শনিবার, ২৪ জুন, ২০১৭


চেরাগে জান শরীফ শরাবে শাহেনশাহে আজিজি আশিকে বারগাহে কালান্দার ডা.বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহজালাল নূরী আল সুরেশ্বরী।
বি:দ্র: ডা:বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী রচিত বইসমুহ পাইকারি মূল্যে নিম্নোক্ত ঠিকানায় পাওয়া যাচ্ছে........।


         ঠিকানাঃ
                  সুফিবাদ প্রকাশনালয়
              প্রযত্নে:বে-ঈমান হোমিও হল
   ১০৮ নিউ এলিফ্যান্ট রোড(২য় তলা) ঢাকা-১২০৫
               মোবাইল ঃ০১৯১১৫৯৭৭৮০

বুধবার, ৭ জুন, ২০১৭

রোজা বিষয়ে আলোচনা পর্ব ৪


এখন আমরা রোজার বিষয়ে খাজা বাবা কী বলেছেন তারই কিছু অংশ নিুে তুলে ধরলাম : ‘মহানবি বললেন, ‘হে উমর, রোজার হাকিকি অর্থটি হচ্ছে, মানুষ তার অন্তর বা দিল হতে সর্বপ্রকার দ্বিন ও দুনিয়ার আশা-আকাক্সক্ষা পরিত্যাগ তথা দূরীভূত করবে। কারণ দ্বিনের খাহেশ, যেমন―বেহেস্তের আরাম-আয়েশ, সুখ-শান্তি ও হুরদের আকাক্সক্ষা―দ্বিনের এই সব খাহেশ আবেদ ও মানুষের মধ্যে পর্দার অন্তরাল তৈরি করে। এই রকম চাওয়া-পাওয়া দিলের মধ্যে থাকলে বান্দা কখনো তার মাবুদের হাকিকতের নৈকট্য লাভ করতে পারে না।’
‘অপরদিকে দুনিয়ার খাহেশ তথা চাওয়া-পাওয়ার মোহনীয় আকাক্সক্ষাটি হলোÑ ধন-দৌলত, শান-শওকত, ক্ষমতার অহঙ্কার, নফ্সের অনেক রকম খাহেশ, দুনিয়া অর্জনের নেশায় মত্ত থাকা ইত্যাদি জাগতিক বিষয়গুলোর আকাক্সক্ষা মানুষকে আল্লাহ হতে দূরে সরিয়ে দেয় এবং এই সব বিষয়ের আকাক্সক্ষায় ডুবে থাকাটাই হলো শেরেকে ডুবে থাকা। আল্লাহকে ছেড়ে এই সব বিষয়ের প্রতি খেয়াল ও ফেকের করা এবং আবার কেয়ামতের ভয়, বেহেশতের আশা করা এবং আখেরাত বিষয়টির ফেকের করা―এই সবগুলো বিষয়ই রোজার হাকিকি তথা আসল রোজা নষ্ট তথা বরবাদ করে দেয়। আসল রোজা তথা রোজার হাকিকি তখনই সঠিক হবে যখন বান্দা আল্লাহ ছাড়া অন্য সবগুলো বিষয় দিল থেকে তথা অন্তর হতে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। এমনকি গায়রুল্লাহর (বিষয়মোহ) এলেম পর্যন্ত থাকে না এবং সব রুম উমিদ (আশা) ও ভয়ভীতি দেল হতে তথা অন্তর হতে দূর করে দিতে পারে।’
‘হে উমর, সাধারণ মানুষ যে রোজা রাখে তা হাকিকি তথা আসল রোজা নয়। কারণ ইহাতে শুধু পানাহার ও জেমাহ থেকে পরহেজ থাকে। সাধারণ মানুষের রোজাটিকে মেজাজি রোজা বলে জানিও। এই মেজাজি রোজা দ্বারা আসরারে এলাহি (খোদার রহস্য জ্ঞান) হাসিল হয় না। মেজাজি রোজাটি কেবলমাত্র জাহেরি সুরতে সীমাবদ্ধ। এই মেজাজি রোজা হাকিকত বিষয়টির কিছুই বুঝতে পারে না, বরং অন্ধকারে থেকে যায়। এই মেজাজি রোজা দ্বারা গায়রুল্লাহ পরিত্যাগ সম্ভব হয় না। বরং এই মেজাজি রোজায় সর্বপ্রকার নফ্সানি ও মানবীয় কলুষতা থেকে যায়। মেজাজি রোজাদারদের যাবতীয় কথাবার্তা এবং কাজকাম তথা কার্যাবলি গায়রুল্লাহ হতে পরিপূর্ণ থাকে। এইরূপ জাহেরি ও মেজাজি রোজা দ্বারা এতটুকু লাভ হতে পারে যে, গরিব, দুঃখী ও মিসকিনদের দুঃখ-ব্যথা সম্যকভাবে উপলব্ধি করা যায় এবং তাতে তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তাদের অভাব কিছুটা লাঘব করা যায়।’ (দিওয়ানে মুঈনুদ্দিনÑপৃ. ৪৩৭)।
হাকিকি রোজা যতই আসল রোজা হোক না কেন, মেজাজি রোজাটি অবহেলা করা যায় না। মহানবি সমস্ত আলমের জন্য রহমত, সুতরাং বিশেষ শ্রেণীই এই রোজার রহমত পাবে আর সবাই পাবে না এটা হতে পারে না। তাই সাধারণকেও এই রহমতটি দিয়ে যাবার যে ব্যবস্থাপত্রটি মহানবি দিয়ে গেছেন উহাকেই মেজাজি রোজা বলা হয়। তবে মেজাজি রোজার অনুশীলনের মধ্য দিয়েই হাকিকি রোজার রহস্যটি যখন বুঝতে পারা যায় তখনই রোজার বিষয়টির সার্থকতা বোঝা যায়। সুতরাং মেজাজি রোজাটি আছে বলেই মানুষ এই মেজাজি রোজা পালন করতে করতে হাকিকি রোজার রহস্যটি বুঝতে পারে। এই সিয়াম বিষয়টির কোরান হাদিস হতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা যায়, কিন্তু আমি অধম এ বিষয়ে আর এগিয়ে গেলাম না এ জন্য যে, এই সিয়াম বিষয়টির মেজাজি এবং হাকিকি ব্যাখ্যাগুলো খুবই সুন্দর এবং মার্জিত ভাষায় যিনি তুলে ধরেছেন তিনি শাহ সুফি সদর উদ্দিন আহমদ চিশতি এবং তাঁর অমর গ্রন্থটির নাম সিয়াম দর্শন। রোজার বিষয়ে কোরানের যতগুলো আয়াত আছে সবগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং রোজার উপর যতগুলো হাদিস আছে প্রায় অধিকাংশ হাদিস (সবগুলো নয়) তুলে ধরেছেন। এই অমূল্য বইটি কয়েকবার পড়লে সিয়াম বিষয়টি দিবালোকের মতো পাঠকের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং সিয়াম বিষয়টির উপর একটি মোটামুটি ধারণা তৈরি হবে।

