শনিবার, ৮ জুলাই, ২০১৭

নফস ও রুহের পার্থক্য - ১২

সারাটি  জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই।  এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।

               ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

নকশেবন্দি- মুজাদ্দেদি তরিকা, চিশতিয়া-কাদেরিয়া তরিকা, আবু - উলাই তরিকা, কালান্দারিয়া তরিকার শান গেয়েই গেলেন , শান না গাইলেও কিছু আসে যায় না। প্রশ্ন হলো? আপনি তো তিন নম্বর ছাগলের বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে শুধু লাফালাফিই করেই গেলেন।
                ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

 আমার পীর বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীরের সঙ্গে অন্য পীরের তুলনা করাই যায় না। কারণ, কোরানে ২১ বার রুহ বিষয়ে বলা হয়েছে, এবং এই ২১ বারই একবচনে বলা হয়েছে রুহের বহুবচন নাই । রুহ ফুৎকার করা হয়– নফস নয় । এই বিষয়ে অবাক করা ব্যাখ্যাটি সমগ্র পৃথিবীতে আমার বাবাই দিয়ে গেছেন। কথাটি শুনতে ভাল লাগবে না, কিন্তু আসলে ইহা একটি তিক্ত সত্য কথা।  আমার পীর বাবার পঁচিশটি বই কোরানের পনের পারার অনুবাদ কিছুটা ব্যাখ্যা এবং আট জি.বি তেষট্টি ঘন্টার মেমোরিকার্ডটি শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন আমার কথার সত্যতাটি।
                -------শাহ সূফি ময়েজউদ্দিন আল সুরেশ্বরী।

যারা অজানা কিছু জানতে আগ্রহী
তাদেরকে বলছি, সবাইকে নয়।

তোমার পীর যত বড় পীরই হোক না কেন
যদি তুমি তার থেকে সত্য না পাও তবে
ফেলে দাও তাকে। কারণ পীর এখানে মুখ্য
বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হলো সত্য পাওয়া।
সত্য হলো আল্লাহর রহস্য লোকের কিছু জানা।
সুরেশ্বরীর শান কত বড় রে, ভান্ডারীর শান
কত বড় রে, খাজা বাবার শান কত বড় রে,
শান বললেও আছে, না বললেও আছে, তুমি
কি ঘোড়ার ডিমটা পাইলা। তুমিতো বকরির
তিন নম্বর বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে পীরের
বাড়িতে গিয়ে শুধু লাফালাফিই করে গেলা।

আসো বসো মুরিদ হও, ধ্যান-সাধনা কর, যদি
আল্লাহর রহস্যলোকের কিছুই না পাও
আমাকে ফেলে চলে যাও। এখানে পীর বড়
নয় এখানে সত্য বড়। সারা জীবন বাবা
বাবা ডাকবা পাইবা না ঘোড়ার ডিমও
সেই বাবা ডাইকা কোন লাভ নাই।
              --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

আমার চাওয়া-পাওয়াটি কী ছিল? আমি তা নিজেই জানতে পারলাম না। এমনকি মরনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত।
~হযরত সাকীব

যে পীর মুরিদের ধন-সম্পদের দিকে তাকায় বলে দাও সে দুনিয়াদার মরদুদ (মরদুদ শয়তান)
                --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

গোত্রের দ্বারা বিমোহিত হবার থেকে মুক্ত থাকবার জন্য ব্যক্তিকে সবসময় সংগ্রাম করতে  হয়েছে । যদি তুমি এই চেষ্টা কর, তোমাকে প্রায়ই নিঃসঙ্গ হয়ে যেতে হবে। কখনও তোমাকে ভয় দেখানোও হবে। কিন্তু নিজেকে লাভ করবার যে সুবিধা সেটা পাবার জন্য কোনো মূল্যই খুব বেশি নয়।
                                         ---------ফ্রেডারিক নিটশে


