নফ্স ও রুহের পার্থক্য- ৭
পৃথিবীতে এই প্রথম নফস ও রূহের বিস্ময়কর ব্যাখ্যা
সারাটি জীবন আপন পীরকে বাবা বাবা বলে ডাকলেন অথচ পেলেন না কিছুই। এই বাবা বলে ডেকে কোনো লাভ নেই। এখানে পীর বড় নয়, সত্য পাওয়াটাই বড়। তাই একটি পর একটি পীর বদলিয়ে ফেলুন।
------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।
নকশেবন্দি- মুজাদ্দেদি তরিকা, চিশতিয়া-কাদেরিয়া তরিকা, আবু - উলাই তরিকা, কালান্দারিয়া তরিকার শান গেয়েই গেলেন , শান না গাইলেও কিছু আসে যায় না। প্রশ্ন হলো? আপনি তো তিন নম্বর ছাগলের বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে শুধু লাফালাফিই করেই গেলেন।
------কালান্দার ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল।
আমার পীর বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীরের সঙ্গে অন্য পীরের তুলনা করাই যায় না। কারণ, কোরানে ২১ বার রুহ বিষয়ে বলা হয়েছে, এবং এই ২১ বারই একবচনে বলা হয়েছে রুহের বহুবচন নাই । রুহ ফুৎকার করা হয়– নফস নয় । এই বিষয়ে অবাক করা ব্যাখ্যাটি সমগ্র পৃথিবীতে আমার বাবাই দিয়ে গেছেন। কথাটি শুনতে ভাল লাগবে না, কিন্তু আসলে ইহা একটি তিক্ত সত্য কথা। আমার পীর বাবার পঁচিশটি বই কোরানের পনের পারার অনুবাদ কিছুটা ব্যাখ্যা এবং আট জি.বি তেষট্টি ঘন্টার মেমোরিকার্ডটি শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন আমার কথার সত্যতাটি।
-------শাহ সূফি ময়েজউদ্দিন আল সুরেশ্বরী।
যারা অজানা কিছু জানতে আগ্রহী
তাদেরকে বলছি, সবাইকে নয়।
তোমার পীর যত বড় পীরই হোক না কেন
যদি তুমি তার থেকে সত্য না পাও তবে
ফেলে দাও তাকে। কারণ পীর এখানে মুখ্য
বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হলো সত্য পাওয়া।
সত্য হলো আল্লাহর রহস্য লোকের কিছু জানা।
সুরেশ্বরীর শান কত বড় রে, ভান্ডারীর শান
কত বড় রে, খাজা বাবার শান কত বড় রে,
শান বললেও আছে, না বললেও আছে, তুমি
কি ঘোড়ার ডিমটা পাইলা। তুমিতো বকরির
তিন নম্বর বাচ্চার মতো দুধ না পেয়ে পীরের
বাড়িতে গিয়ে শুধু লাফালাফিই করে গেলা।
আসো বসো মুরিদ হও, ধ্যান-সাধনা কর, যদি
আল্লাহর রহস্যলোকের কিছুই না পাও
আমাকে ফেলে চলে যাও। এখানে পীর বড়
নয় এখানে সত্য বড়। সারা জীবন বাবা
বাবা ডাকবা পাইবা না ঘোড়ার ডিমও
সেই বাবা ডাইকা কোন লাভ নাই।
--------কালান্দার ডাঃ বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল
যে পীর মুরিদের ধন-সম্পদের দিকে তাকায় বলে দাও সে দুনিয়াদার মরদুদ (মরদুদ শয়তান)