   রোজা ও ইফতার
   ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী 
                                                                                        .....চলবে.....

রোজা বিষয়ে আলোচনা পর্ব___৩


রোজা কী বর্জন করতে শেখায়? একটি প্রশ্নে গবেষকদের মতামত এক নয়। এতে দুঃখ অথবা বিস্ময় প্রকাশ করার কিছুই নাই। কারণ গবেষণার জ্ঞানটি আন্তরিক, কিন্তু কিছুটা তো মতভেদ থাকবেই। কোরান তফসির, হাদিসের ব্যাখ্যা, এজমা, কেয়াস, প্রতিটি বিষয়ের গবেষণার জ্ঞানটিতে আমরা অনেক রকম মতভেদ দেখতে পাই এবং এই মতভেদটিকে স্বাভাবিক মনে করেই নেওয়া হয় এবং এর মাঝে কোনো প্রকার জোর তথা বলপ্রয়োগ খাটাবার প্রশ্নই উঠে না। বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা যায়। যেমন অনেক গবেষক বলেন যে, রোজা তাগুত পরিত্যাগ করতে শেখায়। অনেকে আবার তাগুতের সঙ্গে জীবতে পরিত্যাগ করতে শেখায়। এখন প্রশ্নটি হল, তাগুতই হোক আর জীবতেই হোক, এদের থাকবার স্থানটি কোথায়? তাগুত আর জীবতে থাকবার বাসাবাড়িটি কোথায়? সৃষ্টিরাজ্যের কোথাও তাগুত এবং জীবতে বাস করে না। কারণ সৃষ্টিরাজ্য তৌহিদে বাস করে। তৌহিদের রাজ্যে তাগুতও থাকতে পারে না এবং জীবতেও থাকতে পারে না। আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টিরাজ্যের মধ্যে মাত্র দুইটি স্থানে বা জায়গায় তাগুত এবং জীবতে বাস করে। একটি জ্বিনের অন্তর তথা হৃদয় এবং অপরটি মানুষের অন্তর। এই দুটো প্রাণীÑ জ্বিন এবং মানুষ ছাড়া আর কোথাও এইসব বাজে বিষয় থাকতে পারে না এবং থাকার আইনও নাই। সুতরাং শব্দ এবং অর্থ ভিন্ন, কিন্তু থাকবার স্থানটি মানুষ এবং জ্বিনের অন্তর। আবার অনেক গবেষক বলেন যে, রোজা বর্জন করতে শেখায় লোভ, মোহ, হিংসা, অহঙ্কার এবং সর্বপ্রকার অবৈধ কাজ। প্রশ্ন করতে পারেন যে, আমরা কি রোজার সাধনাটি করে এতগুলো আবর্জনা দূর করতে পেরেছি? এমন কথাটিও তো মহানবি সোজা বলে দিয়েছেন যে, যারা রোজা থেকে মিথ্যা কথা বলে এবং মিথ্যার আশ্রয় নেয় তাদের রোজাগুলো নিতান্ত উপবাস ছাড়া আর কিছুই নয় (হুবহু নয়)।
আবার যদি প্রশ্ন করা হয় যে, দুনিয়া, তাগুত, জীবতে, লোভ, মোহ, হিংসা, অহঙ্কার এবং খান্নাসরূপী শয়তানটিকে তাড়াতে পারলো না অথচ সারা জীবন প্রতি বছর ত্রিশটা রোজা রেখে গেল তাদের রোজার ফলটি কী হবে? উত্তরটি আল্লাহর হাতেই ছেড়ে দেওয়া হলো। নিরাশ শব্দটি উচ্চারণ করলাম না। তবে ফলটি যে কী হবে তা সবাই কমবেশি বুঝতে পারে। প্রতিটি বিষয়ের একটি উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু উদ্দেশ্যটিকে বাদ দিয়ে কাজ করলে কী হয় বা হবে তা সবাই বুঝতে পারে। মানুষ এত কচি খোকা নয় যে কিছুই বুঝতে পারে না। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে, মানুষ ভালো করে বোঝে যে ধূমপান শরীরের জন্য ক্ষতিকারক, কিন্তু তবু ধূমপান করছে। বিষয়টি ভালো করে বোঝে অথচ বুঝেও কচি খোকার মত না বোঝার ভান করে। এই মানুষ যে কত রকম রং তামাশা করতে জানে এবং করে চলছে তার হিসাব কে রাখে আর এর হিসাব রেখেই বা লাভ কিসের? উপদেশের ফলটি যখন শূন্য তখন উপদেশ দেবার উৎসাহটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ধর্মের বাণী প্রতিদিন রেডিও-টেলিভিশনে, মাইকে, ওয়াজ মাহফিলে, নামাজের খোৎবায়, পথে ঘাটে শোনানো হচ্ছে, কিন্তু লোভ-মোহের কালো অন্ধকারে সব বিষয়গুলো ঢেকে যায়। সূর্যগ্রহণ আর চন্দ্রগ্রহণের মত আস্তে আস্তে মহৎ বিষয়গুলো গিলে ফেলে। সাপ যেমন ইঁদুর গিলে খায়, কুমির যেমন আস্ত একটা মুরগি গিলে খায়, তেমন লোভ-মোহের সর্প আর কুমির মানুষের মহৎ গুণগুলোকে গিলে খায়। কেন গিলে খায়? কেন মহৎ উপদেশগুলো মানতে চায় না? কেন প্রয়োজনের চেয়ে অনেক অনেক বেশি পেয়েও কেবল পেতেই চায়? এই এত পাবার প্রচণ্ড নেশাটি কোথা হতে এল? উত্তর মাত্র একটি। মূল বিষয় মাত্র একটি। সেই উত্তর আর মূল বিষয়টি কী? প্রতিটি মানুষের অন্তরে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ পাক খান্নাসরূপী শয়তানটিকে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এই খান্নাসরূপী শয়তানটি কখনো ইবলিসরূপ ধারণ করে অহঙ্কার করে। এই ইবলিস রূপটি যদি ভয়ঙ্কর হয় তাহলে মানুষের রূপটিও ভয়ংকর হয়। হিটলার, মুসোলিনি, চেঙ্গিস, হালাকু, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আর জারারেসের মত মানুষরূপী দানবের চেহারাটি ইতিহাসের পাতায় কলঙ্কের কালিতে লিখা হয়ে থাকে। আবার এই খান্নাসরূপী শয়তানটি কখনো মরদুদরূপ ধারণ করে সীমাহীন লোভীতে পরিণত হয়। এমনই লোভ যে লোভের সীমা নাই, শেষ নাই। যেমন আলেকজাণ্ডার দি গ্রেট। পৃথিবীটাই খেয়ে ফেলার মহাপরিকল্পনা যার অন্তরে বাসা বেঁধেছিল। এ রকম লোভীদেরকে যদি সমগ্র পৃথিবী নামক গ্রহটা দিয়ে দেওয়া হয়, হয়তো বলবে আর একটা পৃথিবী কি আছে? সব বিষয়ের একটা না একটা তলা থাকে। কিন্তু লোভের কোনো তলা নাই। এইসব ভয়ঙ্কর লোভীদের ঠিকানা হাবিয়া নামক নরক। হাবিয়া নরকটি কী ও কেমন? হাবিয়া হলো এমন একটি গর্ত যে গর্তে কেবল পড়তে থাকবে, কিন্তু তলা পাবে না তথা তলাহীন একটি গর্ত। কী মেজাজি তথা রূপক ভাষায় হাবিয়ার বর্ণনা! এই খান্নাসরূপী শয়তানটি যখন কেবলই শয়তানরূপটি ধারণ করে তখনই পাথরের আঘাত খেতে হয়। শয়তান মানুষের অন্তরে বাস করে মানুষের দেহে কত যে প্রতিদিন প্রতিঘণ্টায় পাথরের আঘাত খেয়ে যাচ্ছে তার হিসাব নাই। অথচ মানুষটি এই পাথরের আঘাতগুলো টের পেয়েও পায় না। এ যেন ক্যানসারের উপর রেডিয়ামের থেরাপি। রোগী টের পায় না, অথচ ক্যানসার ক্ষতটিকে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। শয়তান প্রতিনিয়ত পাথরের আঘাত খেয়ে চলছে আর মানুষের চেহারায় তা আস্তে আস্তে ফুটে উঠছে, কিন্তু বুঝতে পারে না। কী বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক আঘাত খাবার ব্যবস্থাপত্রটি দিয়ে রেখেছেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ। তাই হয়তো বলা হয়, যেমন কর্ম তেমন ফল। কর্মের ফলটি যে ভোগ করতেই হবে, তা এ জন্মে হোক অথবা আর এক জনমে।

  রোজা ও ইফতার
   ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী

রোজা বিষয়ে আলোচনা পর্ব ২ 


একটি নফ্স তথা একটি মানুষ কি আল্লাহকে চায়, না চায় না―এই আল্লাহকে চাওয়া আর না-চাওয়ার নামটিই হল পরীক্ষা। এই পরীক্ষাটির জন্যই মানুষকে বানানো হয়েছে। এই পরীক্ষাটি একমাত্র মানুষ ও জ্বিন ছাড়া আর কাউকেই দিতে হয় না। ফেরেস্তা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যতই হিয়া হুয়া করতে পারুক না কেন, কিন্তু ফেরেস্তাদের পরীক্ষা দিতে হয় না। কারণ হলো, ফেরেস্তাদেরকে আল্লাহ নফ্স এবং রূহ একটিও দেন নাই। নফ্স এবং রূহ দুটো একত্রে থাকলেই পরীক্ষাটি অবধারিত। যাদের কেবলমাত্র নফ্স আছে, কিন্তু রূহ নাই, তাদেরকেও পরীক্ষা দিতে হয় না এবং পরীক্ষা দেবার বিধানটি রাখা হয় নি। কারণ যদি রূহ না থাকে এবং কেবলমাত্র নফ্সটিই থাকে তা হলে সেই জীবগুলোকে মানুষ এবং জ্বিন জাতির মধ্যে গণ্য করা যায় না এবং যাবে না। সেই জীবগুলো হয়ে যাবে তখন অনেক রকম জানোয়ার এবং অনেক রকম পাখি। মানুষ এবং জ্বিন ছাড়া কোনো পশু, কোনো পাখি, কোনো মাছ অথবা কোনো প্রাণীকেই রূহ দেওয়া হয় নি। কারণ রূহ আল্লাহর আদেশ। আল্লাহর আদেশ আল্লাহ হতে আলাদা নয়। সুতরাং ঢাকনা খুলে যদি বলতে হয় তো বলতে হয় যে, রূহ স্বয়ং আল্লাহ। মানুষের মাঝে এবং জ্বিনের মাঝে রূহ আছে বলেই সেফাতি নুরের তৈরি রোবট ফেরেস্তাদেরকে আদমকে সেজদা দেবার আদেশটি দেওয়া হল। সেফাতি নুরের তৈরি আল্লাহর রোবট নামক ফেরেস্তাগুলোর সবাইকে আদমকে সেজদা দিতে বলা হলো এবং সবাই সেজদা করলো এবং সেজদা করতে বাধ্য হলো। কারণ, ফেরেস্তাদের নফ্সও নাই এবং রূহও নাই, তথা ভালো-মন্দ বিচার করার সীমিত (মৃত্যুর আগ পর্যন্তকে সীমিত বলা হয়) স্বাধীনতাটাই দেওয়া হয় নাই। যেহেতু আজাজিল জ্বিন জাতি হতে আগত এবং আজাজিল মোটেই ফেরেস্তা নয়, যদিও আজাজিলকে ফেরেস্তাদের সরদার বানানো হয়েছিল এবং সরদার এ জন্যই আল্লাহ বানিয়েছেন যে আজাজিলের মধ্যে নফ্সও ছিল, রূহও ছিল। আজাজিল নফ্স এবং রূহের অধিকারী বলেই ফেরেস্তাদের সরদার বানিয়েছেন, নতুবা সরদার বানাবার প্রশ্নই উঠে না।
অনেক গবেষক এই অতি সূক্ষ্ম বিষয়টি ধরতে পারেন না বলেই এটা সেটা বলে একটা গোঁজামিলের খিস্তি তৈরি করেন এবং না বুঝলে খিস্তি তৈরি করতে বাধ্য। সব শিয়াল যখন একই রকম শব্দ করে তখন এত শব্দের মাঝে আসল বিষয়টা চাপা পড়ে যায়। আজাজিল যেহেতু নফ্স এবং রূহ দুটোরই অধিকারী সেই হেতু সীমিত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির অধিকারী। তাই আজাজিল আদমকে সেজদা দেয় নাই। যেহেতু ফেরেস্তাদের ওপর সেজদা দেবার হুকুমটি আজাজিলের ওপরও পড়েছিল তথা বর্তিয়েছিল সেই হেতু আজাজিলকে ইবলিসে পরিণত হতে হয়েছিল। বালাসা অর্থ অহঙ্কার। যদিও বালাসা শব্দটি আরবি নয়, বরং হিব্র“ শব্দ এবং হিব্র“ ভাষায় অহঙ্কারকে বালাসা বলা হয় এবং যে বা যিনি অহঙ্কার করে বা করেন সে বা তিনি অহঙ্কারী তথা ইবলিস। জ্বিনের মধ্যে যেমন অহঙ্কার করার অধিকারটি দেওয়া হয়েছে সে রকম মানুষের মাঝেও অহঙ্কার করার অধিকারটি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ফেরেস্তাদেরকে অহঙ্কার করার অধিকারটি দেওয়া হয় নাই। কারণ ফেরেস্তাদের মাঝে নফ্সও নাই রূহও নাই। তাই ফেরেস্তাদেরকে আল্লাহ পাকের সেফাতি নুরের তৈরি রোবটও বলা যেতে পারে। ফেরেস্তাদেরকে যেটুকু শক্তি ও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেটুকুর বাহিরে একটি পা ফেলবার প্রশ্নই উঠে না। তাই তো আমরা দেখতে পাই যে, মহানবি যখন মেরাজে যাচ্ছেন ফেরেস্তা জিবরিল তখন সেদরাতুল মুনতাহায় এসে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন যে, আর একটি পা এগিয়ে যাবার অধিকারটি তাকে দেওয়া হয় নাই। মহানবি লা মোকামে চলে গেলেন আর ফেরেস্তা জিবরিল সিদরাতুল মুনতাহায় দাঁড়িয়ে রইলেন। এত বড় জলজ্যান্ত বিষয়টি জানবার পরও কী করে মহানবিকে মাটির তৈরি বলে ওহাবিরা প্রচার করে! এরা গাছের শিকড় কেটে মাথায় পানি ঢালে। ফেরেস্তারা আল্লাহর সেফাতি নুরের তৈরি হয়েও আদমকে সেজদা করতে হয়েছে। কারণ আদমের ভেতর জাত নুরটি মওজুদ। তাই আল্লাহ বলছেন যে, ‘আমরা তোমার শাহারগের নিকটেই আছি।’ কিন্তু আল্লাহ কখনোই একথাটি বলেন নি যে, ফেরেস্তাদের শাহারগের নিকটে আছেন, অথবা জীব-জন্তুদের শাহারগের নিকটে আছেন, অথবা নদী-নালা, সাগর-মহাসাগর, পাহাড়-পর্বতের নিকটেই আছেন। আল্লাহর এই অবস্থানটি জাত-রূপে অবস্থান। তাই তিনি কেবলমাত্র মানুষ এবং জ্বিনের সঙ্গেই জাত-রূপে অবস্থান করতে পারেন। আর তাঁর সৃষ্ট বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব কিছু সেফাতি নুর এবং নুরের অনেক রকম বিবর্তনের ধারা বজায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। তাই আল্লাহ বলছেন যে, ‘তুমি যেদিকেই তাকাও না কেন, আমি ছাড়া আর কিছুই নাই।’ আল্লাহ ছাড়া কিছুই নাই যেখানে বলা হলো সেখানে নাস্তিক্যবাদ আসে কেমন করে? কারণ নাস্তিক্যবাদ বিষয়টিই তো একটা বিরাট আত্মার রোগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আসলে নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী নাস্তিকেরা আল্লাহর এই বিষয়টি অবগত নয়। যদি বিষয়টি ভাল করে বুঝতো তো তওবা করে নাস্তিক্যবাদটি পরিত্যাগ করতো। আসলে মূল বিষয়টি বুঝতে না পেরেই নাস্তিক্যবাদের প্রচার করে।

   রোজা ও ইফতার
   ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী                (চলবে)

মঙ্গলবার, ৬ জুন, ২০১৭

বিধান না দর্শন?