আল্লাহর প্রত্যেক ওলি যাদেরকে আমরা মহামানব বলে থাকি তাঁরা রুহুল্লাহ তথা আল্লাহর রুহ। কিন্তু এখানে একটি বিরাট কথা থেকে যায়, আর সেই কথাটি হলো, সাধক যখন নফস হতে খান্নাসকে মুক্ত করতে পারেন তখনই রুহুল্লাহ হন, তবে  যারা মাসুম , মহানবির আওলাদেরা এবং সকল নবিই আজন্ম রুহ প্রাপ্ত, যদিও হজরত ইসা (আ.) তথা যিশুখ্রিস্টকে সাধারণভাবে রুহুল্লাহ বলা হয়ে থাকে এবং যেহেতু কোরান-এ বলা হয়েছে 'আমরা ইসাকে – রুহুল কুদ্দুস দ্বারা শক্তিশালী করেছিলাম।' এই কথাটির দ্বারা অনেকেই ভুল করে বসেন , কারণ ইহাতে হজরত ইসা নবির শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হয় না বরং বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ হয়। এই রুহের পরিপূর্ণ বিকাশটিকেই আবার নুরে মুহাম্মদির ভাণ্ডার বলা হয়।
একটি বিখ্যাত হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে যে, মানবদেহের মাঝে কলব আছে। কলবের মাঝে আছে 'ফুয়াদ' অর্থাৎ অনুভূতিও চিন্তার বিচিত্র গতিপ্রবাহ। এই ফুয়াদের মধ্যে রুহ উদ্ভাসিত হয় তখনই যখন ফুয়াদ খান্নাসমুক্ত হয় । রুহের মাঝে আছে 'সেরর' তথা রহস্য। সেরর তথা রহস্য। সেরর তথা রহস্যের মাঝে আছে ‘নুর’ তথা নুরে মুহাম্মদি । নুরে মুহাম্মদির মধ্যে আছে 'আনা' তথা 'আমিই আমি'। আল্লাহ বলেছেন, নুরের মাঝে শুধু আমিই আছি।
এখানে যারা মহানবিকে প্রশ্ন করছে তারা কমবেশি বিদ্যাবুদ্ধির অধিকারী । কিন্তু রুহ বিষয়ে প্রশ্ন করার সঙ্গে-সঙ্গে আল্লাহ মহানবিকে বলে দিলেন এই বলে যে, রুহ হলো আমার প্রতিপালকের আদেশ। তারপর বলা হলো, এই রুহ বিষয়ে তোমাদেরকে অতি সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে। কেন আল্লাহ রুহ বিষয়ে অতি সামান্য জ্ঞান দান করলেন এই বিষয়টি নিয়ে খুব কমই গবেষণা  করা হয়ে থাকে। আর গবেষণা করলেই বা লাভ কী, কারণ যত গবেষণাই করা হোক না কেন উহার ফলটি যে অতি সামান্য হতে বাধ্য ইহা তো আল্লাহ আগেই বলে দিয়েছেন। তবে যারা ধ্যানসাধনার মোরাকাবা-মোশাহেদার দায়েমি সালাতে নির্জনে একাকি বিরাট ধৈর্যধারণ করে সাধনাটি করতে পারেন এবং যদি আল্লাহর বিশেষ রহমতটি দান করা হয় তবেই রুহের প্রকৃত পরিচয়টি জানা যায়, বোঝা যায় এবং ইহাই আইনুল ইমান অথবা হাককুল ইমান তথা যে-ইমানটির এদিকে-সেদিক হবার অথবা যাওয়া-আসার সম্ভাবনাটি আর থাকে না। এই ইমানের অধিকারীদেরকেই মোমিন বলা হয়ে থাকে। এই ইমানের বাহিরে যারা ইমান রাখে তাদেরকেই আমানু বলা হয়। তাই আমরা দেখতে পাই, কোরান-এর ২৬৫ টি আয়াতে আমানু শব্দটি মোট ২৭৮ বার উল্লেখ করা হয়েছে । অথচ পরক্ষনে মোমিন শব্দটি কোরান-এর ১৪১ আয়াতে মাত্র ১৫১ বার উল্লেখ করা হয়েছে । যে-মানুষটি নফসে মোৎমায়েন্নার অধিকারী হতে পেরেছেন তিনিই মোমিন এবং জান্নাতের সুসংবাদটি তাকেই দেওয়া হয়েছে। রুহ যে স্বয়ং আল্লাহ রব-রূপে প্রতিটি মানুষের সঙ্গে শাহারগের নিকটেই তথা জীবন-রগের কাছেই অবস্থান করছেন সেই জ্ঞানটি অতি অল্পসংখ্যক মানুষই বুঝতে পারেন। কারণ অতি অল্পসংখ্যক মানুষই ধ্যানসাধনার মোরাকাবা-মোশাহেদার দায়েমি সালাতে ডুবে থাকেন। আর আমরা সবাই ছরছর করি। সুতরাং, রুহের পরিচয়টি জানবার ইচ্ছাটি যার প্রবল তিনি অবশ্যই ধ্যানসাধনার দিকে এগিয়ে যাবেন। মানুষ বৈষয়িক বিষয়ের চাকচিক্যময় লোভ-মায়ার আকর্ষণে খান্নাসের কুমন্ত্রণায় বিভোর হয়ে থাকে। তাই রুহ বিষয়টি কেমন করে জানতে পারবে?
কোরান -এর দুই নম্বর সূরা বাকারার দুইশত তিপ্পান্ন নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:  তিলকা(ওই) রসুলু (রসুলেরা, রসুলগণ) ফাদদালনা (আমরা ফজিলত দিয়াছি, আমরা মর্যাদা দিয়াছি, আমরা শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছি) ‍বাদাহুম (তাহাদের কেহ কেহ ) আলা (উপর) বাদিন (অংশ, টুকরা, সম্পূর্ণ বস্তুর কিছু অংশ, কিছু, কাহারও)।
 ওই রসুলগণ আমরা ফজিলত দিয়াছি তাহাদের কাহাকেও কাহারও উপর।
মিনহুম (তাহাদের মধ্য হইতে) মান (কাহারও ,কেহ) কাললামা (কথা বলিয়াছেন) আল্লাহু (আল্লাহ ) ওয়া (এবং) রাফাআ( ঊর্ধ্বে স্থাপন করিলেন, উপরে উঠাইলেন, উঠাইলেন) বাদহুম (তাহাদের কেহ-কেহ) দারাজাতিন (মর্যাদা, ধাপ, সিঁড়ি) ।
তাহাদের মধ্য হইতে আল্লাহ কথা বলিয়াছে কাহারও (সাথে) এবং মর্যাদায় ঊর্ধ্বে স্থাপন করিলেন তাহাদের কেহ-কেহকে।
ওয়া (এবং) আতাইনা (আমরা দান করিয়াছি) ইসা (ইসাকে) ইবনা (পুত্র) মারিয়ামা (মারিয়মের) বাইইনাতি (খোলা চিহ্নসমূহ, উজ্জ্বল প্রমাণ) ওয়া(এবং) আইয়াদনাহু (আমরা তাহাকে সাহায্য  করিয়াছি, শক্তি দিয়াছি) বিরুহি (রুহের দ্বারা ) কুদুসি (খুব পবিত্র, পবিত্র সত্তা)। এবং আমরা দিয়াছি মরিয়মের ছেলে ইসাকে উজ্জ্বল প্রমাণ এবং আমরা তাঁহাকে (ইসাকে) সাহায্য করিয়াছি খুব পবিত্র রুহের দ্বারা।
 ওয়া (এবং) লাও (যদি ) শাআ (চাইতেন, ইচ্ছা করিতেন) আল্লাহু (আল্লাহ) মা (না) ইকতাতালা (সে যুদ্ধ করিল, পরস্পর যুদ্ধ করা) আললাজিনা (যাহারা ) মিন (হইতে) বাদি (পরে) হিম (তাহাদের ) মিমবাদি (হইতে পরে) মা (যাহা) জাআতহুমু (তাহাদের কাছে আসিয়াছিল) বাইইনাতু (উজ্জ্বল প্রমাণ) ওয়ালাকিনি (এবং কিন্তু) ইখতালাফু (তাহারা মতভেদ করিল, তাহারা মতবিরোধ করিল) ফামিনহুম(সুতরাং তাহাদের মধ্য হইতে) মান  (যে , কেহ, কাহারও ) আমানা (ইমান আনিয়াছে, ইমান আনিল) ওয়া (এবং) মিনহুম (তাহাদের মধ্য হইতে) মান (কেহ) কাফারা (কুফরি করিল,অস্বীকার করিল)
এবং যদি আল্লাহ ইচ্ছা করিতেন তাহারা পরস্পর যুদ্ধ করিত না তাহাদের পর হইতে যাহারা, যাহা তাহাদের কাছে উজ্জ্বল প্রমাণগুলি আসিয়াছিল ইহার পরেও এবং কিন্তু তাহারা মতবিরোধ করিল সুতরাং তাহাদের মধ্য হইতে কেহ ইমান আনিল এবং তাহাদের মধ্য হইতে কেহ কুফরি করিল।
ওয়া (এবং ) লাও (যদি) শাআ (ইচ্ছা করিতেন) আল্লাহু (আল্লাহ ) মা (না ইকতাতালু (তাহারা একে–অপরকে হত্যা করিত)।
 এবং যদি আল্লাহ ইচ্ছা করিতেন তাহারা এক–অপরকে হত্যা করিত না ।
> ওয়া (এবং) লাকিননা (কিন্তু) আল্লাহ (আল্লাহ) ইয়াফ্আলু (করেন) মা (যাহা) ইউরিদু (তিনি চাহেন)।
>এবং কিন্তু আল্লাহ করেন যাহা চাহেন।
এই আয়াতে আল্লাহ নিজেই ঘোষণা করছেন এই বলে যে, রসুলগণের মধ্যে তিনি ফজিলতের প্রশ্নে কিছুটা কম-বেশি করেছেন। অথচ এই সুরা বাকারাতেই আল্লাহ তাদেরকে তথা মানুষদেরকে রসুলগণের সাথে ছোট-বড় করার ভাগ করতে নিষেধ করে দিয়েছেন। আমরা এই কথাটুকুর মাঝে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে আল্লাহ মর্যাদার প্রশ্নে তথা ফজিলতের বিষয়ে রসুলগনের মধ্যে একজন হতে আরেকজনকে মর্যাদাবান বেশি করেছেন। যেহেতু এই মর্যাদার বিভাজনটি রসুলগণের মধ্যে তিনিই করেছেন সেইহেতু কোন কিছু বলার এবং অভিযোগ করার প্রশ্নটি অবান্তর। অথচ আমাদেরকে রসুলগনের মধ্যে ছোট-বড় করতে মানা করে দিয়েছেন। কারণ, যদিও  রসূলগণ আমাদেরই মতো অথচ রসুলগণ মোটেও আমাদের মতো নহেন। যেহেতু রসুলেরা আমাদের মতো নহেন সেই হেতু আল্লাহ আমাদেরকে ছোট-বড় করতে তথা পার্থক্য করতে মানা করে দিয়েছেন।
আবার আল্লাহ বলেছেন, রসুলগণের মধ্যে তিনি কারো সঙ্গে কথা বলেছেন। এই কথাটির গভীর রহস্য অধম লেখকের পরিষ্কার জানা থাকলেও অপরিষ্কারের ভান করে বলতে হচ্ছে যে তিনি (আল্লাহ )রাসুলদের মধ্যে অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছেন। আবার তিনি বলছেন যে উচ্চমর্যাদার প্রশ্নে রসুলগণের মধ্যে কাহাকেও উচ্চমর্যাদাটি দান করেছেন। তারপর আল্লাহ বলেছেন, মরিয়মপুত্র হজরত ইসা রুহুল্লাহ (আ)-কে উজ্জ্বল প্রমাণ দান করেছেন । এখন প্রশ্ন হলো, এই উজ্জ্বল প্রমাণ (বাইইনাত) বলতে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন? অধম (বাইইনাত) বলতে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন? অধম লেখকের মনে হয় যে এই উজ্জ্বল প্রমাণটি হলো হজরত ইসা রহুল্লাহ (আ.) দোলনাতে শুয়ে –শুয়েই কথা বলতেন। তিন দিনের শিশু অবস্থায় আর কোনো রসুল কথা বলেছেন কিনা উহা অধম লেখকের জানা নাই। কিন্তু হজরত ইসা রুহুল্লরাহ (আ.) যে জন্মগ্রহণ করেই কথা বলতে শুরু করেছেন ইহার জ্বলন্ত দলিলটি আমরা কোরান-এই পাই।  কথিত আছে যে, দোলনায় শুয়ে- শুয়ে শিশু ইসা রুহুল্লাহ (আ.) যখন মানুষদের সঙ্গে কথা বলতেন তখন সেই মানুষেরা অবাক বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে যেত এবং ভক্ত তথা মুরিদ হয়ে যেত। তারপরে আবার মরিয়ম পুত্র ইসাকে রহুল কুদ্দুস  তথা অতি পবিত্র রুহ দ্বারা শক্তিশালী করার কথাটিও বলা হয়েছে। অধিকাংশ তফসিরকারকেরা রুহুল কুদ্দুসের অর্থটি  বুঝতে না পেরে অনুমানের গুলমারা বিদ্যাটি জাহির করে ফেলেছেন। আর সেই গুলমারা বিদ্যাটি হলো, রুহুল কুদ্দুস বলতে তারা ফেরেশতা জিবরাইলের কথাটি উল্লেখ করেছেন। হায় রে খোদা!  এরা কি এটুকু বেমালুম ভুলে গেছেন যে, জিবরাইল ফেরেশতার নফসও নাই এবং রুহও নাই তথা নির্বাচন করার অধিকার হতে ফেরেশতারা সম্পূর্ণ ভাবে বঞ্চিত । আসলে ফেরেশতা জিবরাইলের নাম যদি রুহুল কুদ্দুস দেওয়া হয় তা হলে ইহা অনেকটা কানা ছেলের নাম পদ্মলোচনের মতো শোনায়, তথা চোখই নাই অথচ কী সুন্দর অপূর্ব চোখ দুইটি । বুকে হাত রেখে বিবেককে ফাঁকি না দিয়ে একবার ভাবুন তো যে, আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে কোনো নফস এবং কোনো রুহ দান করেন নি। আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টজীবকে আল্লাহ নফস দান করেছেন, কিন্তু রুহ দান করেন নাই-একমাত্র মানুষ এবং জিন ছাড়া। তাই আমরা দেখতে পাই , মানুষের মধ্যে যে –রকম আল্লাহর ওলি হয়, তেমনি জিনের মধ্যেও আল্লাহর ওলি হয় । যেহেতু জিনজাতির সঙ্গে আমাদের তথা মানুষদের সঙ্গে পরিচয় না বললেই চলে তাই ইচ্ছা করেই জিনজাতির কথাটি বাদ দিয়ে যাই। আমরা জানি, ফেরেশতারা অতি পবিত্র, কিন্তু সর্বশ্রেষ্ঠ নহে । সর্বশ্রেষ্ঠ হলো মানুষ। তাই মানুষকে আল্লাহ 'আশরাফুল মাখলুকাত'- তথা সৃষ্টির স্রেষ্ঠ জীব বলে আখ্যায়িত করেছেন । ফেরেশতারা অতি পবিত্র হয়েও এই সর্বশ্রেষ্ঠ গুণটির ধারের-কাছেও নাই। কারণ, নির্বাচন করার ক্ষমতাটি ফেরেশতাদেরকে দেওয়া হয় নি। নির্বাচন করার কথাটি তখনই আসে যখন ভালো এবং মন্দের মিশ্রণ করা হয়। ভালো-মন্দের অধিকারটি দান করলেই সীমিত স্বাধীন ইচ্ছা শক্তিটিও দান করা হয়ে যায়। কারণ, কান টানলে মাথা আপনিই আসবে। আল্লাহর এত বড় –বড় জ্বলন্ত প্রমাণসমূহ দেখার পরেও মানুষ উহা হতে শিক্ষা গ্রহণ না করে বরং পরস্পর হিংসা, বিদ্বেষ, মারামারি, হত্যাযজ্ঞ এমনকি  ভয়ঙ্কর যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছে বারবার। ইহা মানবজাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কের তিলক হয়ে আছে এবং থাকবে। তাই এই সীমিত ইচ্ছা শক্তিটি দান করার দরুন কেহ ইমান আনবে, কেহ সরাসরি কুফরি করবে। ভালো এবং মন্দের এই লীলাখেলাটি যুগ-যুগ ধরে চলে আসছে অনেক রূপ ও রঙ্গে এবং অনেক রকম লেবাসে।যেহেতু আল্লাহ মানুষকে সীমিত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিটি দান করেছেন তথা নির্বাচন করার অধিকারটি দিয়েছেন সেই হেতু আল্লাহ ইহার উপর হস্তক্ষেপ করেন না। যদি হস্তক্ষেপ করতেন তাহলে এই হত্যাযজ্ঞের লীলাখেলাটির চিরতরে অবসান হতো। এখানে অনেকেই আল্লাহকে গোপনে দোষ দিতে চায় । কিন্তু অধম লেখক নিরপেক্ষ মনে বলছি যে , স্বাধীনতা দেবার পর যদি উহ হরণ করা হয় তা হলে এই স্বাধীনতার মর্যাদাটি থাকে কোথায় ? সুতরাং সর্বপ্রকার দোষ হতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জাল্লাশানাহু সম্পূর্ণ মুক্ত।

সগীরে  আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী  আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।
নফস ও রুহের পার্থক্য - শেষ পর্ব।

সারাটি  জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই।  এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।

               ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

নকশেবন্দি- মুজাদ্দেদি তরিকা, চিশতিয়া-কাদেরিয়া তরিকা, আবু - উলাই তরিকা, কালান্দারিয়া তরিকার শান গেয়েই গেলেন , শান না গাইলেও কিছু আসে যায় না। প্রশ্ন হলো? আপনি তো তিন নম্বর ছাগলের বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে শুধু লাফালাফিই করেই গেলেন।
                ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

 আমার পীর বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীরের সঙ্গে অন্য পীরের তুলনা করাই যায় না। কারণ, কোরানে ২১ বার রুহ বিষয়ে বলা হয়েছে, এবং এই ২১ বারই একবচনে বলা হয়েছে রুহের বহুবচন নাই । রুহ ফুৎকার করা হয়– নফস নয় । এই বিষয়ে অবাক করা ব্যাখ্যাটি সমগ্র পৃথিবীতে আমার বাবাই দিয়ে গেছেন। কথাটি শুনতে ভাল লাগবে না, কিন্তু আসলে ইহা একটি তিক্ত সত্য কথা।  আমার পীর বাবার পঁচিশটি বই কোরানের পনের পারার অনুবাদ কিছুটা ব্যাখ্যা এবং আট জি.বি তেষট্টি ঘন্টার মেমোরিকার্ডটি শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন আমার কথার সত্যতাটি।
                -------শাহ সূফি ময়েজউদ্দিন আল সুরেশ্বরী।

যারা অজানা কিছু জানতে আগ্রহী
তাদেরকে বলছি, সবাইকে নয়।

তোমার পীর যত বড় পীরই হোক না কেন
যদি তুমি তার থেকে সত্য না পাও তবে
ফেলে দাও তাকে। কারণ পীর এখানে মুখ্য
বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হলো সত্য পাওয়া।
সত্য হলো আল্লাহর রহস্য লোকের কিছু জানা।
সুরেশ্বরীর শান কত বড় রে, ভান্ডারীর শান
কত বড় রে, খাজা বাবার শান কত বড় রে,
শান বললেও আছে, না বললেও আছে, তুমি
কি ঘোড়ার ডিমটা পাইলা। তুমিতো বকরির
তিন নম্বর বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে পীরের
বাড়িতে গিয়ে শুধু লাফালাফিই করে গেলা।

আসো বসো মুরিদ হও, ধ্যান-সাধনা কর, যদি
আল্লাহর রহস্যলোকের কিছুই না পাও
আমাকে ফেলে চলে যাও। এখানে পীর বড়
নয় এখানে সত্য বড়। সারা জীবন বাবা
বাবা ডাকবা পাইবা না ঘোড়ার ডিমও
সেই বাবা ডাইকা কোন লাভ নাই।
              --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

যে পীর মুরিদের ধন-সম্পদের দিকে তাকায় বলে দাও সে দুনিয়াদার মরদুদ (মরদুদ শয়তান)
    --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

খান্নাসমুক্ত আমির মাঝেই পাবে আমিকে, ঐ আমিটাই দূষিত আমি নয়। নির্ভেজাল আমির মাঝে কেবলই রুহরূপী আল্লাহ পরিপূর্নরূপে জাগ্রত হয়ে উঠে।
                           ---------মাওলানা জালাল উদ্দিন রূমি।

তুমি নিজেকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে যেতে চেষ্টা কর, যদি শূণ্য হয়ে যেতে পার সমালোচনা ঠাঁই পাবে না । কেবলমাত্র ঠাঁই পাবে নীরবতা অথবা প্রশংসা।
                                                    --------ব্রুন বাওর।

তুমি  দেখতে পাও না ধন-সম্পদে ডুবে থেকে কত অহংকারের পচা বচন শুনায় । মরে যাবার পর সেই অহংকারীর জন্য একটি কুকুরও কাঁদে না।
                            --------বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর।

জানিয়া রেখ, চোরও লাশের কাপড় চুরি করে। কিন্তু মাজারের গিলাপ কখনই চুরি করে না।          
                                -------বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর।

কোরান-এর সত্তর নম্বর সুরা মারেজ এর  চার নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে”: তারুজুল (উরুজ করে , আরোহণ করে, উপরে উঠে, ঊর্ধ্বে গমন করে, অধিরোহণ করে) মালায়িকাতু (ফেরেশতারা ) ওয়া (এবং) রুহ (রহু [রুহের প্রতিশব্দ বাংলাতেও নাই এবং ইংরেজি ভাষাতেও নাই। তবে বাংলা ভাষায় পরমাত্মা এবং ইংরেজিতে ‘স্পিরিট’ কেউ-কেউ অনুবাদ করে থাকেন]) ইলাইহি (তাহার দিকে) ফি (মধ্যে) ইয়াওমিন্ (একদিন) কানা (হয়) মিকদারুহু (যাহার পরিমাণ, যাহার মাপ, যাহার মাত্রা, যাহার ওজন, যাহার সংখ্যা,  যাহার বিস্তার, যাহার গুরুত্ব) খানসিনা (পঞ্চাশ) আলফা (হাজার ) ছানাতিন (বছর)। উরুজ করে ফেরেশতারা এবং রুহ তাহার (আল্লাহর) দিকে একদিনের মধ্যে যাহার পরিমাণ হয় পঞ্চাশ হাজার বছর। এই আয়াতে ‘উরুজ’ শব্দটির অর্থ হলো উপরে ওটা তথা ঊর্দ্ধগমন। আবার ‘উরা’ শব্দটির অর্থটি মিলনও হয়। আরবি ভাষায একটি শব্দের যে কত রকম অর্থ হয় তার কিছুটা নমুনা কোথাও-কোথাও তুলে ধরেছি। আল্লাহর সঙ্গে মিলনের জন্য আধ্যাত্মিক উর্দ্ধগতিকেও ‘উরুজ’ বলে। এই উরুজ শব্দের সঙ্গে মেরাজ নামক পরিচিত শব্দটি আমাদের জানা আছে ‘উরুজ শব্দ হতেই মেরাজ শব্দটির আগমন। ফেরেশতারা এবং রুহ আল্লাহর দিকে যে- গতিতে এগিয়ে যায় তা পৃথিবীতে বাস করা মানুষের নিকট পঞ্চাশ হাজার গুণ তিনশত ষাটদিন (হিজরি সনের গণনায়)- এই কথাটির মাধ্যমে স্থানে ও কালের (টাইম অ্যান্ড স্পেস) সীমাবদ্ধ দৈহিক গতিটিকে বোঝানো হয় নাই। কারণ, আল্লাহ স্থান এবং কালের বৃত্তের গণ্ডিতে আবদ্ধ নন। আল্লাহ কখনোই মানুষ হতে কোনো এক সুদূর স্থানে অবস্থান করেন না যার জন্য এত বড় লম্বা রাস্তটি অতিক্রম করে আল্লাহর নিকট যেতে হবে। এই গতি দৈহিক অথবা বৈষয়িক গতি (ফেনোমেনাল স্পিড)নহে । ইহা নিছক একটি আধ্যাত্মিক গতি (স্পিরিচুয়াল স্পিড) । আপন নফস হতে খান্নাসটিকে তাড়িয়ে দেবার ধ্যানসাধনায় দায়েমি সালাতে ডুবে থেকে সাধক যখন খান্নাসমুক্ত হতে পারে তখনই সে আল্লাহর রহস্যময় পরিচয়ে পরিচিতি লাভ করে। অর্থাৎ আপন নফসের মধ্যে  রহুটি যখন পরিপূর্ণ রূপ ধারণ করে, সেই পরিপূর্ণ রূপটিই হলো আল্লাহর রূপ এবং যেখানেই আল্লাহর রূপের পরিচয়টি ধরা দেবে সেখানে ফেরেশতাদের আগমনটি অবধারিত। মহানবি যে মেরাজে আল্লাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন  সেই সময়টিকেও সর্বনিম্ন সাতাশ বছর  হতে সাতাশি হাজার বছর পর্যন্ত অবস্থান করার কথাটি দেখতে পাই। অথচ মহানবির ওজুর পানি তখনও গড়িয়ে যাচ্ছিল এবং আরও কিছু ঘটনা। এই স্থান ও কালের (টাইম অ্যাণ্ড স্পেস) বিষয়টির কিছুটা পরিচয় আমরা এই আধুনিকালে বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং হতে জানতে পারি। তা ছাড়া আল্লাহর বহু ওলিরা বলেই ফেলেছে যে ‘বুদ আনদার লা মোকা  খসরু’ – তথা , খসরু লা-মোকায় অবস্থান করেছিল । মহানবি বলেছেন, আসসালাতু মেরাজুল মোমেনিন অর্থাৎ সালাতই মোমিনদের মেরাজ পক্ষান্তরে,
আল্লাহ সুরা মারেজ এর তেইশ নম্বর  আয়াতে বলেছেন, আললাজিনা হুম আলা সালাতিহিম দায়েমুন । অর্থাৎ যারা দায়েমি সালাতের উপরে তথা চব্বিশ ঘণ্টা সালাতের উপর অবস্থান করে তারাই মুসলিম। এখানে একটু লক্ষ করবার বিষয় হলো, কোরান দায়েমি সালাতের কথাটি একদম সোজসুজি বলে দিলেন পক্ষান্তরে ওয়াক্তিয়া সালাতের কথাটি কোরানে সোজাসুজি  বলা হয়নি অথবা বলেননি। ধ্যানসাধনায় রত থাকা একজন সাধক যখন আপন পবিত্র  নফস  খান্নাসটিকে তাড়িয়ে দিতে পারেন তখনই সাধক মোমিনে পরিণত হন এবং রুহ পরিপূর্ণরূপ ধারণ করে যে –দর্শনটি দান করা হয় উহাই হলো সাধকের মেরাজ।
নফস সরল, কিন্তু খান্নাস বক্র তথা আকাম-কুকামের গুরু ঠাকুর। খান্নাসমুক্ত নফসটি একদম সরল-সহজ এবং নিষ্পাপ । তাই বলা হয়ে থাকে, ‘ফেরেশতার মতো’। সুতরাং , রুহ রহস্যের ভাণ্ডার , রুহ গোপনেরও গোপন, রুহ বিজ্ঞানের বহির্ভূত বিজ্ঞান, রুহ ধারণার বহির্ভূত ধারণা। অথচ, এই রুহ প্রতিট মানুষের জীবন-রগের নিকটেই অবস্থান করে – যদিও বুঝতে পারে না এবং দুনিয়ার অনেক রকম চাকচিক্যময় মোহনীয়  বিষয়গুলো  মায়াজালে আপন নফসের  সঙ্গেই মিশে থাকা খান্নাসটি সত্যদর্শন হতে তথা রুহের পরিচয়হ হতে ফিরিয়ে রাখে অনেক রকম মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে। কোরান-এর আটত্রিশ নম্বর সুরা সাদ-এর বাহাত্তর নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ফা (সতরাং, কাজেই, অগত্যা, অতএব) ইজা (যখন , ওই সময়, হাঠাৎ) সাওয়াইতুহু (আমি এখানে আল্লাহ নিজেকে একবচনে বলেছেন এবং নাহনু তথা শব্দটি ব্যবহার করা হয় নাই। রাজা অথবা রানি সব সময় আমরা ব্যবহার করে থাকেন, কিন্তু আল্লাহ দুনিয়ার রাজা বা রানি নহেন। তাই তিনি কখনো ‘আমি’ এবং কখনো   আমরা বলেন]) তাহাকে সুষম করি, আমি তাহাকে সমান করি, সুসঙ্গতিপূর্ণ করি, সুন্দর করি, শোভন করি, যথাযোগ্য উপাদানবিশিষ্ট করি, সোজা করি, ঠিক করি, মীমাংসা করি, বিন্যস্ত করি, সাজাইয়া রাখি, মেইক হারমোনিয়াস, ওয়েল-প্রপরশন্ড, ইভেন, স্ট্রেইট শেপ, প্রপার, কারেক্ট, রেগুলার, ইনট্যাক্ট, রাইট, শেপলি) ওয়া (এবং ,আর, ও) নাফাখতু (আমি ফুৎকার দেই, আমি ফুঁ দেই) ফিহি (ইহার মধ্যে) মিন (হইতে, থেকে চেয়ে) রুহি (আমার রুহ [পাঠক , খেয়াল করুন, এখাানে নাফসি বলা হয় নাই। কারণ নফস জীবন-মৃত্যুর অধীন। অথচ এই রুহটি আমাদের মধ্যে ফুৎকার  করার কথাটি বলা হয়েছে, নফস ফুৎকার করার কথাটি বলা হয়নি। কারণ, নফস হলো প্রাণ, আর রুহ অর্থটি হলো আল্লাহর আদেশ তথা স্বয়ং আল্লাহ । কারন আদমের আগে আল্লাহ যে কাকে তৈরি করেছিলেন উহার দলিলটি হাবিল-কবিলের ঘটনাতেই দেখতে পাই। কারণ, কাকের প্রাণ আছে কিন্তু রুহ নাই। সুতরাং, প্রাণ এবং রুহ এই দুটোর মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এই বিষয়টি অনেকেরই জানা নাই]) ফাকাউ (সুতরাং তোমরা পড়িয়া যাও, সুতরাং তোমরা ভুপতিত হয়, সতরাং তোমরা নত হয়) লাহু (তাহার, তাহার জন্য) সাজিদিনা (সেজদায়, সেজদাকারী হওয়া)
সুতরাং যখন আমি তাহা সুষম করি এবং আমি ফুৎকার দেই ইহার মধ্যে আমার রুহ হইতে, সুতরাং তোমরা তাহাকে সেজদা করে। এখানে লক্ষ্য করার বিষয়টি হলো, আদমের মধ্যে আল্লাহ যে ফুৎকার করে দিচ্ছেন, সেই ফুৎকারটি কিন্তু নফস নহে। কারণ নফস জীবন-মরনের অধীন। তা ছাড়া আল্লাহর মধ্যে নফস নাই, নফস আল্লাহর গুণবাচক তথা সেফাতি সৃষ্টি। ওয়া নাফাখতু ফিহি মির রুহি- অর্থাৎ “আমি ফুৎকার ইহার মধ্যে আমার রুহ। এখানে বলা হয় নি, আমি ফুৎকার দেই ইহার মধ্যে আমার নফস। সুতরাং নফস এবং রুহের মধ্যে বিশাল পার্থক্যটি পরিষ্কাররূপে ধরা পড়ে যায়। আরও অনেক কিছু বলা যেত, লেখা যেত, কিন্তু বিস্তারিত না লিখে সামান্য একটি কথাই বলতে চাই যে আদমের পূর্বেই জিনজাতিকে আল্লাহ তৈরি করেছেন এবং কেবল জিনজাতিই নয় –বরং কাক  হতে সব রকম পাখি, পশু, গাছ-পালা, ফুল ইত্যাদিও যে আদমের আগেই তৈরি করে রাখা হয়েছে ইহাও পরিষ্কারভাবে অনুধাবন করা যায়। সুতরাং রুহ সৃষ্টির অন্তর্ভু্ক্ত নহে, রুহ সৃজনীশক্তির অধিকারী তথা এককথায় , রুহ প্রতিটি মানুষের সঙ্গে রবরূপে তথা প্রতিপালক-রূপে শাহারগের নিকটেই অবস্থান করে।
কোরান-এর পনের নম্বর সুরা হিজর-এর ঊনত্রিশ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ফা (সুতরাং, অতএব, অগত্যা, কাজে-কাজেই) ইজা (যখন , ওই,সময় হঠাৎ) সাওয়াইতুহু (আমি [এখানে আল্লাহ নিজেকে একবচনে বলেছেন এবং নাহনু তথা আমরা শব্দটি ব্যবহার করা হয় নাই। রাজা অথবা রানি সব সময় ‘আমরা’ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু আল্লাহ দুনিয়ার রাজা বা রানি নহেন। তাই তিনি কখনো ‘আমি’কখনো ‘আমরা’ বলেন] তাহাকে সুষম করি, আমি তাহাকে সমান করি, সুসঙ্গতিপূর্ণ করি, সুন্দর করি , সোজা করে, শোভন করি, যথাযোগ্য উপাদানবিশিষ্ট করি, সাজাইয়া রাখি, মেইক হারমোনিয়াস, ওয়েল প্রপরশন্ড ইভেন, স্ট্রেইট শেপড, প্রপার, কারেক্ট, রেগুলার, ইনট্যাক্ট, রাইট শেপলি) ওয়া (এবং আর, ও) নাফখতু (আমি ফুৎকার দেই, আমি ফুঁ দেই) ফিহি (ইহার মাধ্যে) মিন (হইতে, থেকে, চেয়ে) রুহি (আমার রুহ [এখানে নফস বলা হয় নি,কারণ নফস জন্ম-মৃত্যুর অধীন। রুহ –এর প্রতিশব্দ অন্য কোনো ভাষায় নাই])  ফাকাউ সুতরাং তোমরা পড়িয়া যাও, সুতরাং তোমরা ভূপতিত হও, সুতরাং তোমরা নত হও) লাহু (তাহার, তাহার জন্য) সাজিদিন (সেজদায়, সেজদাকারী হওয়া) । সুতরাং যখন আমি তাহা সুষম করি এবং আমি ফুৎকার দেই ইহার মধ্যে আমার রুহ হতে সুতরাং তোমরা তাহাকে সেজদা করো। যেহেতু এই আয়াতটির অনুরূপ আয়াতের সেজাদ করো। যেহেতু এই আয়াতটির অনুরূপ আয়াতের ব্যাখ্যা আগেই (সাদ:৭২) লেখা হয়েছে  তাই ইহার ব্যাখ্যা দেবার প্রয়োজন  আছে বলে মনে করি না।কোরান-এর ছেষট্টি নম্বর সুরা তাহরিম-এর বারো নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ওয়া (এবং, আর, ও) মরিয়ামা (মরিয়ম) ইবনাতা (কন্যা, মেয়ে ) ইমরানা (ইমরানের ) লাতি (যে, যাহা , যাহাকে, যিনি, যা , যাহার, যার যাকে) আহসানাত (হেফাজত করিয়াছেলেন , সংরক্ষণ করিয়াছিলেন, রক্ষা করিয়াছিলেন, পাহারা  দিয়েছিলেন, তত্ত্বাবধান  করিয়াছিলেন ফাজাহা (ছিড়িয়া ফেল, ফাঁড়িয়া ফেলা, ফাটা , পরুষ ও মহিলাদের লজ্জার স্তান) ফা (সুতরাং , অতএব, অগত্যা, কাজে-কাজেই ) নাফাখনা (আমরা ফুৎকার দেই, আমরা ফুকিয়া দেই[এখানে রুহ-ফুৎকার করার প্রশ্নে আল্লাহ ‘আমরা’শব্দটি ব্যবহার করেছেন তথা বহুবচনে বলা হয়েছে। কিন্তু অন্য আয়াতে বহুবচনে না বলে একবচনে তথা ‘আনা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছ   একবার ‘আমি এবং আবার ‘আমরা’ তথা একবচন এবং বহুবচন উভয়টি রুহ ফুৎকারের বেলায় কেন ব্যবহার করার  হলো উহা অধম লেখকের জানা নাই তবে এক বচন ও বহুবচন ব্যবহার করার  মাঝে অবশ্যই গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে এবং এই রহস্যটি জানা না থাকার দরুন পাঠকদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরলাম]) ফিহি (ইহার মধ্যে) মির (হইতে,থেকে, চেয়ে) রুহিনা ( আমাদের রুহ [এখানে আল্লাহ বহুবচনে রুহ-ফুৎকার করছেন]) ওয়া (এবং আর,ও) সাদদাকাত (সে সত্য  হিসাবে মানিয়া লইয়াছ, সে সত্য বলিয়া বিশ্বাস করিয়াছে, সে সত্যায়িত করিয়াছে, সে সত্যতা স্বীকার করিয়াছে, সে সাক্ষ্য দিয়াছে) বিকালিমাতি (বাণীসমুহের সহিত, কথাগুলির সহিত , শব্দসমূহের সহিত, উক্তিসমূহের সহিত,ভাষন সমূহের সহিত) রাববিহা (তাহার রবের, তাহার প্রতিপালকের, তাহার সদাপ্রভুর) ওয়া (এবং আর, ও) কুতুবিহি (তাঁহার কিতাবসমূহ, তাহার প্রত্যাদেশসমূহ)  ওয়া (এবং আর, ও) কানাহ (তিনি ছিলেন, তিনি হন) মিলান (হতে, থেকে , চেয়ে) কানিতিন(অনুগ্যতদেরর, অধীনদের , অনুসরণকারীদের, আশ্রিতদের।
এবং ইমরানের কন্যা মরিয়ম যিনি হেফাজত করিয়াছিলেন তাহার লজ্জাস্থান সুতরাং আমরা ফুৎকার দেই ইঁহার মধ্যে আমাদের রুহ হতে এবং তিনি সত্য বলিয়া মানিয়া লইয়াছেন তাহার রবের বাণীসমূহ এবং তাহর কিতাবসমূহ এবং তিনি ছিলেন অনুগতদের হইতে একজন।
প্রথমেই পাঠকদেরকে বলে রাখতে চাই যে, এই আয়াতের ব্যাখ্যাটি লেখা উদ্দেশ্য নয়, বরং মূল উদ্দেশ্যাটি হলো রুহ ফুৎকারে বিষয় কোরানার কোথাও একটি বারে তরে নফস ফুৎকারের কথাটি বলা হয় নাই। সুতরাং.আমার মূল উদ্দেশ্যটি হলো নফসও রুহের পার্থক্যটি পাঠকদের সামনে তুলে ধরা। আমার জানা মতে, কোরান-এ বিশটি আয়াতে একুশবার রুহ শব্দটি বলা হয়েছে এবং যে-যে সুরার যে-যে আয়াতে রুহ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে উহাই তুলে ধরাটি হলো মুখ্য উদ্দেশ্য। রুহ যে মোটেও প্রাণ নহে তথা নফস নহে এই কথাটুকু পাঠকদের বুঝিয়ে দেবার জন্যই এই প্রচেষ্টা।  বিস্তারিত ব্যাখ্যাটি তখনই লেখা হবে যখন কোরান –এর কোনো সুরার সব আয়াতের ব্যাখ্যা লেখা হবে । তবে এই কথাটি পরিষ্কার বোঝা গেল যে, রুহ-ফুৎকার বিষয়টি কেবলমাত্র নবি-রসুলদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নহেন, বরং আল্লাহর একান্ত অনুগত বান্দাদের মধ্যেও রুহ-ফুৎকার করা হয় এবং রুহ-ফুৎকারও যে একটি সার্বজনীন বিষয় ইহাও পরিষ্কার বোঝা গেল। কোরান-এর পাঁচ নম্বর সূরা মায়েদার একশত দশ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে । ইজ (যখন যে-সময়, যেহেতু , কারণ হাঠাৎ, আকস্মাৎ, অতঃপর) কালাল্লাহু (আল্লাহ বলিলেন) ইযা (হে ) ইসা (ইসা) বিনা (পুত্র) মারিয়ামা (মারিয়মের) আজকুল (তুমি জিকির করো, তুমি মনে করো, তুমি স্মরণ করো) নিয়ামাতি (আমার নেয়ামতের , আমার অনুগ্রহের , আমার দয়ার, আমার প্রসাদের , আমার প্রসনন্নতার  , আমার আনুকূল্যের ,আমার উপকারের) আলাইকা( তোমার উপর) ওয়া (এবং আর, ও ) আলা (উপর ) ওয়ালিদাতিকা (তোমার মায়ের, তোমার মাতার)। আল্লাহ বলিলেন , হে মরিয়মের পুত্র ইসা, তুমি জিকির করো তোমার উপর এবং তোমার মায়ের  উপর ।
উজাপ (যখন ) আইয়াততুকা (তোমাক সাহায্য করিলাম) বিরুহিলকুদুসি(পবিত্র রুহের সহিত, পবিত্র রুহের দ্বারা তোমাকে সাহায্য করিলাম) তুকাললিমু  (তুমি কথা বলিতে) নাসা  (মানুষের [সাথে ]) ফিল (মধ্যে ) মাহদি (কোল, মায়ের কোল, বিছানা, দোলনা) ওয়া (এবং ) কাহলান (মধ্য বয়সে, পরিণত বয়েসে) মানুষের (সাথে ) তুমি কথা বলিতে দোলনার মধ্যে এবং পরিণত বয়সে। ওয়া (এবং) ইজ (যখন) আইয়াততুকা (তোমাকে শিক্ষা দিলাম ) কিতাবা  (কিতাব) ওয়া (এবং) হিকমাতা (হিকমত, বিজ্ঞান) ওয়া (এবং) তাওরাতা (তাওরাত) ওয়া(এবং) ইনজিলা (ইঞ্জিল)। এবং যখন তোমাকে শিক্ষা দিলাম কিতাব এবং হিকমত এবং তাওরাত এবং ইঞ্জিল। ওয়া (এবং) ইজা (যখন) তাখলুকু (তুমি তৈরি করিয়াছে, তুমি বানাইয়াছ) মিনাত (হইতে) তিনি (মাটি ) কাহাইয়াতি(মতো, আকৃতিসদৃশ্য,  সুরতে) তাইরি (পাখি) বিইজনি(আমার নির্দেশে, আমার হুকুমে, আমার আদেশে) ফাতানফুখু (সুতরাং ফুঁকলে , সুতরাং ফু দিলে)  ফিহা (উহার মধ্যে) ফাতকুনু (সুতরাং হইয়া যাইত) তাইরাম (পাখি) বিইজনি (আমার নির্দেশে , আমার হুকুমে , আমার আদেশে) ওয়া (এবং ) তুবরিউল তুমি ভালো করিয়া দিতে, তুমি নিরাময় করিয়া দিতে ) আকমাহা (জন্মান্ধ) ওয়াল (এবং ) আবরাসা (কুষ্ঠরোগী) বিইজনি (আমার  নির্দেশে, আমার হুকুমে, আমার আদেশে)। এবং যখন তুমি আমর হুকুমে মাটি হইতে পাখির মতো আকৃতি তৈরি করিতে, সুতরাং উহার মধ্যে ফু দিতে  সুতরাং (উহা ) আমার হুকুমে পাখি হইয়া যাইত এবং তুমি আমার হুকুমে জন্মান্ধ এবং কুষ্ঠরোগকে ভালো করিতে। ।
ওয়া (এবং )ইজ (যখন ) তুখরিজুল(তুমি বাহির করিতে , তুমি জীবিত করিতে) মাওতা(মৃতদেরকে) বিইজনি (আমার হুকুমে , আমার নির্দেশে)।এবং  যখন আমার হুকুমে তুমি মৃতদেরকে জীবিত করিতে। ওয়া (এবং )ইজ (যখন ) আফাফতু (বিরত রাখিয়াছিলাম) বানি ইসরাইল ( বনি ইসরাইলকে ) আনকা (তোমা হইতে) । এবং যখন বনি ইসরাইলকে তোমার হইতে বিরত রাখিলাম। ইজ (যখন ) জিতাহুম(তুমি তাহাদের নিকট আসিলে) বিলবাইয়িনাতি (সুষ্পষ্ট নির্দশনসমূহসহ) ফাকালাল (সুতরাং বলিয়াছিলি) লাজিন(যাহারা) কাফারু( কাফেরেরা, অস্বীকারকারীরা) নিহম, (তাহাদের মধ্যে) ইন  (নহে ,নয়) হাজা(এইটা) ইললা( একমাত্র, কিন্তু , ব্যতীত) সিহরুম(জাদু) মুবিনুন(প্রকাশ্য, সুস্পষ্ট)।যখন তুমি তাহাদের নিকট আসিলে সুষ্পষ্ট নির্দশনসমূহসহ সুতরাং যাহারা কাফের তাহাদের মধ্য হইতে বলিয়াছিল, এইটা পরিষ্কার জাদু ছাড়া (আর কিছু ) নয়। এই  আয়াতে পবিত্র রুহের দ্বারা সাহায্য করার কথাটি বলা হয়েছে। পাঠক , খেয়াল করুন, এখানে পবিত্র নফস দ্বরা সাহায্য করার কথা বলা হয় নাই। অবশ্য কেহ-কেহ না বুঝে না শুনে ‘রুহুল কুদ্দুস' তথা ‘পবিত্র রুহ’ অনুবাদ করার সময় জিবরাইল নামক এক ফেরেশতার নামটি বসিয়ে দেয়। একটিবারের তরেও ভেবে দেখে না যে, জিবরাইল ফেরেশতা আল্লাহর সিফতি নুরের তথা গুণবাচক ‍নুরের তৈরি এবং কোরান-এর কোথাও একটি বারের তরেও । এই কথাটি বলা হয়নি যে, ফেরেস্তাদের নফসও আছে, রুহও আছে। নফস এবং রুহ –দুইটির একটিও ফেশেতাদেরকে দেওয়া হয়নি। তাহলে রুহুল কুদ্দুস তথা পবিত্র রুহ কথাটির দ্বারা কেমন করে জিবরাইল ফেরেশতাকে বোঝানো হয়েছে  ইহা অধম লেখকের জানা নাই। । এখানে আমরা সুরা মায়েদার ধারাবাহিক শব্দার্থ , বাক্য গঠন এবং ব্যাখ্যা লিখছি না, লেখছি কেবলমাত্র রুহ-এর পরিচয়টি তুলে ধরতে এবং রুহ ও নফসের মধ্যে যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য উহাই তুলে ধরতে। একটু খেয়াল করুন তো, মায়ের কোলে অথবা দোলনার শিশুটি কেমন করে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারে? কেমন করে এই শিশুটিকে কিতাব এবং হিকমত দেওয়া যেতে পারে? ইহা কি একটি অতীব আশ্চর্যজনক ঘটনা নহে ? শুধু কি কিতাব ও হিকমতই দান করেছেন । অবাক হই, দুই-দুইটি সহিফা – একটির নাম তাওরাত এবং অপরটির নাম ইঞ্জিল  শিক্ষা দিয়েছেন দোলনায় থাকা অবস্থায় । আল্লাহর এত বড় অপরিসীম দান সত্যিই মানবজাতিকে ভাবিয়ে তোলে।  এখানেই শেষ করে দেওয়া হয়নি , বরং আরও এগিয়ে গিয়ে বলা হয়েছে যে মাটি দিয়ে বানানো পাখির মতো একটি মাটির পাখি তৈরি করে আল্লাহর হুকুমে ফুৎকার দেবার সঙ্গে-সঙ্গে ইহা জীবন্ত পাখিতে পরিণত হয়ে যেতে। মাটি দিয়ে তৈরি পাখির মধ্যে রুহ থাকার তো প্রশ্ন উঠে না বরং প্রানটিও নাই অথচ প্রানহীন মাটির তৈরি খেলনার মতো পাখিতে আল্লাহর ফুৎকার দেবার সঙ্গে  সঙ্গে উহা জীবন্ত পাখিতে পরিণত হয়ে  যাওয়াটা কি একটি অভাবনীয়, অচিন্তনীয, বিস্ময়কর ঘটনা বলে মনে হয় না? আল্লাহ আরও বলছেন যে, জন্মান্ধ এবং কুষ্ঠ রোগীরদকেও আল্লাহর হুকুমে ভালো করে দিয়েছে।  তারপরের কথাটি সবাইকে অবাক করে তোলে আর সেটি হলে, মৃতব্যক্তিদরকে  “ আল্লাহর হুকুমে জীবিত হও বলার সঙ্গে সঙ্গে জীবিত হয়ে যেত। এত কিছু দেখার পরেও যারা কাফের তারা নবি-রসুল-রূপে মেনে নেওয়া তো দূরে থাক , বরং জঘন্য ভাষায় বলতো যে ,এগুলো হচ্ছে প্রকাশ্য জাদু । সুতরাং , যাদের তকদিরে ইমান শব্দটি লেখা হয় নাই তাদেরকে বড়-বড় জ্বলন্ত দৃষ্টান্তগুলো একের পর এক দেখিয়ে দিলেও কেমন করে ইমান আনবে আর কেমন করেই বা বিশ্বাস স্থাপন করবে ? সুতরাং সব সিন্ধান্তের  শেষ সিন্ধান্তটি হলো, মেনে নেওয়াটাও তকদির এবং অস্বীকার করাটাও তকদির। এই তকদিরের বলয় হতে আল্লাহর বিশেষ রহমত ছাড়া বেরিয়ে আসা যায় না। এটাই সত্য।  এটাই নির্মম সত্য। এটাই উলঙ্গ সত্য। এটাই স্বতঃসিদ্ধ সত্য।