--------কালান্দার ডাঃ বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল
যিশু খ্রিস্ট বলেছেন যে ব্যক্তি বলে আমি আল্লাহকে মানি কিন্তু যিশু কে মানি না সে একজন মিথ্যুক । তাকে তুমি ভুলেও অনুসরণ করতে যেও না।
---------বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর ।
নফস মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে তথা মৃত্যু-ঘটনাটির মুখোমুখি নফসটিকেই হতে হয়- যাকে আমরা বাংলায় জীবাত্মা বলে থাকে। প্রত্যেক নফ্স মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে- বলা হয়েছে কোরান-এ, কিন্তু কোরান মৃত্যুতে নফসটি ধ্বংস হয়ে যাবে এই কথাটি বলে নি। ‘জায়েক’ অর্থ স্বাদ গ্রহণ করা, চেখে দেখা । মা-বোনেরা তরকারিতে লবণ হয়েছে কি না তরকারির শুরুয়া চেখে দেখলে বুঝতে পারেন । সেই রকম প্রতিটি নফ্স মৃত্যু-ঘটনাটি কেমন উহা চেখে দেখতে হবে। যেহেতু রুহ সৃষ্টির অন্তর্গত নয়, রুহ সৃষ্টির মধ্যে পড়ে না, সেই হেতু রুহের মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করার কথাটি কোরান-এ একবারও বলা হয়নি । যেমন ‘কুললু রুহিন জায়েকাতুল মউত ‘- অর্থাৎ, প্রত্যেক রুহ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে, এই কথাটি কোরান-এ একবার ও বলা হয়নি। গায়ের জোরে গুণ্ডা হওয়া যায়, কিন্তু গুরু হওয়া যায় না। । যারা রুহকেও সৃষ্টির আওতায় এনে 'নুরানি মাখলুক' তথা নুরের সৃষ্টি বলতে চায় এবং ব্যাখ্যা করতে চায় , তাদেরকেও বলার কিছু থাকে না। কারণ, তকদির তাকে অথবা তাদেরকে এই বিষয়টি বুঝতে দেয় না। আরও লক্ষ্য করুন যে, আল্লাহ এক হয়েও 'আমরা' শব্দটি ব্যবহার করছেন, কিন্তু রুহ শব্দটি কোরান-এ কোথাও বহুবচনে ব্যবহার করা হয় নি। আলাহর রুহ কেবলমাত্র ইসা (আ.)–এর মাকেই ফুৎকার করেন নি। , বরং তাহার পুত্র ইসা (আ,) কেও (অনেকে যিশুখ্রিষ্টও বলে থাকেন) রুহ ফুৎকার করে দিয়েছেন। কোরান –এ ‘ওয়া আবনাহা’ –'এবং তাহার পুত্রকেও' রুহ ফুৎকার করেছেন বলা হয়েছে । তাই আমরা দেখতে পাই, কোরান , মারিয়ম –এর পুত্রকেও সমস্ত আলমের জন্য একটি আয়াত করে রেখেছেন তথা ‘আইয়াতাললিল আলামিন”। আল্লাহর প্রতিটি আয়াতই এক একেকটি বিস্ময় , কিন্তু ইসা (আ, ) হলেন আল্লাহর একটি বিস্ময়ের বিস্ময় নামক আয়াত। কারণ, ইসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেই কথা বলেছিলেন এবং দোলনায় শুয়ে-শুয়ে অনেক কথা বলেছেন-এরও নিদর্শন আমরা দেখতে