশালী করেছিলাম।' এই কথাটির দ্বারা অনেকেই ভুল করে বসেন , কারণ ইহাতে হজরত ইসা নবির শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হয় না বরং বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ হয়। এই রুহের পরিপূর্ণ বিকাশটিকেই আবার নুরে মুহাম্মদির ভাণ্ডার বলা হয়।
একটি বিখ্যাত হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে যে, মানবদেহের মাঝে কলব আছে। কলবের মাঝে আছে 'ফুয়াদ' অর্থাৎ অনুভূতিও চিন্তার বিচিত্র গতিপ্রবাহ। এই ফুয়াদের মধ্যে রুহ উদ্ভাসিত হয় তখনই যখন ফুয়াদ খান্নাসমুক্ত হয় । রুহের মাঝে আছে 'সেরর' তথা রহস্য। সেরর তথা রহস্য। সেরর তথা রহস্যের মাঝে আছে ‘নুর’ তথা নুরে মুহাম্মদি । নুরে মুহাম্মদির মধ্যে আছে 'আনা' তথা 'আমিই আমি'। আল্লাহ বলেছেন, নুরের মাঝে শুধু আমিই আছি।
এখানে যারা মহানবিকে প্রশ্ন করছে তারা কমবেশি বিদ্যাবুদ্ধির অধিকারী । কিন্তু রুহ বিষয়ে প্রশ্ন করার সঙ্গে-সঙ্গে আল্লাহ মহানবিকে বলে দিলেন এই বলে যে, রুহ হলো আমার প্রতিপালকের আদেশ। তারপর বলা হলো, এই রুহ বিষয়ে তোমাদেরকে অতি সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে। কেন আল্লাহ রুহ বিষয়ে অতি সামান্য জ্ঞান দান করলেন এই বিষয়টি নিয়ে খুব কমই গবেষণা করা হয়ে থাকে। আর গবেষণা করলেই বা লাভ কী, কারণ যত গবেষণাই করা হোক না কেন উহার ফলটি যে অতি সামান্য হতে বাধ্য ইহা তো আল্লাহ আগেই বলে দিয়েছেন। তবে যারা ধ্যানসাধনার মোরাকাবা-মোশাহেদার দায়েমি সালাতে নির্জনে একাকি বিরাট ধৈর্যধারণ করে সাধনাটি করতে পারেন এবং যদি আল্লাহর বিশেষ রহমতটি দান করা হয় তবেই রুহের প্রকৃত পরিচয়টি জানা যায়, বোঝা যায় এবং ইহাই আইনুল ইমান অথবা হাককুল ইমান তথা যে-ইমানটির এদিকে-সেদিক হবার অথবা যাওয়া-আসার সম্ভাবনাটি আর থাকে না। এই ইমানের অধিকারীদেরকেই মোমিন বলা হয়ে থাকে। এই ইমানের বাহিরে যারা ইমান রাখে তাদেরকেই আমানু বলা হয়। তাই আমরা দেখতে পাই, কোরান-এর ২৬৫ টি আয়াতে আমানু শব্দটি মোট ২৭৮ বার উল্লেখ করা হয়েছে । অথচ পরক্ষনে মোমিন শব্দটি কোরান-এর ১৪১ আয়াতে মাত্র ১৫১ বার উল্লেখ করা হয়েছে । যে-মানুষটি নফসে মোৎমায়েন্নার অধিকারী হতে পেরেছেন তিনিই মোমিন এবং জান্নাতের সুসংবাদটি তাকেই দেওয়া হয়েছে। রুহ যে স্বয়ং আল্লাহ রব-রূপে প্রতিটি মানুষের সঙ্গে শাহারগের নিকটেই তথা জীবন-রগের কাছেই অবস্থান করছেন সেই জ্ঞানটি অতি অল্পসংখ্যক মানুষই বুঝতে পারেন। কারণ অতি অল্পসংখ্যক মানুষই ধ্যানসাধনার মোরাকাবা-মোশাহেদার দায়েমি সালাতে ডুবে থাকেন। আর আমরা সবাই ছরছর করি। সুতরাং, রুহের পরিচয়টি জানবার ইচ্ছাটি যার প্রবল তিনি অবশ্যই ধ্যানসাধনার দিকে এগিয়ে যাবেন। মানুষ বৈষয়িক বিষয়ের চাকচিক্যময় লোভ-মায়ার আকর্ষণে খান্নাসের কুমন্ত্রণায় বিভোর হয়ে থাকে। তাই রুহ বিষয়টি কেমন করে জানতে পারবে?
কোরান -এর দুই নম্বর সূরা বাকারার দুইশত তিপ্পান্ন নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: তিলকা(ওই) রসুলু (রসুলেরা, রসুলগণ) ফাদদালনা (আমরা ফজিলত দিয়াছি, আমরা মর্যাদা দিয়াছি, আমরা শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছি) বাদাহুম (তাহাদের কেহ কেহ ) আলা (উপর) বাদিন (অংশ, টুকরা, সম্পূর্ণ বস্তুর কিছু অংশ, কিছু, কাহারও)।
ওই রসুলগণ আমরা ফজিলত দিয়াছি তাহাদের কাহাকেও কাহারও উপর।
মিনহুম (তাহাদের মধ্য হইতে) মান (কাহারও ,কেহ) কাললামা (কথা বলিয়াছেন) আল্লাহু (আল্লাহ ) ওয়া (এবং) রাফাআ( ঊর্ধ্বে স্থাপন করিলেন, উপরে উঠাইলেন, উঠাইলেন) বাদহুম (তাহাদের কেহ-কেহ) দারাজাতিন (মর্যাদা, ধাপ, সিঁড়ি) ।
তাহাদের মধ্য হইতে আল্লাহ কথা বলিয়াছে কাহারও (সাথে) এবং মর্যাদায় ঊর্ধ্বে স্থাপন করিলেন তাহাদের কেহ-কেহকে।
ওয়া (এবং) আতাইনা (আমরা দান করিয়াছি) ইসা (ইসাকে) ইবনা (পুত্র) মারিয়ামা (মারিয়মের) বাইইনাতি (খোলা চিহ্নসমূহ, উজ্জ্বল প্রমাণ) ওয়া(এবং) আইয়াদনাহু (আমরা তাহাকে সাহায্য করিয়াছি, শক্তি দিয়াছি) বিরুহি (রুহের দ্বারা ) কুদুসি (খুব পবিত্র, পবিত্র সত্তা)। এবং আমরা দিয়াছি মরিয়মের ছেলে ইসাকে উজ্জ্বল প্রমাণ এবং আমরা তাঁহাকে (ইসাকে) সাহায্য করিয়াছি খুব পবিত্র রুহের দ্বারা।
ওয়া (এবং) লাও (যদি ) শাআ (চাইতেন, ইচ্ছা করিতেন) আল্লাহু (আল্লাহ) মা (না) ইকতাতালা (সে যুদ্ধ করিল, পরস্পর যুদ্ধ করা) আললাজিনা (যাহারা ) মিন (হইতে) বাদি (পরে) হিম (তাহাদের ) মিমবাদি (হইতে পরে) মা (যাহা) জাআতহুমু (তাহাদের কাছে আসিয়াছিল) বাইইনাতু (উজ্জ্বল প্রমাণ) ওয়ালাকিনি (এবং কিন্তু) ইখতালাফু (তাহারা মতভেদ করিল, তাহারা মতবিরোধ করিল) ফামিনহুম(সুতরাং তাহাদের মধ্য হইতে) মান (যে , কেহ, কাহারও ) আমানা (ইমান আনিয়াছে, ইমান আনিল) ওয়া (এবং) মিনহুম (তাহাদের মধ্য হইতে) মান (কেহ) কাফারা (কুফরি করিল,অস্বীকার করিল)
এবং যদি আল্লাহ ইচ্ছা করিতেন তাহারা পরস্পর যুদ্ধ করিত না তাহাদের পর হইতে যাহারা, যাহা তাহাদের কাছে উজ্জ্বল প্রমাণগুলি আসিয়াছিল ইহার পরেও এবং কিন্তু তাহারা মতবিরোধ করিল সুতরাং তাহাদের মধ্য হইতে কেহ ইমান আনিল এবং তাহাদের মধ্য হইতে কেহ কুফরি করিল।
ওয়া (এবং ) লাও (যদি) শাআ (ইচ্ছা করিতেন) আল্লাহু (আল্লাহ ) মা (না ইকতাতালু (তাহারা একে–অপরকে হত্যা করিত)।
এবং যদি আল্লাহ ইচ্ছা করিতেন তাহারা এক–অপরকে হত্যা করিত না ।
> ওয়া (এবং) লাকিননা (কিন্তু) আল্লাহ (আল্লাহ) ইয়াফ্আলু (করেন) মা (যাহা) ইউরিদু (তিনি চাহেন)।
>এবং কিন্তু আল্লাহ করেন যাহা চাহেন।