সগীরে  আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী  আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।

শনিবার, ২৪ জুন, ২০১৭


চেরাগে জান শরীফ শরাবে শাহেনশাহে আজিজি আশিকে বারগাহে কালান্দার ডা.বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহজালাল নূরী আল সুরেশ্বরী।
বি:দ্র: ডা:বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী রচিত বইসমুহ পাইকারি মূল্যে নিম্নোক্ত ঠিকানায় পাওয়া যাচ্ছে........।


         ঠিকানাঃ
                  সুফিবাদ প্রকাশনালয়
              প্রযত্নে:বে-ঈমান হোমিও হল
   ১০৮ নিউ এলিফ্যান্ট রোড(২য় তলা) ঢাকা-১২০৫
               মোবাইল ঃ০১৯১১৫৯৭৭৮০

বুধবার, ৭ জুন, ২০১৭

রোজা বিষয়ে আলোচনা পর্ব ৪


এখন আমরা রোজার বিষয়ে খাজা বাবা কী বলেছেন তারই কিছু অংশ নিুে তুলে ধরলাম : ‘মহানবি বললেন, ‘হে উমর, রোজার হাকিকি অর্থটি হচ্ছে, মানুষ তার অন্তর বা দিল হতে সর্বপ্রকার দ্বিন ও দুনিয়ার আশা-আকাক্সক্ষা পরিত্যাগ তথা দূরীভূত করবে। কারণ দ্বিনের খাহেশ, যেমন―বেহেস্তের আরাম-আয়েশ, সুখ-শান্তি ও হুরদের আকাক্সক্ষা―দ্বিনের এই সব খাহেশ আবেদ ও মানুষের মধ্যে পর্দার অন্তরাল তৈরি করে। এই রকম চাওয়া-পাওয়া দিলের মধ্যে থাকলে বান্দা কখনো তার মাবুদের হাকিকতের নৈকট্য লাভ করতে পারে না।’
‘অপরদিকে দুনিয়ার খাহেশ তথা চাওয়া-পাওয়ার মোহনীয় আকাক্সক্ষাটি হলোÑ ধন-দৌলত, শান-শওকত, ক্ষমতার অহঙ্কার, নফ্সের অনেক রকম খাহেশ, দুনিয়া অর্জনের নেশায় মত্ত থাকা ইত্যাদি জাগতিক বিষয়গুলোর আকাক্সক্ষা মানুষকে আল্লাহ হতে দূরে সরিয়ে দেয় এবং এই সব বিষয়ের আকাক্সক্ষায় ডুবে থাকাটাই হলো শেরেকে ডুবে থাকা। আল্লাহকে ছেড়ে এই সব বিষয়ের প্রতি খেয়াল ও ফেকের করা এবং আবার কেয়ামতের ভয়, বেহেশতের আশা করা এবং আখেরাত বিষয়টির ফেকের করা―এই সবগুলো বিষয়ই রোজার হাকিকি তথা আসল রোজা নষ্ট তথা বরবাদ করে দেয়। আসল রোজা তথা রোজার হাকিকি তখনই সঠিক হবে যখন বান্দা আল্লাহ ছাড়া অন্য সবগুলো বিষয় দিল থেকে তথা অন্তর হতে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। এমনকি গায়রুল্লাহর (বিষয়মোহ) এলেম পর্যন্ত থাকে না এবং সব রুম উমিদ (আশা) ও ভয়ভীতি দেল হতে তথা অন্তর হতে দূর করে দিতে পারে।’
‘হে উমর, সাধারণ মানুষ যে রোজা রাখে তা হাকিকি তথা আসল রোজা নয়। কারণ ইহাতে শুধু পানাহার ও জেমাহ থেকে পরহেজ থাকে। সাধারণ মানুষের রোজাটিকে মেজাজি রোজা বলে জানিও। এই মেজাজি রোজা দ্বারা আসরারে এলাহি (খোদার রহস্য জ্ঞান) হাসিল হয় না। মেজাজি রোজাটি কেবলমাত্র জাহেরি সুরতে সীমাবদ্ধ। এই মেজাজি রোজা হাকিকত বিষয়টির কিছুই বুঝতে পারে না, বরং অন্ধকারে থেকে যায়। এই মেজাজি রোজা দ্বারা গায়রুল্লাহ পরিত্যাগ সম্ভব হয় না। বরং এই মেজাজি রোজায় সর্বপ্রকার নফ্সানি ও মানবীয় কলুষতা থেকে যায়। মেজাজি রোজাদারদের যাবতীয় কথাবার্তা এবং কাজকাম তথা কার্যাবলি গায়রুল্লাহ হতে পরিপূর্ণ থাকে। এইরূপ জাহেরি ও মেজাজি রোজা দ্বারা এতটুকু লাভ হতে পারে যে, গরিব, দুঃখী ও মিসকিনদের দুঃখ-ব্যথা সম্যকভাবে উপলব্ধি করা যায় এবং তাতে তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তাদের অভাব কিছুটা লাঘব করা যায়।’ (দিওয়ানে মুঈনুদ্দিনÑপৃ. ৪৩৭)।
হাকিকি রোজা যতই আসল রোজা হোক না কেন, মেজাজি রোজাটি অবহেলা করা যায় না। মহানবি সমস্ত আলমের জন্য রহমত, সুতরাং বিশেষ শ্রেণীই এই রোজার রহমত পাবে আর সবাই পাবে না এটা হতে পারে না। তাই সাধারণকেও এই রহমতটি দিয়ে যাবার যে ব্যবস্থাপত্রটি মহানবি দিয়ে গেছেন উহাকেই মেজাজি রোজা বলা হয়। তবে মেজাজি রোজার অনুশীলনের মধ্য দিয়েই হাকিকি রোজার রহস্যটি যখন বুঝতে পারা যায় তখনই রোজার বিষয়টির সার্থকতা বোঝা যায়। সুতরাং মেজাজি রোজাটি আছে বলেই মানুষ এই মেজাজি রোজা পালন করতে করতে হাকিকি রোজার রহস্যটি বুঝতে পারে। এই সিয়াম বিষয়টির কোরান হাদিস হতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা যায়, কিন্তু আমি অধম এ বিষয়ে আর এগিয়ে গেলাম না এ জন্য যে, এই সিয়াম বিষয়টির মেজাজি এবং হাকিকি ব্যাখ্যাগুলো খুবই সুন্দর এবং মার্জিত ভাষায় যিনি তুলে ধরেছেন তিনি শাহ সুফি সদর উদ্দিন আহমদ চিশতি এবং তাঁর অমর গ্রন্থটির নাম সিয়াম দর্শন। রোজার বিষয়ে কোরানের যতগুলো আয়াত আছে সবগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং রোজার উপর যতগুলো হাদিস আছে প্রায় অধিকাংশ হাদিস (সবগুলো নয়) তুলে ধরেছেন। এই অমূল্য বইটি কয়েকবার পড়লে সিয়াম বিষয়টি দিবালোকের মতো পাঠকের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং সিয়াম বিষয়টির উপর একটি মোটামুটি ধারণা তৈরি হবে।

   রোজা ও ইফতার
   ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী 
                                                                                        .....চলবে.....

রোজা বিষয়ে আলোচনা পর্ব___৩


রোজা কী বর্জন করতে শেখায়? একটি প্রশ্নে গবেষকদের মতামত এক নয়। এতে দুঃখ অথবা বিস্ময় প্রকাশ করার কিছুই নাই। কারণ গবেষণার জ্ঞানটি আন্তরিক, কিন্তু কিছুটা তো মতভেদ থাকবেই। কোরান তফসির, হাদিসের ব্যাখ্যা, এজমা, কেয়াস, প্রতিটি বিষয়ের গবেষণার জ্ঞানটিতে আমরা অনেক রকম মতভেদ দেখতে পাই এবং এই মতভেদটিকে স্বাভাবিক মনে করেই নেওয়া হয় এবং এর মাঝে কোনো প্রকার জোর তথা বলপ্রয়োগ খাটাবার প্রশ্নই উঠে না। বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা যায়। যেমন অনেক গবেষক বলেন যে, রোজা তাগুত পরিত্যাগ করতে শেখায়। অনেকে আবার তাগুতের সঙ্গে জীবতে পরিত্যাগ করতে শেখায়। এখন প্রশ্নটি হল, তাগুতই হোক আর জীবতেই হোক, এদের থাকবার স্থানটি কোথায়? তাগুত আর জীবতে থাকবার বাসাবাড়িটি কোথায়? সৃষ্টিরাজ্যের কোথাও তাগুত এবং জীবতে বাস করে না। কারণ সৃষ্টিরাজ্য তৌহিদে বাস করে। তৌহিদের রাজ্যে তাগুতও থাকতে পারে না এবং জীবতেও থাকতে পারে না। আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টিরাজ্যের মধ্যে মাত্র দুইটি স্থানে বা জায়গায় তাগুত এবং জীবতে বাস করে। একটি জ্বিনের অন্তর তথা হৃদয় এবং অপরটি মানুষের অন্তর। এই দুটো প্রাণীÑ জ্বিন এবং মানুষ ছাড়া আর কোথাও এইসব বাজে বিষয় থাকতে পারে না এবং থাকার আইনও নাই। সুতরাং শব্দ এবং অর্থ ভিন্ন, কিন্তু থাকবার স্থানটি মানুষ এবং জ্বিনের অন্তর। আবার অনেক গবেষক বলেন যে, রোজা বর্জন করতে শেখায় লোভ, মোহ, হিংসা, অহঙ্কার এবং সর্বপ্রকার অবৈধ কাজ। প্রশ্ন করতে পারেন যে, আমরা কি রোজার সাধনাটি করে এতগুলো আবর্জনা দূর করতে পেরেছি? এমন কথাটিও তো মহানবি সোজা বলে দিয়েছেন যে, যারা রোজা থেকে মিথ্যা কথা বলে এবং মিথ্যার আশ্রয় নেয় তাদের রোজাগুলো নিতান্ত উপবাস ছাড়া আর কিছুই নয় (হুবহু নয়)।
আবার যদি প্রশ্ন করা হয় যে, দুনিয়া, তাগুত, জীবতে, লোভ, মোহ, হিংসা, অহঙ্কার এবং খান্নাসরূপী শয়তানটিকে তাড়াতে পারলো না অথচ সারা জীবন প্রতি বছর ত্রিশটা রোজা রেখে গেল তাদের রোজার ফলটি কী হবে? উত্তরটি আল্লাহর হাতেই ছেড়ে দেওয়া হলো। নিরাশ শব্দটি উচ্চারণ করলাম না। তবে ফলটি যে কী হবে তা সবাই কমবেশি বুঝতে পারে। প্রতিটি বিষয়ের একটি উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু উদ্দেশ্যটিকে বাদ দিয়ে কাজ করলে কী হয় বা হবে তা সবাই বুঝতে পারে। মানুষ এত কচি খোকা নয় যে কিছুই বুঝতে পারে না। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে, মানুষ ভালো করে বোঝে যে ধূমপান শরীরের জন্য ক্ষতিকারক, কিন্তু তবু ধূমপান করছে। বিষয়টি ভালো করে বোঝে অথচ বুঝেও কচি খোকার মত না বোঝার ভান করে। এই মানুষ যে কত রকম রং তামাশা করতে জানে এবং করে চলছে তার হিসাব কে রাখে আর এর হিসাব রেখেই বা লাভ কিসের? উপদেশের ফলটি যখন শূন্য তখন উপদেশ দেবার উৎসাহটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ধর্মের বাণী প্রতিদিন রেডিও-টেলিভিশনে, মাইকে, ওয়াজ মাহফিলে, নামাজের খোৎবায়, পথে ঘাটে শোনানো হচ্ছে, কিন্তু লোভ-মোহের কালো অন্ধকারে সব বিষয়গুলো ঢেকে যায়। সূর্যগ্রহণ আর চন্দ্রগ্রহণের মত আস্তে আস্তে মহৎ বিষয়গুলো গিলে ফেলে। সাপ যেমন ইঁদুর গিলে খায়, কুমির যেমন আস্ত একটা মুরগি গিলে খায়, তেমন লোভ-মোহের সর্প আর কুমির মানুষের মহৎ গুণগুলোকে গিলে খায়। কেন গিলে খায়? কেন মহৎ উপদেশগুলো মানতে চায় না? কেন প্রয়োজনের চেয়ে অনেক অনেক বেশি পেয়েও কেবল পেতেই চায়? এই এত পাবার প্রচণ্ড নেশাটি কোথা হতে এল? উত্তর মাত্র একটি। মূল বিষয় মাত্র একটি। সেই উত্তর আর মূল বিষয়টি কী? প্রতিটি মানুষের অন্তরে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ পাক খান্নাসরূপী শয়তানটিকে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এই খান্নাসরূপী শয়তানটি কখনো ইবলিসরূপ ধারণ করে অহঙ্কার করে। এই ইবলিস রূপটি যদি ভয়ঙ্কর হয় তাহলে মানুষের রূপটিও ভয়ংকর হয়। হিটলার, মুসোলিনি, চেঙ্গিস, হালাকু, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আর জারারেসের মত মানুষরূপী দানবের চেহারাটি ইতিহাসের পাতায় কলঙ্কের কালিতে লিখা হয়ে থাকে। আবার এই খান্নাসরূপী শয়তানটি কখনো মরদুদরূপ ধারণ করে সীমাহীন লোভীতে পরিণত হয়। এমনই লোভ যে লোভের সীমা নাই, শেষ নাই। যেমন আলেকজাণ্ডার দি গ্রেট। পৃথিবীটাই খেয়ে ফেলার মহাপরিকল্পনা যার অন্তরে বাসা বেঁধেছিল। এ রকম লোভীদেরকে যদি সমগ্র পৃথিবী নামক গ্রহটা দিয়ে দেওয়া হয়, হয়তো বলবে আর একটা পৃথিবী কি আছে? সব বিষয়ের একটা না একটা তলা থাকে। কিন্তু লোভের কোনো তলা নাই। এইসব ভয়ঙ্কর লোভীদের ঠিকানা হাবিয়া নামক নরক। হাবিয়া নরকটি কী ও কেমন? হাবিয়া হলো এমন একটি গর্ত যে গর্তে কেবল পড়তে থাকবে, কিন্তু তলা পাবে না তথা তলাহীন একটি গর্ত। কী মেজাজি তথা রূপক ভাষায় হাবিয়ার বর্ণনা! এই খান্নাসরূপী শয়তানটি যখন কেবলই শয়তানরূপটি ধারণ করে তখনই পাথরের আঘাত খেতে হয়। শয়তান মানুষের অন্তরে বাস করে মানুষের দেহে কত যে প্রতিদিন প্রতিঘণ্টায় পাথরের আঘাত খেয়ে যাচ্ছে তার হিসাব নাই। অথচ মানুষটি এই পাথরের আঘাতগুলো টের পেয়েও পায় না। এ যেন ক্যানসারের উপর রেডিয়ামের থেরাপি। রোগী টের পায় না, অথচ ক্যানসার ক্ষতটিকে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। শয়তান প্রতিনিয়ত পাথরের আঘাত খেয়ে চলছে আর মানুষের চেহারায় তা আস্তে আস্তে ফুটে উঠছে, কিন্তু বুঝতে পারে না। কী বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক আঘাত খাবার ব্যবস্থাপত্রটি দিয়ে রেখেছেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ। তাই হয়তো বলা হয়, যেমন কর্ম তেমন ফল। কর্মের ফলটি যে ভোগ করতেই হবে, তা এ জন্মে হোক অথবা আর এক জনমে।

  রোজা ও ইফতার
   ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী

রোজা বিষয়ে আলোচনা পর্ব ২ 


একটি নফ্স তথা একটি মানুষ কি আল্লাহকে চায়, না চায় না―এই আল্লাহকে চাওয়া আর না-চাওয়ার নামটিই হল পরীক্ষা। এই পরীক্ষাটির জন্যই মানুষকে বানানো হয়েছে। এই পরীক্ষাটি একমাত্র মানুষ ও জ্বিন ছাড়া আর কাউকেই দিতে হয় না। ফেরেস্তা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যতই হিয়া হুয়া করতে পারুক না কেন, কিন্তু ফেরেস্তাদের পরীক্ষা দিতে হয় না। কারণ হলো, ফেরেস্তাদেরকে আল্লাহ নফ্স এবং রূহ একটিও দেন নাই। নফ্স এবং রূহ দুটো একত্রে থাকলেই পরীক্ষাটি অবধারিত। যাদের কেবলমাত্র নফ্স আছে, কিন্তু রূহ নাই, তাদেরকেও পরীক্ষা দিতে হয় না এবং পরীক্ষা দেবার বিধানটি রাখা হয় নি। কারণ যদি রূহ না থাকে এবং কেবলমাত্র নফ্সটিই থাকে তা হলে সেই জীবগুলোকে মানুষ এবং জ্বিন জাতির মধ্যে গণ্য করা যায় না এবং যাবে না। সেই জীবগুলো হয়ে যাবে তখন অনেক রকম জানোয়ার এবং অনেক রকম পাখি। মানুষ এবং জ্বিন ছাড়া কোনো পশু, কোনো পাখি, কোনো মাছ অথবা কোনো প্রাণীকেই রূহ দেওয়া হয় নি। কারণ রূহ আল্লাহর আদেশ। আল্লাহর আদেশ আল্লাহ হতে আলাদা নয়। সুতরাং ঢাকনা খুলে যদি বলতে হয় তো বলতে হয় যে, রূহ স্বয়ং আল্লাহ। মানুষের মাঝে এবং জ্বিনের মাঝে রূহ আছে বলেই সেফাতি নুরের তৈরি রোবট ফেরেস্তাদেরকে আদমকে সেজদা দেবার আদেশটি দেওয়া হল। সেফাতি নুরের তৈরি আল্লাহর রোবট নামক ফেরেস্তাগুলোর সবাইকে আদমকে সেজদা দিতে বলা হলো এবং সবাই সেজদা করলো এবং সেজদা করতে বাধ্য হলো। কারণ, ফেরেস্তাদের নফ্সও নাই এবং রূহও নাই, তথা ভালো-মন্দ বিচার করার সীমিত (মৃত্যুর আগ পর্যন্তকে সীমিত বলা হয়) স্বাধীনতাটাই দেওয়া হয় নাই। যেহেতু আজাজিল জ্বিন জাতি হতে আগত এবং আজাজিল মোটেই ফেরেস্তা নয়, যদিও আজাজিলকে ফেরেস্তাদের সরদার বানানো হয়েছিল এবং সরদার এ জন্যই আল্লাহ বানিয়েছেন যে আজাজিলের মধ্যে নফ্সও ছিল, রূহও ছিল। আজাজিল নফ্স এবং রূহের অধিকারী বলেই ফেরেস্তাদের সরদার বানিয়েছেন, নতুবা সরদার বানাবার প্রশ্নই উঠে না।
অনেক গবেষক এই অতি সূক্ষ্ম বিষয়টি ধরতে পারেন না বলেই এটা সেটা বলে একটা গোঁজামিলের খিস্তি তৈরি করেন এবং না বুঝলে খিস্তি তৈরি করতে বাধ্য। সব শিয়াল যখন একই রকম শব্দ করে তখন এত শব্দের মাঝে আসল বিষয়টা চাপা পড়ে যায়। আজাজিল যেহেতু নফ্স এবং রূহ দুটোরই অধিকারী সেই হেতু সীমিত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির অধিকারী। তাই আজাজিল আদমকে সেজদা দেয় নাই। যেহেতু ফেরেস্তাদের ওপর সেজদা দেবার হুকুমটি আজাজিলের ওপরও পড়েছিল তথা বর্তিয়েছিল সেই হেতু আজাজিলকে ইবলিসে পরিণত হতে হয়েছিল। বালাসা অর্থ অহঙ্কার। যদিও বালাসা শব্দটি আরবি নয়, বরং হিব্র“ শব্দ এবং হিব্র“ ভাষায় অহঙ্কারকে বালাসা বলা হয় এবং যে বা যিনি অহঙ্কার করে বা করেন সে বা তিনি অহঙ্কারী তথা ইবলিস। জ্বিনের মধ্যে যেমন অহঙ্কার করার অধিকারটি দেওয়া হয়েছে সে রকম মানুষের মাঝেও অহঙ্কার করার অধিকারটি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ফেরেস্তাদেরকে অহঙ্কার করার অধিকারটি দেওয়া হয় নাই। কারণ ফেরেস্তাদের মাঝে নফ্সও নাই রূহও নাই। তাই ফেরেস্তাদেরকে আল্লাহ পাকের সেফাতি নুরের তৈরি রোবটও বলা যেতে পারে। ফেরেস্তাদেরকে যেটুকু শক্তি ও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেটুকুর বাহিরে একটি পা ফেলবার প্রশ্নই উঠে না। তাই তো আমরা দেখতে পাই যে, মহানবি যখন মেরাজে যাচ্ছেন ফেরেস্তা জিবরিল তখন সেদরাতুল মুনতাহায় এসে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন যে, আর একটি পা এগিয়ে যাবার অধিকারটি তাকে দেওয়া হয় নাই। মহানবি লা মোকামে চলে গেলেন আর ফেরেস্তা জিবরিল সিদরাতুল মুনতাহায় দাঁড়িয়ে রইলেন। এত বড় জলজ্যান্ত বিষয়টি জানবার পরও কী করে মহানবিকে মাটির তৈরি বলে ওহাবিরা প্রচার করে! এরা গাছের শিকড় কেটে মাথায় পানি ঢালে। ফেরেস্তারা আল্লাহর সেফাতি নুরের তৈরি হয়েও আদমকে সেজদা করতে হয়েছে। কারণ আদমের ভেতর জাত নুরটি মওজুদ। তাই আল্লাহ বলছেন যে, ‘আমরা তোমার শাহারগের নিকটেই আছি।’ কিন্তু আল্লাহ কখনোই একথাটি বলেন নি যে, ফেরেস্তাদের শাহারগের নিকটে আছেন, অথবা জীব-জন্তুদের শাহারগের নিকটে আছেন, অথবা নদী-নালা, সাগর-মহাসাগর, পাহাড়-পর্বতের নিকটেই আছেন। আল্লাহর এই অবস্থানটি জাত-রূপে অবস্থান। তাই তিনি কেবলমাত্র মানুষ এবং জ্বিনের সঙ্গেই জাত-রূপে অবস্থান করতে পারেন। আর তাঁর সৃষ্ট বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব কিছু সেফাতি নুর এবং নুরের অনেক রকম বিবর্তনের ধারা বজায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। তাই আল্লাহ বলছেন যে, ‘তুমি যেদিকেই তাকাও না কেন, আমি ছাড়া আর কিছুই নাই।’ আল্লাহ ছাড়া কিছুই নাই যেখানে বলা হলো সেখানে নাস্তিক্যবাদ আসে কেমন করে? কারণ নাস্তিক্যবাদ বিষয়টিই তো একটা বিরাট আত্মার রোগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আসলে নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী নাস্তিকেরা আল্লাহর এই বিষয়টি অবগত নয়। যদি বিষয়টি ভাল করে বুঝতো তো তওবা করে নাস্তিক্যবাদটি পরিত্যাগ করতো। আসলে মূল বিষয়টি বুঝতে না পেরেই নাস্তিক্যবাদের প্রচার করে।

   রোজা ও ইফতার
   ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী                (চলবে)

মঙ্গলবার, ৬ জুন, ২০১৭

বিধান না দর্শন?


যারা মোটরগাড়িটাকে বিশ্রাম দেবার জন্য,রোদ-বৃষ্টি হতে বাঁচাবার জন্য তৈরি করে ইটের তৈরি ঘর,তাদের কাছে শোষিত বেকার যুবক,ঘর নেই মানুষের রাস্তার ধারে ঝুপড়ি বানিয়ে শিশু সন্তানদের নিয়ে কী মন কাঁদানো অবস্থায় জীবনটাকে খড়-কুটা ধরে বাঁচার মত বেঁচে আছে -এদের কতটুকু দাম থাকতে পারে?কতটুকু নিম্নমানের পশুর চেয়েও নিম্নমানের হলে পৃথিবীর কোনো জীব-জন্তুদের সঙ্গেও তুলনা দেবার নিদর্শন নেই বলেই এরা "আসফালুস সাফেলিন" অর্থাৎ উদাহরণ দেবার মতো বিশেষণ ছাড়া একদম নিউ মডেলের পশু।এই সম্পদ জমাকারীরা ধনের নেশায় ভয়ঙ্করভাবে নেশাগ্রস্ত।এই নেশার তুলনা নেই,এ নেশা হেরোইন আর পেথিডিনের মতো মৃত্যুর নেশাকেও হার মানায়।হেরোইন আর পেথিডিন তো একটা যুবশক্তির মূলে আঘাত হানে।কিন্তু সম্পদ জমাকারীদের নেশা একটি দেশের অধিকাংশ মানুষের নিম্নতম মানবিক শক্তির উপরই প্রচন্ড আঘাত হানে না,বরং সামান্যতম বিবেকের বিন্দুটিকে পায়ের তলায় পিষিয়ে মারছে--যখন দেখতে পাই প্রাণহীন লৌহের তৈরি  মোটরগাড়িটা থাকে ইটের তৈরি দালানে, আর আল্লাহপাকের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষগুলো থাকে ফুটপাতের পাশে ঝুপড়িতে।হজরত ইমাম শাফি একবার দুঃখ করে বলেছিলেন যে,"পাক পাঞ্জাতন(মহানবি,আলি,ফাতেমা,হাসান,হুসাইন)
-কে ভালোবাসতে গিয়ে যদি "শিয়া" অপবাদ মাথায় তুলে নিতে হয়, তবে খোদার কসম!আমার চেয়ে বড় শিয়া আর কেউ নেই।"অধম লেখকও হজরত ইমাম শাফির মত চিৎকার দিয়ে বলতে চায় যে,এই নিঃস্ব,এই রিক্ত,এই এতিম, মিসকিনদের অধিকারের কথা বললে যদি "কমিউনিস্ট" অপবাদ মাথায় তুলে নিতে হয়,তা হলে খোদার কসম!অধম লিখককে "কমিউনিস্ট" বলে গাল দিতে পারেন।এবং সেই সঙ্গে এ কথাটি বলে দিতে চাই যে,অনাগত যুগই এর সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়ে যাবে।আমরা বালির বাঁধের মতো অনেক বই পুস্তকের বস্তা দিয়ে বাঁধ দিতে চেষ্টা করছি মাত্র।এই সব বই পুস্তকে আমাদের পরের প্রজন্ম 'খাক-থু করে একগাদা থুথু নিক্ষেপ করে ঘৃণিত বেইমান জানবে।হেরোইন জমাকারীর যদি মৃত্যুদন্ড নামক শাস্তিই যোগ্য বলে বিবেচিত হয়,তা হলে যারা সম্পদ জমা করে এহেন অবস্থা তৈরি করে তাদের জন্য কী শাস্তি?

খলিফা ওমর ফারুক জেরুজালেম যাচ্ছেন উটের পিঠে চাকরকে বসিয়ে।তারপর?মার্কস,লনিন আর মাও সে তুং-এর বিবেকের চোখে বোবা বিস্ময়!সেই উটের রশি ধরে টেনে চলেছেন একশত বাংলাদেশের চাইতেও বড় দেশের প্রধান।দুটি মিনিট নেগেটিভ চিন্তার দর্শন মন হতে সরিয়ে চিন্তা করুন তো!চিন্তা করুন বাংলাদেশের উঁচু (?) পদের একজন সরকারী কর্মচারীর পক্ষেও কি এই আচরণ প্রদর্শন করা সম্ভব?ভাতের হাড়ির সাম্যের সামনে পদমর্যাদার সাম্য নির্ঘাত আত্মহত্যা,নয়তো পদত্যাগ পত্রের প্রশ্নটি কি অবধারিত?মাওলানা ভাসানী যখন ওমর ফারুকের এই ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন মাও সে তুংকে,তখন মাও সে তুং কেবল একটি কথাই বলেছিলেন:বিবেকের সাম্যবাদকে গ্রহন করা আরো জটিল।হ্যাঁ তাই।মানুষের রক্ত শোষণ করে যারা সম্পদের পাহাড় তৈরি করে উপাসনালয়ে বাঁচার আশ্রয় গ্রহণ করে তারা তখন?তখন ঐ জনতার একটি কণ্ঠস্বর শ্লোগানের ভয়ঙ্কর ঢেউ তোলে:"যে ঘরে তোদের মত শোষক,জালেম আর সম্পদ জমাকারীরা আশ্রয় গ্রহণ করে সে ঘর আর যাই হোক না কেন,ওটা কখনোই আল্লাহর ঘর হতে পারে না।" এক সের হেরোইনসহ ধরা পড়া আসামীর দিকে যে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকায়,সে তাকানোর ভাষা হলো মৃত্যুদণ্ড।আর যারা দশের আমানত বেমালুম হজম করে বসে আছে তাদের দিকে তাকাবো কীভাবে?বলবেন কি?বুকে হাত রেখে বলুন,কী ধরনের উপহার পাবার যোগ্য তারা? এই বিবেকের দাঁড়িপাল্লায় উঁচু-নিচু হবার ঝড় বইতে চায়।আল্লাহপাক আমাদের শাহারগের চেয়েও নিকটে আছেন,আছেন রবরূপে,আছেন আদিল তথা সূক্ষ বিচারকরূপে আমাদেরই একান্ত কাছে কাছপ।আছেন আমাদেরই অস্তিত্বের প্রতিটি সূক্ষতম কোষে-কোষে।কী অপূর্ব কোরানের আটষট্টি নম্বর সূরা কালাম।কী বিজ্ঞানময় সূক্ষ ভাষার গাঁথুনি সূরা কালামে।পৃথিবীতে এই বিজ্ঞানময় কোরআনের তুলনা করা হাস্যকর।কারণ,কোরানই হলো একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবন দর্শন।

মার্কসবাদ হাঁড়ির ইতিহাস তৈরি করতে গিয়ে নাস্তিকতাকে কোলে তুলে নিয়েছে।হাঁড়ির ইতিহাস আত্মার গবেষণাকে ফেলে দিয়ে মুক্তির বাণী শোনায়।কিন্তু অসম্ভব।আপেক্ষিক (কিছু দিনের জন্য) সত্যরূপে প্রতিভাত হলেও সার্বিক(সব সময়ের জন্য) সত্যের সামনে মার্কসবাদ মাথা নিচু করে কাঁদে।কাঁদতে হবেই,এটা অমোঘ সত্য।তাই তো মার্কসের 'হাড়িইজম' বার বার রোগা হচ্ছে আর পরিবর্তনের ইংজেকশন দিয়ে তাকে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।কিন্তু যেদিন বিশ্বনবির কণ্ঠ হতে নির্গত আল্লাহর মহাবাণী কোরান- এর মর্মবাণী উদ্ধার করা হবে, উদ্ধার করা হবে সর্বযুগের জীবনব্যবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন, সেদিন মার্কসবাদ এইডস রোগে আক্রান্ত হতে বাধ্য।যেদিন হজরত বাবা শাহ সুফি লালান ফকিরের অতি সহজ শব্দের গাঁথুনিতে রচিত পদ্যে কোরান-এর ব্যাখ্যা বাহির করতে পারবে -কারণ অধ্যাত্মবাদের মধ্যেও যে একটি অধ্যাত্মসাম্য থাকতে পারে তারই সম্রাট হলেন লালন ফকির-যেদিন ইমাম হোসায়েনের ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে,যেদিন এজিদের রঙ-চড়া, চোখ ধাঁধানো মরীচিকার ইমিটেশন মার্কা এজিদি ইসলামকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করতে পারবে,সেইদিন কি হোসায়েনি ইসলামের হাঁটি হাঁটি পায়ে চলার বাস্তব রূপটি কোথাও প্রতিফলিত হবে?

দৈহিক মৃত্যুই যেখানে সবকিছুর শেষ সিদ্ধান্ত বলে ধরে নেওয়া হয় এই পৃথিবীর জীবনটাই একমাত্র সত্য,সেখানে কেবল মার্কসবাদই নয়,বরং যে কোনো নব্য আর পুরাতন মতবাদে (ইজম) রূপ আর যুক্তির নাচানাচির ঢং যতই আপাতত নিখুঁত বলে মনে হোক না কেন, কিন্তু খুব ধীরে ধীরে যখন গর্তে পড়ে হাত-পা ভাঙার অনেক দৃশ্য দেখতে পাবে, তখনই চালানো হয় ঔষধ আর ব্যান্ডেজ লাগাবার নতুন নতুন প্রয়োগ ব্যবস্থা।কারণ,আপেক্ষিক সত্ঢ়ের প্রশ্নে এরা দৈহিক মৃত্যুটাই সব কিছুর শেষ বলে সিদ্ধান্ত নেবার ঘোষণা করে নি,বরং সার্বিক সত্যরূপে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার ঘোষণা করা হয়েছে।যার দরুণ প্রয়োগপদ্ধতিটাই মুখ্য এবং এই প্রয়োগপদ্ধতিটার যতই নতুন নতুন ধরণ ধারণ বাহির করা হোক না কেন,উহা হয়ে পড়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শনের পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। "একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান"- বার বার এই ভুলটি এত বেশি প্রচার করা হয়েছে, যার দরুণ মগজ ধোলাই করার মতো "পূর্ণাঙ্গ দর্শন"-এর চেহারার ভুল নাম "পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান" বলা হয়।এ জন্যই এর ফলটির অনেক রকম নাম হতে পারে -যেমন:বস্তুসর্বস্ববাদ,যান্ত্রিক জীবন,আইন সর্বস্ব ধমক দেবার বাহার,আত্মকেন্দ্রিকতাবাদ।এ রকমভাবে অনেক নাম দেওয়া যায় এবং যার ফলে অধ্যাত্মবাদ,মরমিবাদ,সুফিবাদ,ফকিরি ইত্যাদি নামের পরকালভিত্তিক দর্শনগুলোকে কেমন করে গ্রহণ করা যায় এ চিন্তা না করে বরং ছুঁড়ে মারে যতসব জঘন্য গালাগালির বিশ্লেষণ-যেমন অজ্ঞেয়বাদ,গাঁজাখুরি,ভণ্ডামি,ফুল বাবুর চিন্তাধারা,অলস মাথার বিকৃত ফসল ইত্যাদি।

মৃত্যুর পরও জীবন আছে, পরস্কার আর শাস্তি আছে।যদিও এগুলো সাদা চোখে ধরার মোটেও উপায় নেই।তবুও এই অধ্যাত্মবাদকে কেউ মারতে পারবে না-এটা সারাজীবন নাস্তিক্যবাদের পূজারি ও প্রচারক হবার পর দৈহিক মৃত্যুর সামনে এসে অকারণেই অধ্যাত্মবাদের কুয়াশা কাঁদায়।এটা যেন আগাছা মনে হলেও আপনিই গজায়।জীবনে কোনোদিন চাষ করা তো দূরে থাক,মনেও করতে চায় নি।সেই অধ্যাত্মবাদ মৃত্যুর সামনে এসে আগাছার মতো আপনিই গজিয়ে উঠবে।হ্যাঁ,গজাবেই।কারণ,এটাই যে জীবনের পূর্ণাঙ্গ দর্শন,যা সে নিজের ইচ্ছায় নয় বরং সামাজিক জীবন ব্যবস্থায় আত্মবিরোধ দেখে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে।কিন্গু মানুষের দৈহিক মৃত্যু যতদিন থাকবে ততদিন অধ্যাত্মবাদকে কেউ মেরে ফেলতে পারবে না।কারণ,এটা এমনই এক জিনিস যা কেউ ঝেঁটিয়ে চিরবিদায় করে দিতে চাইলেও আবার আপন ঘরেই বুমেরাং-এর মতো ফিরে আসে।লৌকিকতার অবগুণ্ঠনে অস্বীকার করছে,কিন্তু মৌনতার অবগুণ্ঠনে অধ্যাত্মবাদের দরজার সামনে মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।সত্যিই আল্লাহ পাক,তুমি মহান না নিষ্ঠুর জানি না,জানার জন্য চেষ্টাও করিনি কোনোদিন।কিন্তু আজ বিদায় বেলায় কেন মনের একান্ত গর্ভে তোমার কথা মনে হয়?যিশুর মহাক্ষমার দর্শন:"এক গালে চড় মারলে আর এক গাল পেতে দাও।" "আল্লাহ তুমি ওদের ক্ষমা করে দাও,ওরা যা করছে তা ওরা নিজেরাই জানেনা।"-এ রকম কত উপদেশকে কত রকম কুৎসিত আর জঘন্য বিশ্লেষণের কাপড় পরিয়েছি,কিন্তু মৃত্যুর শেষ প্রান্তে এসে অকারণেই বুকে জড়িয়ে ধরে সবার অলক্ষে মাথা নিচু হয়ে যাচ্ছে।তবে কি ঐ ক্ষমার বাণীই সার্বিক সত্য?যদিও আপেক্ষিক অর্থে এতকাল জেনেছি অন্যরকম। 

          মারেফতের গোপন কথা        ডা: বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল  সুরেশ্বরী