পাই এবং আরও অনেক বিস্ময়কর নিদর্শন দেখতে পাই- যেমন হজরত ইসা(আ.) জন্মান্ধকে চক্ষু দান করেছেন, কুষ্ঠ রোগীকে নিরাময় করেছেন এবং যে–বিষয়টি সবচেয়ে বিস্ময়কর: মৃত মানুষকে জীবন দান করেছেন এবং মাটির তৈরি একটি পাখি, যার মধ্যে নফ্স নাই তথা জীবনই নাই, সেই পাখিটিকে ফুৎকার দেওয়ার সঙ্গে–সঙ্গে জীবন্ত পাখি হয়ে উড়ে গেল এবং ইসা (আ.) এর সাহাবারা কে কী দিয়ে খাদ্য খেয়েছেন সেটাও বলে দিতে পারতেন এবং সাহাবাদের ঘরের ভিতর কী কী আছে তাও পারিষ্কার বলে দিতে পারতেন। এখন প্রশ্ন হলো যেখানে হজরত ইসা (আ.) এর এলমে গায়েব জানবার পরিষ্কার দলিলটি পেলাম , সেখানে মহানবি এলেমে গায়েব জানতেন না বলাটা যে একটি কুফরি আকিদা, এটা অনেকেই বুঝেও বোঝেন না। যারা বুঝেও বোঝেন না তাদেরকেই বা কী করে দোষারোপ করব ? কারণ, ইহা তাদের তকদির । মহানবি অাবু জাহেলের হাতের মুঠোর পাথর-কণাগুলোকে কলেমা পাঠ করালেন, যে পাথর-কণাগুলোর নফস থাকার প্রশ্নই ওঠে না, সেখান কোরানের কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মূল বিষয় হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহানবি সম্পর্কে যা-তা বলাটাকে সমীচীন মনে করি না। কোরান-এর চার নম্ব সুরা আন নিসার-র একশত একাত্তর নম্বার আয়াতে বলা হয়েছে: ইননামাল (নিশ্চয়ই) মাসিহু(মসিহ) ইসাবনু (ইসা [যিনি] পুত্র) মারিয়ামা (মরিয়মের) রাসুলুলাহি (আল্লাহর রসুল) ওয়া (এবং)কালিমাতুহু (তাঁহারকালাম) আলকাহা (তিনি [আল্লাহ] যাহানিক্ষেপ করিয়াছিলেন ) ইলা (দিকে) মরিয়ামা (মরিয়মের) ওয়া (এবং) রুহহুন (রুহ) মিনহু(তাঁহার {আল্লাহর} হইতে)।=নিশ্চয়ই মরিয়মপুত্র ইসা মসিহ আল্লাহর রসুল এবং তাঁহার কালাম। তিনি (আল্লাহ) যাহা নিক্ষেপ করিয়াছিলেন মরিয়মের দিকে এবং তাঁহার (আল্লাহ) হইতে রুহ।
এই আয়াতে ইসা মসিহ (আ.) কে মরিয়মের পুত্র এবং আল্লাহর একজন রসুল এবং আল্লাহরই কালাম যাহা আল্লাহ মরিয়মের দিকে নিক্ষেপ করেছিলেন এবং আল্লাহ হতে একটি রুহ বলা হয়েছে। এই আয়াতটুকুর সামান্য ব্যাখ্যা লিখতে গিয়ে প্রথমেই যে-প্রশ্নটি সবার মাঝে জেগে উঠবে উহা হলো, মরিয়মের পুত্র কেন বলা হলো? সবার পরিচয় বহন করে পিতার মাধ্যমে, কিন্ত ইসা মসিহের বেলায় মরিয়ম তথা মায়ের পরিচয়ে তথা নারীর পরিচয়ে কেন পরিচিত করা হলো? ইহার প্রধান কারণটি হলো, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মটিকে লঙ্ঘন করে পিতা ছাড়া ইসা মসিহ-র জন্মগ্রহণ করাটা সম্পূর্ণ একটি ব্যতিক্রমধর্মী বিষয় তথা