এই আয়াতে আল্লাহ নিজেই ঘোষণা করছেন এই বলে যে, রসুলগণের মধ্যে তিনি ফজিলতের প্রশ্নে কিছুটা কম-বেশি করেছেন। অথচ এই সুরা বাকারাতেই আল্লাহ তাদেরকে তথা মানুষদেরকে রসুলগণের সাথে ছোট-বড় করার ভাগ করতে নিষেধ করে দিয়েছেন। আমরা এই কথাটুকুর মাঝে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে আল্লাহ মর্যাদার প্রশ্নে তথা ফজিলতের বিষয়ে রসুলগনের মধ্যে একজন হতে আরেকজনকে মর্যাদাবান বেশি করেছেন। যেহেতু এই মর্যাদার বিভাজনটি রসুলগণের মধ্যে তিনিই করেছেন সেইহেতু কোন কিছু বলার এবং অভিযোগ করার প্রশ্নটি অবান্তর। অথচ আমাদেরকে রসুলগনের মধ্যে ছোট-বড় করতে মানা করে দিয়েছেন। কারণ, যদিও রসূলগণ আমাদেরই মতো অথচ রসুলগণ মোটেও আমাদের মতো নহেন। যেহেতু রসুলেরা আমাদের মতো নহেন সেই হেতু আল্লাহ আমাদেরকে ছোট-বড় করতে তথা পার্থক্য করতে মানা করে দিয়েছেন।
আবার আল্লাহ বলেছেন, রসুলগণের মধ্যে তিনি কারো সঙ্গে কথা বলেছেন। এই কথাটির গভীর রহস্য অধম লেখকের পরিষ্কার জানা থাকলেও অপরিষ্কারের ভান করে বলতে হচ্ছে যে তিনি (আল্লাহ )রাসুলদের মধ্যে অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছেন। আবার তিনি বলছেন যে উচ্চমর্যাদার প্রশ্নে রসুলগণের মধ্যে কাহাকেও উচ্চমর্যাদাটি দান করেছেন। তারপর আল্লাহ বলেছেন, মরিয়মপুত্র হজরত ইসা রুহুল্লাহ (আ)-কে উজ্জ্বল প্রমাণ দান করেছেন । এখন প্রশ্ন হলো, এই উজ্জ্বল প্রমাণ (বাইইনাত) বলতে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন? অধম (বাইইনাত) বলতে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন? অধম লেখকের মনে হয় যে এই উজ্জ্বল প্রমাণটি হলো হজরত ইসা রহুল্লাহ (আ.) দোলনাতে শুয়ে –শুয়েই কথা বলতেন। তিন দিনের শিশু অবস্থায় আর কোনো রসুল কথা বলেছেন কিনা উহা অধম লেখকের জানা নাই। কিন্তু হজরত ইসা রুহুল্লরাহ (আ.) যে জন্মগ্রহণ করেই কথা বলতে শুরু করেছেন ইহার জ্বলন্ত দলিলটি আমরা কোরান-এই পাই। কথিত আছে যে, দোলনায় শুয়ে- শুয়ে শিশু ইসা রুহুল্লাহ (আ.) যখন মানুষদের সঙ্গে কথা বলতেন তখন সেই মানুষেরা অবাক বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে যেত এবং ভক্ত তথা মুরিদ হয়ে যেত। তারপরে আবার মরিয়ম পুত্র ইসাকে রহুল কুদ্দুস তথা অতি পবিত্র রুহ দ্বারা শক্তিশালী করার কথাটিও বলা হয়েছে। অধিকাংশ তফসিরকারকেরা রুহুল কুদ্দুসের অর্থটি বুঝতে না পেরে অনুমানের গুলমারা বিদ্যাটি জাহির করে ফেলেছেন। আর সেই গুলমারা বিদ্যাটি হলো, রুহুল কুদ্দুস বলতে তারা ফেরেশতা জিবরাইলের কথাটি উল্লেখ করেছেন। হায় রে খোদা! এরা কি এটুকু বেমালুম ভুলে গেছেন যে, জিবরাইল ফেরেশতার নফসও নাই এবং রুহও নাই তথা নির্বাচন করার অধিকার হতে ফেরেশতারা