যারা মোটরগাড়িটাকে বিশ্রাম দেবার জন্য,রোদ-বৃষ্টি হতে বাঁচাবার জন্য তৈরি করে ইটের তৈরি ঘর,তাদের কাছে শোষিত বেকার যুবক,ঘর নেই মানুষের রাস্তার ধারে ঝুপড়ি বানিয়ে শিশু সন্তানদের নিয়ে কী মন কাঁদানো অবস্থায় জীবনটাকে খড়-কুটা ধরে বাঁচার মত বেঁচে আছে -এদের কতটুকু দাম থাকতে পারে?কতটুকু নিম্নমানের পশুর চেয়েও নিম্নমানের হলে পৃথিবীর কোনো জীব-জন্তুদের সঙ্গেও তুলনা দেবার নিদর্শন নেই বলেই এরা "আসফালুস সাফেলিন" অর্থাৎ উদাহরণ দেবার মতো বিশেষণ ছাড়া একদম নিউ মডেলের পশু।এই সম্পদ জমাকারীরা ধনের নেশায় ভয়ঙ্করভাবে নেশাগ্রস্ত।এই নেশার তুলনা নেই,এ নেশা হেরোইন আর পেথিডিনের মতো মৃত্যুর নেশাকেও হার মানায়।হেরোইন আর পেথিডিন তো একটা যুবশক্তির মূলে আঘাত হানে।কিন্তু সম্পদ জমাকারীদের নেশা একটি দেশের অধিকাংশ মানুষের নিম্নতম মানবিক শক্তির উপরই প্রচন্ড আঘাত হানে না,বরং সামান্যতম বিবেকের বিন্দুটিকে পায়ের তলায় পিষিয়ে মারছে--যখন দেখতে পাই প্রাণহীন লৌহের তৈরি  মোটরগাড়িটা থাকে ইটের তৈরি দালানে, আর আল্লাহপাকের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষগুলো থাকে ফুটপাতের পাশে ঝুপড়িতে।হজরত ইমাম শাফি একবার দুঃখ করে বলেছিলেন যে,"পাক পাঞ্জাতন(মহানবি,আলি,ফাতেমা,হাসান,হুসাইন)
-কে ভালোবাসতে গিয়ে যদি "শিয়া" অপবাদ মাথায় তুলে নিতে হয়, তবে খোদার কসম!আমার চেয়ে বড় শিয়া আর কেউ নেই।"অধম লেখকও হজরত ইমাম শাফির মত চিৎকার দিয়ে বলতে চায় যে,এই নিঃস্ব,এই রিক্ত,এই এতিম, মিসকিনদের অধিকারের কথা বললে যদি "কমিউনিস্ট" অপবাদ মাথায় তুলে নিতে হয়,তা হলে খোদার কসম!অধম লিখককে "কমিউনিস্ট" বলে গাল দিতে পারেন।এবং সেই সঙ্গে এ কথাটি বলে দিতে চাই যে,অনাগত যুগই এর সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়ে যাবে।আমরা বালির বাঁধের মতো অনেক বই পুস্তকের বস্তা দিয়ে বাঁধ দিতে চেষ্টা করছি মাত্র।এই সব বই পুস্তকে আমাদের পরের প্রজন্ম 'খাক-থু করে একগাদা থুথু নিক্ষেপ করে ঘৃণিত বেইমান জানবে।হেরোইন জমাকারীর যদি মৃত্যুদন্ড নামক শাস্তিই যোগ্য বলে বিবেচিত হয়,তা হলে যারা সম্পদ জমা করে এহেন অবস্থা তৈরি করে তাদের জন্য কী শাস্তি?

খলিফা ওমর ফারুক জেরুজালেম যাচ্ছেন উটের পিঠে চাকরকে বসিয়ে।তারপর?মার্কস,লনিন আর মাও সে তুং-এর বিবেকের চোখে বোবা বিস্ময়!সেই উটের রশি ধরে টেনে চলেছেন একশত বাংলাদেশের চাইতেও বড় দেশের প্রধান।দুটি মিনিট নেগেটিভ চিন্তার দর্শন মন হতে সরিয়ে চিন্তা করুন তো!চিন্তা করুন বাংলাদেশের উঁচু (?) পদের একজন সরকারী কর্মচারীর পক্ষেও কি এই আচরণ প্রদর্শন করা সম্ভব?ভাতের হাড়ির সাম্যের সামনে পদমর্যাদার সাম্য নির্ঘাত আত্মহত্যা,নয়তো পদত্যাগ পত্রের প্রশ্নটি কি অবধারিত?মাওলানা ভাসানী যখন ওমর ফারুকের এই ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন মাও সে তুংকে,তখন মাও সে তুং কেবল একটি কথাই বলেছিলেন:বিবেকের সাম্যবাদকে গ্রহন করা আরো জটিল।হ্যাঁ তাই।মানুষের রক্ত শোষণ করে যারা সম্পদের পাহাড় তৈরি করে উপাসনালয়ে বাঁচার আশ্রয় গ্রহণ করে তারা তখন?তখন ঐ জনতার একটি কণ্ঠস্বর শ্লোগানের ভয়ঙ্কর ঢেউ তোলে:"যে ঘরে তোদের মত শোষক,জালেম আর সম্পদ জমাকারীরা আশ্রয় গ্রহণ করে সে ঘর আর যাই হোক না কেন,ওটা কখনোই আল্লাহর ঘর হতে পারে না।" এক সের হেরোইনসহ ধরা পড়া আসামীর দিকে যে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকায়,সে তাকানোর ভাষা হলো মৃত্যুদণ্ড।আর যারা দশের আমানত বেমালুম হজম করে বসে আছে তাদের দিকে তাকাবো কীভাবে?বলবেন কি?বুকে হাত রেখে বলুন,কী ধরনের উপহার পাবার যোগ্য তারা? এই বিবেকের দাঁড়িপাল্লায় উঁচু-নিচু হবার ঝড় বইতে চায়।আল্লাহপাক আমাদের শাহারগের চেয়েও নিকটে আছেন,আছেন রবরূপে,আছেন আদিল তথা সূক্ষ বিচারকরূপে আমাদেরই একান্ত কাছে কাছপ।আছেন আমাদেরই অস্তিত্বের প্রতিটি সূক্ষতম কোষে-কোষে।কী অপূর্ব কোরানের আটষট্টি নম্বর সূরা কালাম।কী বিজ্ঞানময় সূক্ষ ভাষার গাঁথুনি সূরা কালামে।পৃথিবীতে এই বিজ্ঞানময় কোরআনের তুলনা করা হাস্যকর।কারণ,কোরানই হলো একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবন দর্শন।

মার্কসবাদ হাঁড়ির ইতিহাস তৈরি করতে গিয়ে নাস্তিকতাকে কোলে তুলে নিয়েছে।হাঁড়ির ইতিহাস আত্মার গবেষণাকে ফেলে দিয়ে মুক্তির বাণী শোনায়।কিন্তু অসম্ভব।আপেক্ষিক (কিছু দিনের জন্য) সত্যরূপে প্রতিভাত হলেও সার্বিক(সব সময়ের জন্য) সত্যের সামনে মার্কসবাদ মাথা নিচু করে কাঁদে।কাঁদতে হবেই,এটা অমোঘ সত্য।তাই তো মার্কসের 'হাড়িইজম' বার বার রোগা হচ্ছে আর পরিবর্তনের ইংজেকশন দিয়ে তাকে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।কিন্তু যেদিন বিশ্বনবির কণ্ঠ হতে নির্গত আল্লাহর মহাবাণী কোরান- এর মর্মবাণী উদ্ধার করা হবে, উদ্ধার করা হবে সর্বযুগের জীবনব্যবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন, সেদিন মার্কসবাদ এইডস রোগে আক্রান্ত হতে বাধ্য।যেদিন হজরত বাবা শাহ সুফি লালান ফকিরের অতি সহজ শব্দের গাঁথুনিতে রচিত পদ্যে কোরান-এর ব্যাখ্যা বাহির করতে পারবে -কারণ অধ্যাত্মবাদের মধ্যেও যে একটি অধ্যাত্মসাম্য থাকতে পারে তারই সম্রাট হলেন লালন ফকির-যেদিন ইমাম হোসায়েনের ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে,যেদিন এজিদের রঙ-চড়া, চোখ ধাঁধানো মরীচিকার ইমিটেশন মার্কা এজিদি ইসলামকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করতে পারবে,সেইদিন কি হোসায়েনি ইসলামের হাঁটি হাঁটি পায়ে চলার বাস্তব রূপটি কোথাও প্রতিফলিত হবে?

দৈহিক মৃত্যুই যেখানে সবকিছুর শেষ সিদ্ধান্ত বলে ধরে নেওয়া হয় এই পৃথিবীর জীবনটাই একমাত্র সত্য,সেখানে কেবল মার্কসবাদই নয়,বরং যে কোনো নব্য আর পুরাতন মতবাদে (ইজম) রূপ আর যুক্তির নাচানাচির ঢং যতই আপাতত নিখুঁত বলে মনে হোক না কেন, কিন্তু খুব ধীরে ধীরে যখন গর্তে পড়ে হাত-পা ভাঙার অনেক দৃশ্য দেখতে পাবে, তখনই চালানো হয় ঔষধ আর ব্যান্ডেজ লাগাবার নতুন নতুন প্রয়োগ ব্যবস্থা।কারণ,আপেক্ষিক সত্ঢ়ের প্রশ্নে এরা দৈহিক মৃত্যুটাই সব কিছুর শেষ বলে সিদ্ধান্ত নেবার ঘোষণা করে নি,বরং সার্বিক সত্যরূপে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার ঘোষণা করা হয়েছে।যার দরুণ প্রয়োগপদ্ধতিটাই মুখ্য এবং এই প্রয়োগপদ্ধতিটার যতই নতুন নতুন ধরণ ধারণ বাহির করা হোক না কেন,উহা হয়ে পড়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শনের পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। "একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান"- বার বার এই ভুলটি এত বেশি প্রচার করা হয়েছে, যার দরুণ মগজ ধোলাই করার মতো "পূর্ণাঙ্গ দর্শন"-এর চেহারার ভুল নাম "পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান" বলা হয়।এ জন্যই এর ফলটির অনেক রকম নাম হতে পারে -যেমন:বস্তুসর্বস্ববাদ,যান্ত্রিক জীবন,আইন সর্বস্ব ধমক দেবার বাহার,আত্মকেন্দ্রিকতাবাদ।এ রকমভাবে অনেক নাম দেওয়া যায় এবং যার ফলে অধ্যাত্মবাদ,মরমিবাদ,সুফিবাদ,ফকিরি ইত্যাদি নামের পরকালভিত্তিক দর্শনগুলোকে কেমন করে গ্রহণ করা যায় এ চিন্তা না করে বরং ছুঁড়ে মারে যতসব জঘন্য গালাগালির বিশ্লেষণ-যেমন অজ্ঞেয়বাদ,গাঁজাখুরি,ভণ্ডামি,ফুল বাবুর চিন্তাধারা,অলস মাথার বিকৃত ফসল ইত্যাদি।

মৃত্যুর পরও জীবন আছে, পরস্কার আর শাস্তি আছে।যদিও এগুলো সাদা চোখে ধরার মোটেও উপায় নেই।তবুও এই অধ্যাত্মবাদকে কেউ মারতে পারবে না-এটা সারাজীবন নাস্তিক্যবাদের পূজারি ও প্রচারক হবার পর দৈহিক মৃত্যুর সামনে এসে অকারণেই অধ্যাত্মবাদের কুয়াশা কাঁদায়।এটা যেন আগাছা মনে হলেও আপনিই গজায়।জীবনে কোনোদিন চাষ করা তো দূরে থাক,মনেও করতে চায় নি।সেই অধ্যাত্মবাদ মৃত্যুর সামনে এসে আগাছার মতো আপনিই গজিয়ে উঠবে।হ্যাঁ,গজাবেই।কারণ,এটাই যে জীবনের পূর্ণাঙ্গ দর্শন,যা সে নিজের ইচ্ছায় নয় বরং সামাজিক জীবন ব্যবস্থায় আত্মবিরোধ দেখে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে।কিন্গু মানুষের দৈহিক মৃত্যু যতদিন থাকবে ততদিন অধ্যাত্মবাদকে কেউ মেরে ফেলতে পারবে না।কারণ,এটা এমনই এক জিনিস যা কেউ ঝেঁটিয়ে চিরবিদায় করে দিতে চাইলেও আবার আপন ঘরেই বুমেরাং-এর মতো ফিরে আসে।লৌকিকতার অবগুণ্ঠনে অস্বীকার করছে,কিন্তু মৌনতার অবগুণ্ঠনে অধ্যাত্মবাদের দরজার সামনে মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।সত্যিই আল্লাহ পাক,তুমি মহান না নিষ্ঠুর জানি না,জানার জন্য চেষ্টাও করিনি কোনোদিন।কিন্তু আজ বিদায় বেলায় কেন মনের একান্ত গর্ভে তোমার কথা মনে হয়?যিশুর মহাক্ষমার দর্শন:"এক গালে চড় মারলে আর এক গাল পেতে দাও।" "আল্লাহ তুমি ওদের ক্ষমা করে দাও,ওরা যা করছে তা ওরা নিজেরাই জানেনা।"-এ রকম কত উপদেশকে কত রকম কুৎসিত আর জঘন্য বিশ্লেষণের কাপড় পরিয়েছি,কিন্তু মৃত্যুর শেষ প্রান্তে এসে অকারণেই বুকে জড়িয়ে ধরে সবার অলক্ষে মাথা নিচু হয়ে যাচ্ছে।তবে কি ঐ ক্ষমার বাণীই সার্বিক সত্য?যদিও আপেক্ষিক অর্থে এতকাল জেনেছি অন্যরকম। 

          মারেফতের গোপন কথা        ডা: বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল  সুরেশ্বরী