ঘটনা। যদিও ইহা একটি বিষয় তথা ঘটনা, কিন্তু এই বিষয়টি তথা এই ঘটনাটি একটি অভাবনীয় বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত স্বরূপ মানবজাতির সামনে আল্লাহ দাঁড় করিয়ে দিলেন। অন্যত্র আল্লাহ ইসা মসিহকে একটি বিশেষ নিদর্শন বলেও অভিহিত করেছেন। এই ইসা মসিহ পিতা ছাড়া দুনিয়াতে আগমন করেছেন বলে কোরান-এর ভাষাটি হলো: মরিয়মের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছে। পিতা-মাতার মিলনে যে সন্তান প্রকৃতির নিয়মে জন্মগ্রহণ করে উহা একান্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। স্বাভাবিক এবং নিক্ষেপ করার মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ইহা সবার চোখে ধরা পড়ে না। তাই পিতা ছাড়া ইসা মসিহকে মরিয়মের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছে বলা হলো। তারপর বলা হলো, জন্মলগ্ন হতেই ইসা মসিহ আল্লাহর একজন রসুল। কোরান-এর অন্যত্র ইসা মসিহকে নবি বলা হয়েছে, কিন্তু এখানে বলা হয়েছে আল্লাহর রসুল। তিনি রেসালত এবং নবুয়ত –উভয় গুণে গুণাম্বিত । তারপর আল্লাহ্ ইসাকে আরেক ধাপ উপরে উঠিয়ে বলছেন, ‘কালিমাতুহু’ তথা আল্লাহর কালাম। এবং তারপর আবার আল্লাহ বললেন যে, ইসা মসিহ ‘ওয়া রুহুন মিনহু’ তথা‘এবং তাহার (আল্লাহ) হইতে রুহ।’ প্রথমে রসুল, তারপরে আল্লাহর কালাম, তারপর আল্লাহ হতে একটি রুহ বলা হয়েছে। এখানে কিন্তু নফস বলা হয়নি, কারণ নফস হলো প্রাণ । এই নফস তথা প্রাণের কথাটি না বলে আল্লাহর আদেশ তথা রুহ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এই রহস্যময় রুহ-শব্দটির সহস্য বুঝতে না পেরে অনেকেই আবোল-তাবোল, উল্টা-পাল্টা লিখেছেন। অবশ্য না বুঝেই এ-রকমটি করা হয়। অনেকে তো পন্ডিতি করে রুহকে পাঁচ ভাগে ভাগ করে ফেলেন , যেমন: ১/ রুহে ইনসানি, ২. রুহে হায়ানি, ৩. রুহে নাবাতি, ৪. রুহে জামাদি. ৫. রুহে বাতেনি। কী চমৎকার পাঁচ ভাগে ভাগ করার বাহারি লীলাখেলা! তবে একটি কথা না বলেই পারলাম না, আর সেটা হলো রুহে হায়ানি তথা জীব জন্তুর রুহ। সমগ্র কোরান-এর একটি আয়াতেও জীবজন্তকে রুহ দান করার কথাটি পেলাম না, অথচ চোখ বুজে ইনারা জানোয়ারের মধ্যেও আল্লাহর রুহের আবিষ্কারটি করে ফেলেছেন। এরাই আবার মারেফতের রহস্যগুলো গলা উঁচু করে পণ্ডিতি ভাষায় লিখে চলছেন। । এইসব অখাদ্য-মার্কা মারেফতেরে গোপন বিষয়গুলো পড়ে-পড়ে সরল সহজ অর্ধশিক্ষিত এবং শিক্ষিতরা ভুল পথে পরিচালিত হয়। ইহাও কি তকদিরের লীলাখেলা বলে চালিয়ে দেব?
কোরান –এর উনিশ নম্বর সুরা মরিয়মের – সতের নম্বর আয়াতে বলা হয়েছেঃ>> ফাততাখাজাত (সুতরাং তিনি[মরিয়ম] গ্রহণ করিলে) মিন দুনিহিম(তাহাদের হইতে) হিজাবান(পর্দা) ফা আরসালনা (সুতরাং আমরা [আল্লাহ] পাঠাইলাম) ইলাইহা (তাহার দিকে) রুহানা (আমাদের [আল্লাহর ] রুহ) ফাতামাসসালা (সুতরাং উহা প্রকাশিত হইল) লাহা (তাহার জন্য ) বাশারান (বাশার [মনুষ] সাউইইয়ান(পরিপূর্ণ)। >>
সুতরাং তিনি (মরিয়ম) পর্দা গ্রহণ করিলেন তাহাদের হইতে, সুতরাং আমরা (আল্লাহ) পাঠাইলাম তাহার দিকে আমাদের (আল্লাহ) রুহ সুতরাং উহা প্রকাশিত হইল তাহার জন্য পরিপূর্ণ বাশার (মানুষ)।
এই আয়াতে প্রথমেই বলা হলো, তিনি তথা মরিয়ম পর্দা গ্রহণ করলেন । অথাৎ, তিনি একাকী ধ্যানসাধনায় মগ্ন রইলেন-যে ধ্যানসাধনাটিকে অনেকে মোরাকাবা-মোশাহেদা বলে থাকেন, আবার অনেকে এতেকাফও বলে থাকেন। যার যে –রকম দৃষ্টিভঙ্গি সেতো সেই রকমই বলবে। তারপরেই বলা হলো, আল্লাহ ‘আমরা ‘রূপটি ধারণ করে তথা বহুবচনের রূপ ধারণ করে মরিয়মের দিকে ‘আমাদের ‘ তথা বহুবচন ব্যবহার করে একবচনে রুহকে পাঠানো হলো এবং সেই রুহ বাশার –এর রূপ ধারণ করে তথা পরিপূর্ণ মানবের আকার ধারণ করে তার কাছে দেখা দিলেন। এই বিষয়টি এতই রহস্যপূর্ণ যে ইহার বিস্তারিত ব্যাখ্যাটি লিখতে গেলে সাধারণ মানুষ থতমত খেয়ে যাবে। তাই এই রহস্যটি জানা থাকা সত্ত্বেও লিখলাম না । অনেকে তো এখানেও এই রুহানা শব্দটির অর্থ করে থাকেন জিবরাইল নামক ফেরেশতা । অথচ জিবরাইল ফেরেশতাকে আল্লাহ রুহও দেন নাই এবং নফসও দেন নাই। এই রুহ-এবং নফস-বর্জিত জিবরাইল ফেরেশেতাটিকে রুহানার প্রতিশব্দরূপে ব্যবহার করে বাক্য গঠন করে তৃপ্তি লাভ করেন, তবুও এরা নিজেদের ভুলটি স্বীকার করে নেবেন না অথবা “এই ‘রুহানা’ কথাটি বলতে কী বোঝায় তাহা আমাদের জানা নাই” বলতে বড়ই লজ্জা পায় । আল্লাহর রুহ যে বাশার –রূপটি তথা পরিপূর্ণ মানব-আকৃতি তথা পুরুষের আকৃতি ধারণ করেন ইহা আমরা জানতে পারি, কিন্ত রুহ যে পরিপূর্ণ নারী-রূপও ধারণ করতে পারে ইহা আমাদের জানা নাই। তবে নারীকেও যে রুহ ফুৎকার করে দেওয়া হয় ইহার জ্বলন্ত প্রমাণটি এখানেই পাওয়া যায়। রুহ যে পরিপূর্ণ মানব-আকৃতিও ধারণ করতে পারে ইহাতে ইহাই প্রমাণিত হলো যে আল্লাহ রুহ-রূপ ধারণ করে সাধককে দর্শন দান করেন। তাই আল্লাহর ওলি , গাউস, কতুব, আবদাল, এবং আরিফেরা বলে থাকেন যে যিনি অথবা যারা আল্লাহর দর্শন লাভ করেছেন তারা আদম-সুরতেই দর্শন করেছেন। এই আদম-সুরতটিকে কোথাও ইনসানরূপ ধারণ করার পরিবরাতের বাশাররূপ ধারণের কথাটি পাই। তা ছাড়া যে-জিবরাইল ফেরেশতা আল্লাহর সেফাতি নুরের তৈরি এবং জিবরাইলের রুহও নাই এবং নফসও নাই, সে জিবরাইল ফেরেশতা মানবের আকার ধারণ করে মহানবি এবং মহানবির সাহাবাদের সঙ্গে দর্শন দান করেছেন। জিবরাইল মানবের আকার ধারণ কররেই যে মাটির তৈরি বলতে হবে ইহাও যেমন মোটেও সত্য নহে তেমনি মহানবি যদিও আমাদেরই মতো, কিন্তু মোটেও মাটির তৈরি তো ননই, এমনকি আল্লাহর সেফাতি নুরেরও নহেন, বরং আল্লাহর জাত নুরে নূরময় হলেন মহানবি। যদি তাহাই না হয় তাহলে মহানবির পক্ষে লা –মোকামে প্রবেশ করা একটি অসম্ভব বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। জিবরাইল ফেরেশেতা সিদরাতুল মুনতাহায় এসে থেমে গেলেন এবং বললেন, যে এরপরে যদি একটি ধাপ অগ্রসর হতে চাই তাহলে সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে-পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাব। কারণ জিবরাইল সেফাতি নুরের তৈরি আর মহানবি আল্লাহর জাত নুরে নুরময়। তাই আল্লাহর ওলীরা বলে থাকেন যে, 'দোনোহিকা শেকেল এক হ্যায়, কিসকো খোদা কাহু' - তথা আল্লাহ ও মহানবির একই চেহারা , তাহলে কাকে খোদা বলব? আল্লাহর এই লা –মোকামে যাবার অনুমতি ও রহমতটি মহানবির উম্মতদেরকে দান করা হয়েছে । তাই মাহবুবে এলাহি নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার প্রধান খলিফা হজরত আমির খসরু লিখিত ফার্সি ভাষার কালামে বলা হয়েছে: খোদা খোদ মিরে মজলিশ বুদ আন্দার লা মোকা খসরু- তথা, খসরুও লা মোকামে গিয়েছিলেন – এখন প্রশ্ন হলো, যদি আমির খসরু লা-মোকামে যাবার ক্ষমতাটি অর্জন করতে পারেন তাহলে তাঁরই পীর মাহবুবে এলাহি নিজামউদ্দিন আউলিয়া এবং নিজামউদ্দিন আউলিয়ার পীর বাবা শেখ ফরিদ এবং শেখ ফরিদের পীর বাবা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকি এবং কুতুবউদ্দীন বখতিয়ার কাকির পীর খাজা গরিব নেওয়াজ এবং খাজা গরিব নেওয়াজের পীর খাজা উসমান হারুনি এবং খাজা উসমান হারুনির পীর হাজি শরিফ জিনদানা-এ রকমভাবে চিশতিয়া সিলসিলার সব ওলিরাই যে লা-মোকামে অবস্থান করেছেন উহা হজরত আমির খসরুর লিখিত কালাম হতে পরিষ্কার বোঝা যায়। অবশ্য আমার এই কথাগুলোয় শ্রদ্ধেয় ওহাবি ফেরকার অনুসারীরা কাটা ঘায়ে লবণের ছিটা দেবার মতো ছিলবিলেয়ে উঠবে এবং যা-তা মন্তব্য করতে সামান্য ইতস্ততও করবে না।
সগীরে আজম, জামালে কিবরিয়া, গোলামে হারিমেনাজ,ফজলে রাব্বানি , আমবারে ওয়ারসী, হেরমায়ে আবদাল, জানজিরে বেখুদি, লাসানিয়ে সিনানাথ, নূরে তাবাসসুম, মেহেতাব বিন্দাবাসি, দিলবারি পায়েন্দবাসি, আশেকা শারমিন্দাবাসি, গোলামে রিন্দী, পীরে এলমে লাহুতি,আম্বারে যিকরে মিম, জজবায়ে আশেকানা, ফিকরে জামালাস, ফিকরে উইসালাস, ফায়েজ মাহাবুবে এলাহী, খায়ের মাকদম,শারমি ফারোশাম, আমাদ তামামি, গোলামে ফা-কুম-কুম ইয়া হাবিবী, বাহুসনে এহে্তেমামত, তোফায়েলে দিগারা ইয়াবাত, মুফ্তা খারাজুয়ে, বেমেছালে লাজশরম, বারকাতকা এজাহার, জামালে এলাহিয়া, হালে মোরাকাবা, চেরাগে রওশন,জালুয়ায়ে নুরে এলাহী, বেনিয়াজ, গুলে বে নাজির, গোলামে বাশানে বাশিরুন, হুব্বেতো মাস্তাম,গোলামে মাকসুদে হাকিকত, পারাস্তারে মহাব্বত, উলুলে মহাব্বত, মোহনী মুরাত, সোহনী সুরাত, বান্দা নেওয়াজ, জালুয়ায়ে দিল, আশিকে জামালে ইয়ার, গোলামে হাসান হোসাইন, ফসলে গুল, গাওহারে মানি, হাকিকাতে মুনতাজার , ছানাম আশেকা, হুব্বে মাকামে কিবরিয়া, মেরা ইমান আলি হ্যাঁয়, ফায়েজে মাহাবুবে জালাল নূরি আল সুরেশ্বরী, হুসনে সানাম, নুরকা পূতলা, সুরাতে বালিহারি, বান্দায়ে তাজদারে হারাম, চেরাগে মহাব্বত, জুলমাতমে নূর, পারাস্তারে সামাদ, গোলামে জুলজালাল,বান্দায়ে ইকরাম, বেখুদি এ সেতারা ও হেলাল, চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইকবাল ইবনে হেলাল গোলামে শাহ জালাল নূরী আল সুরেশ্বরী।
(উনার রচিত ২৫ টি বই এবং ৬৩ ঘন্টার মেমোরিকার্ড টি শুনলেই আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন)।
পাগল হয়ে যাব, এত উচ্চমানের লিখা মাথায় আঁটে না। নফস ও রূহের পার্থক্য বিষয়ের উপর লিখতে গিয়ে বাবা জাহাঙ্গীর তাঁর কোরানুল মাজিদের ৬৩ নং পৃষ্ঠায় নিম্নোক্ত লিখাটির অবতারণা করেছেন। "Religious view of World Theology" ক্লাসে আমার ম্যাডামকে ( কোন এক কারণে তাঁর নামটি উল্লেখ করা হল না) এ লেখাটা দেখিয়েছিলাম আর বলেছিলাম আমাকে বুঝিয়ে দিন, প্রত্যুত্তরে কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে বললেন, "সারাজীবন ভাত খাওয়ার জন্য বিদ্যার্জন করে গেছি, কিন্তু, এ লেখাটা সক্রেটিস শ্রেণির লোকের লেখা যিনি নিজেকে চিনেছেন, এটা রেনে দেকার্তের মতো দার্শনিকদের দর্শন থেকে আরো উচ্চতম দর্শনের লেখা, এটা ডেভিড হিউম আর কান্টদের থেকে অারো অনেক উপরের লেখা, এখানে সমস্ত সন্দেহের অবসান ঘটেছে, এখানে মিলনের প্রশ্নে পুরোটাই Eternal Entity, এখানে দেহধারী মানুষটা নি:সন্দেহে পরমসত্ত্বার প্রতিমূর্তি, যদি তোমার সাথে তাঁর সাক্ষাত হয় তো আমার সালাম পৌঁছে দিও।
আসলে উলঙ্গ সত্য কথাটি বলতে গেলে বলতে হয় যে, রুহুল অামিন হলেন মহানবির অাপন অাধ্যাত্মিক প্রতিচ্ছবি। ইহা জগৎময় ব্যক্তও হতে পারে, আবার যেকোন মূর্তি ধারণও করতে পারে। ইহা স্থান-কালের (টাইম এন্ড স্পেস) সব রকম মানুষের আদি ও আসল রূপ। এইরূপের মাঝে প্রত্যাবর্তন করাই মানবজীবনের পরম এবং চরম স্বার্থকতা। অাল্লাহর নিকট মানুষের প্রত্যাবর্তন করার তথা ফিরে আসার অর্থটিও ইহাই।
ভক্ত Aaga Bagalane (আগা বাগালেন) র কমেন্টটি তুলে ধরলাম,