সম্পূর্ণ ভাবে বঞ্চিত । আসলে ফেরেশতা জিবরাইলের নাম যদি রুহুল কুদ্দুস দেওয়া হয় তা হলে ইহা অনেকটা কানা ছেলের নাম পদ্মলোচনের মতো শোনায়, তথা চোখই নাই অথচ কী সুন্দর অপূর্ব চোখ দুইটি । বুকে হাত রেখে বিবেককে ফাঁকি না দিয়ে একবার ভাবুন তো যে, আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে কোনো নফস এবং কোনো রুহ দান করেন নি। আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টজীবকে আল্লাহ নফস দান করেছেন, কিন্তু রুহ দান করেন নাই-একমাত্র মানুষ এবং জিন ছাড়া। তাই আমরা দেখতে পাই , মানুষের মধ্যে যে –রকম আল্লাহর ওলি হয়, তেমনি জিনের মধ্যেও আল্লাহর ওলি হয় । যেহেতু জিনজাতির সঙ্গে আমাদের তথা মানুষদের সঙ্গে পরিচয় না বললেই চলে তাই ইচ্ছা করেই জিনজাতির কথাটি বাদ দিয়ে যাই। আমরা জানি, ফেরেশতারা অতি পবিত্র, কিন্তু সর্বশ্রেষ্ঠ নহে । সর্বশ্রেষ্ঠ হলো মানুষ। তাই মানুষকে আল্লাহ 'আশরাফুল মাখলুকাত'- তথা সৃষ্টির স্রেষ্ঠ জীব বলে আখ্যায়িত করেছেন । ফেরেশতারা অতি পবিত্র হয়েও এই সর্বশ্রেষ্ঠ গুণটির ধারের-কাছেও নাই। কারণ, নির্বাচন করার ক্ষমতাটি ফেরেশতাদেরকে দেওয়া হয় নি। নির্বাচন করার কথাটি তখনই আসে যখন ভালো এবং মন্দের মিশ্রণ করা হয়। ভালো-মন্দের অধিকারটি দান করলেই সীমিত স্বাধীন ইচ্ছা শক্তিটিও দান করা হয়ে যায়। কারণ, কান টানলে মাথা আপনিই আসবে। আল্লাহর এত বড় –বড় জ্বলন্ত প্রমাণসমূহ দেখার পরেও মানুষ উহা হতে শিক্ষা গ্রহণ না করে বরং পরস্পর হিংসা, বিদ্বেষ, মারামারি, হত্যাযজ্ঞ এমনকি ভয়ঙ্কর যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছে বারবার। ইহা মানবজাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কের তিলক হয়ে আছে এবং থাকবে। তাই এই সীমিত ইচ্ছা শক্তিটি দান করার দরুন কেহ ইমান আনবে, কেহ সরাসরি কুফরি করবে। ভালো এবং মন্দের এই লীলাখেলাটি যুগ-যুগ ধরে চলে আসছে অনেক রূপ ও রঙ্গে এবং অনেক রকম লেবাসে।যেহেতু আল্লাহ মানুষকে সীমিত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিটি দান করেছেন তথা নির্বাচন করার অধিকারটি দিয়েছেন সেই হেতু আল্লাহ ইহার উপর হস্তক্ষেপ করেন না। যদি হস্তক্ষেপ করতেন তাহলে এই হত্যাযজ্ঞের লীলাখেলাটির চিরতরে অবসান হতো। এখানে অনেকেই আল্লাহকে গোপনে দোষ দিতে চায় । কিন্তু অধম লেখক নিরপেক্ষ মনে বলছি যে , স্বাধীনতা দেবার পর যদি উহ হরণ করা হয় তা হলে এই স্বাধীনতার মর্যাদাটি থাকে কোথায় ? সুতরাং সর্বপ্রকার দোষ হতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জাল্লাশানাহু সম্পূর্ণ মুক্ত।
সগীরে আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন