শনিবার, ৮ জুলাই, ২০১৭

নফ্স ও রূহের পার্থক্য- ৪

সারাটি  জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই।  এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।

               ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

নকশেবন্দি- মুজাদ্দেদি তরিকা, চিশতিয়া-কাদেরিয়া তরিকা, আবু - উলাই তরিকা, কালান্দারিয়া তরিকার শান গেয়েই গেলেন , শান না গাইলেও কিছু আসে যায় না। প্রশ্ন হলো? আপনি তো তিন নম্বর ছাগলের বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে শুধু লাফালাফিই করেই গেলেন।
                ------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।

 আমার পীর বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীরের সঙ্গে অন্য পীরের তুলনা করাই যায় না। কারণ, কোরানে ২১ বার রুহ বিষয়ে বলা হয়েছে, এবং এই ২১ বারই একবচনে বলা হয়েছে রুহের বহুবচন নাই । রুহ ফুৎকার করা হয়– নফস নয় । এই বিষয়ে অবাক করা ব্যাখ্যাটি সমগ্র পৃথিবীতে আমার বাবাই দিয়ে গেছেন। কথাটি শুনতে ভাল লাগবে না, কিন্তু আসলে ইহা একটি তিক্ত সত্য কথা।  আমার পীর বাবার পঁচিশটি বই কোরানের পনের পারার অনুবাদ কিছুটা ব্যাখ্যা এবং আট জি.বি তেষট্টি ঘন্টার মেমোরিকার্ডটি শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন আমার কথার সত্যতাটি।
                -------শাহ সূফি ময়েজউদ্দিন আল সুরেশ্বরী।

যারা অজানা কিছু জানতে আগ্রহী
তাদেরকে বলছি, সবাইকে নয়।

তোমার পীর যত বড় পীরই হোক না কেন
যদি তুমি তার থেকে সত্য না পাও তবে
ফেলে দাও তাকে। কারণ পীর এখানে মুখ্য
বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হলো সত্য পাওয়া।
সত্য হলো আল্লাহর রহস্য লোকের কিছু জানা।
সুরেশ্বরীর শান কত বড় রে, ভান্ডারীর শান
কত বড় রে, খাজা বাবার শান কত বড় রে,
শান বললেও আছে, না বললেও আছে, তুমি
কি ঘোড়ার ডিমটা পাইলা। তুমিতো বকরির
তিন নম্বর বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে পীরের
বাড়িতে গিয়ে শুধু লাফালাফিই করে গেলা।

আসো বসো মুরিদ হও, ধ্যান-সাধনা কর, যদি
আল্লাহর রহস্যলোকের কিছুই না পাও
আমাকে ফেলে চলে যাও। এখানে পীর বড়
নয় এখানে সত্য বড়। সারা জীবন বাবা
বাবা ডাকবা পাইবা না ঘোড়ার ডিমও
সেই বাবা ডাইকা কোন লাভ নাই।
              --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

আমার চাওয়া-পাওয়াটি কী ছিল? আমি তা নিজেই জানতে পারলাম না। এমনকি মরনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত।
~হযরত সাকীব

যে পীর মুরিদের ধন-সম্পদের দিকে তাকায় বলে দাও সে দুনিয়াদার মরদুদ (মরদুদ শয়তান)
    --------কালান্দার ডাঃ বাবা  জাহাঙ্গীর ইকবাল

যেহেতু রবের আদেশটি হলো রুহ এবং এই রুহ নামক আদেশটি আল্লাহর সমগ্র সৃষ্টিরাজ্যের মধ্যে (অবশ্য আমাদের জানা মতে ,কারণ অন্য গ্রহে যদি এই জাতীয় কেনো জীব থেকে থাকে!) কেবলমাত্র দুটি জীবের সঙ্গে তথা দুইটি ‍নফ্সের কাছাকাছি অতীব সূক্ষ্মরূপে অবস্থান করে। সেই দুইটি জীবের নাম হলো: একটি জিন এবং অপরটি মানুষ। যেহেতু আমাদের কাজ-কারবার মানুষদের নিয়েই সেই হেতু ইচ্ছা করেই জিন জাতিকে এড়িয়ে যাই। তাছাড়া কোরান এই মানুষকেই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব (ক্রাউন অব দ্য ক্রিয়েশন) বলে ঘোষণা করেছেন । এর পরেও আরও কিছু কথা থাকে আর সেই কথাটি হলো , শয়তানকে আল্লাহর সমগ্র সৃষ্টিরাজ্যের মধ্যে জিন এবং মানুষের অন্তরে অবস্থান করার আদেশটি আল্লাহ কর্তৃক দেওয়া হয়েছে। আমাদেরকে ভালো করে মনে রাখতে হবে যে জিন এবং মানুষের অন্তর বিহনে আর কোথাও শয়তানকে অবস্থান করার অনুমতিটি দেওয়া হয় নাই। সুতরাং , শয়তানের যত বাহাদুরি , যত নর্তন-কুর্দন সবকিছু এই জিন এবং মানুষের অন্তরের মধ্যেই অবস্থান করে। জাগতিক সভ্যতার বিকাশ ঘটানোর পেছনে এবং ধ্বংসের বিভীষিকা ছড়ানোর পেছনে শয়তানের অবদান কতটুকু তা আমাদের জানা নাই। এই শয়তান আবার চারটি রূপ ধারণ করতে পারে এবং এই চার রূপের যে কোনো রূপ ধারণ করে মানুষকে সঠিক পথ হতে সরিয়ে দিয়ে ভ্রান্ত পথে ঠেলে দেয়। সেই চারটি রূপ হলো: এক. শয়তান , দুই. ইবলিস, তিন. মরদুদ এবং চার. খান্নাস । যেহেতু “মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস" তথা খান্নাসের অপকারিতা হতে আশ্রয় চাওয়ার কথাটি কোরান- এ বলা হয়েছে তাই পবিত্র নফস তথা প্রাণ তথা জীবনের সংঙ্গে একত্রে বাস করে নফসটিকে খান্নাস-রূপী শয়তান মোহ-মায়ার জালে আটকিয়ে রাখে । এই মোহমায়ার জালটিকে ছিন্ন করতে পারলেই নফসের নিকট যে-রুহ অতীব সূক্ষ্ম রূপে অবস্থান করছে উহা তখন পরিপূর্ণ রূপ ধারণ করতে থাকে। সাধকেরা একটানা ধ্যানসাধনা করার পর আল্লাহর বিশেষ রহমতপ্রাপ্ত হলেই রুহের অতীব সূক্ষ্ম রূপটিকে পরিপূর্ণরূপে দেখতে পেয়ে অবাক বিস্ময়ে হতভম্ব খেয়ে যায়। এই পরিপূর্ণতার প্রশ্নে সাধকদের নিকট রুহের দর্শনে ফানা-বাকার এমন রহস্যময় লীলাখেলা চলে যে সাধারন মানুষ তো দূরে থাক, বরং বড়-বড় বিদ্বান পণ্ডিতেরাও এদের বিষয়ে খেই হারিয়ে ফেলে। রুহের পরিপূৃর্ণ জাগ্রত অবস্থানটি যে- সাধকের মধ্যে অবস্থান করে তিনিই বান্দানেওয়াজ তথা আল্লাহর বিশেষ রহমতপ্রাপ্ত বান্দা । তিনিই রুহুল্লাহ তথা পরিপূর্ণ রুহের অধিকারী। তিনিই ওয়াজহুল্লাহ তথা তিনিই আল্লাহর চেহারা। তিনিই নরের রূপে নারায়ণ তথা নরনারায়ণ। আল্লাহর এই দানটি একমাত্র শক্তিশালী রাত্রিতে দান করা করা হয়। ইহা কোন নৈসর্গিক রাত্রি নহে বরং আধ্যাত্মিক  রাত্রি। নফস এবং খান্নাস জোড়া হলে এই শক্তিশালী রাত্রির সন্ধান পাওয়া যায় না। তাই খান্নাসকে তাড়িয়ে দিয়ে সাধক যখন বেজোড় রাত্রিতে অবস্থান করে তখনই সেই রাত্রিটি হয় শক্তিশালী রাত্রি এবং এই শক্তিশালী রাত্রেই আল্লাহ 'রহিম'- রূপটি ধারণ করে(রহমান- রূপে নয় কারণ রহমান- রূপে সাধারণ দান) দান করেন। তাই আল্লাহ এখানে গফুরুর রহিম, কিন্তু গফুরুর রহমান নন, কারণ কোরানের একটি স্থানেও গফুরুর রহমান ব্যবহৃত  হয়নি।
কোরান-এর  সাতানব্বই নম্বর সুরা কদর-এর চার নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে : 'তানাজজালুল্ মালাইকাতু ওয়ার্ রুহু ফিহা বিইজনি রাববিহিম মিন কুললি আমরিন।'  তাহার মধ্যে (সেই রাত্রিতে) অবতরণ করিয়াছে ফেরেশতাগণ এবং রুহ উহার মধ্যে তাহাদের রবের অনুমতিতে প্রত্যেক আদেশ হইতে।

সাধকেরা যখন বিরাট ধৈর্যধারণ করে একটানা নির্জনে ধ্যানসাধনা করতে থাকেন (মহানবির হেরা গুহায় পনের বছর ধ্যানসাধনাটি মনে রেখে ) তখন সাধকদের মধ্যে অবস্থান করা রব তথা প্রতিপালকের প্রত্যেক আদেশ হতে ফেরেশতাগণ এবং রুহ অবতরণ করে। এই ফেরেশতাগণ এবং রুহ শক্তিশালী বেজোড় রাত্রিতে অবতরণ করে, কারণ জোড় রাত্রিতে সাধকের সঙ্গে তখনও খান্নাসরূপী শয়তানটির সামান্য অবস্থানেও দুইজন হয়ে যায় এবং এই দুইজন হওয়াকেই জোড় বলা হয়। এবং দিনে না বলে রাত্রিতে কেন বলা হলো? দিনের আলোতে সব কিছু যেমন পরিষ্কার দেখা যায় তেমনি রাত্রির অন্ধকার সব কিছু ঢেকে দেয় । এই রাত্রির অন্ধকারের সব কিছু ঢেকে দেবার কথাটি দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে , দর্শনীয় সব রকম মোহমায়াগুলো আল্লাহর অনুমতিতে ঢেকে দেওয়া হয়। রাতের আঁধার যে-রকম   সব কিছু ঢেকে দেয় তেমনি সাধকের ভিতরে অবস্থান করা লোভ- মোহ- মায়াগুলো আল্লাহর অনুমতিতে ঢেকে দেওয়া হয় এবং ‍যখনই ঢেকে দেওয়া হয় তখনই ফেরেশতাগণ এবং রুহ অবতরণ করে।

সগীরে  আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী  আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।

পাগল হয়ে যাব, এত উচ্চমানের লিখা মাথায় আঁটে না। নফস ও রূহের পার্থক্য বিষয়ের উপর লিখতে গিয়ে বাবা জাহাঙ্গীর তাঁর কোরানুল মাজিদের ৬৩ নং পৃষ্ঠায় নিম্নোক্ত লিখাটির অবতারণা করেছেন। "Religious view of World Theology" ক্লাসে আমার ম্যাডামকে ( কোন এক কারণে তাঁর নামটি উল্লেখ করা হল না) এ লেখাটা দেখিয়েছিলাম আর বলেছিলাম আমাকে বুঝিয়ে দিন, প্রত্যুত্তরে কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে বললেন, "সারাজীবন ভাত খাওয়ার জন্য বিদ্যার্জন করে গেছি, কিন্তু, এ লেখাটা সক্রেটিস শ্রেণির লোকের লেখা যিনি নিজেকে চিনেছেন, এটা রেনে দেকার্তের মতো দার্শনিকদের দর্শন থেকে আরো উচ্চতম দর্শনের লেখা, এটা ডেভিড হিউম আর কান্টদের থেকে অারো অনেক উপরের লেখা, এখানে সমস্ত সন্দেহের অবসান ঘটেছে, এখানে মিলনের প্রশ্নে পুরোটাই Eternal Entity, এখানে দেহধারী মানুষটা নি:সন্দেহে পরমসত্ত্বার প্রতিমূর্তি, যদি তোমার সাথে তাঁর সাক্ষাত হয় তো আমার সালাম পৌঁছে দিও।
আসলে উলঙ্গ সত্য কথাটি বলতে গেলে বলতে হয় যে, রুহুল অামিন হলেন মহানবির অাপন অাধ্যাত্মিক প্রতিচ্ছবি। ইহা জগৎময় ব্যক্তও হতে পারে, আবার যেকোন মূর্তি ধারণও করতে পারে। ইহা স্থান-কালের (টাইম এন্ড স্পেস) সব রকম মানুষের আদি ও আসল রূপ। এইরূপের মাঝে প্রত্যাবর্তন করাই মানবজীবনের পরম এবং চরম স্বার্থকতা। অাল্লাহর নিকট মানুষের প্রত্যাবর্তন করার তথা ফিরে আসার অর্থটিও ইহাই।

ভক্ত Aaga Bagalane (আগা বাগালেন)  র কমেন্টটি তুলে ধরলাম.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন